খালেদা-গয়েশ্বররের বিরুদ্ধে মানহানি মামলা: প্রতিবেদনের অপেক্ষায়

মুক্তিযুদ্ধে শহীদের সংখ্যা ও বুদ্ধিজীবীদের নিয়ে ‘আপত্তিকর’ বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া এবং দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মানহানি মামলায় আজ অবধি তদন্ত শেষ হয়নি।

সোমবার ওই মামলায় তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের দিন ধার্য ছিল। আদালতের নির্দেশ মতে তা শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার দাখিলের কথা থাকলেও কোনো প্রতিবেদন আসেনি। ফলে ঢাকা মহানগর হাকিম আবু সাঈদ ফের আগামী ১১ জুন পরবর্তী দিন ধার্য করেছেন। এখন পর্যন্ত প্রতিবেদনের জন্য ২৮ বার দিন ধার্য হয়েছে বলে আদালত সূত্রে জানা গেছে।

মানহানির অভিযোগে বাংলাদেশ জননেত্রী পরিষদের সভাপতি এ বি সিদ্দিকী ২০১৬ সালের ৫ জানুয়ারি আদালতে নালিশি মামলাটি দায়ের করেন। ওইদিন বাদীর জবানবন্দি নিয়ে সংশ্লিষ্ট বিচারক অভিযোগ তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছিলেন।

মামলায় বাদী অভিযোগ করেন, ২০১৫ সালের ২১ ডিসেম্বর রাজধানীর জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দল আয়োজিত আলোচনাসভায় শাহবাগের ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে খালেদা জিয়া তাঁর বক্তব্যে বলেন, ‘তিনি (বঙ্গবন্ধু) তো বাংলাদেশের স্বাধীনতা চাননি। তিনি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হতে চেয়েছিলেন। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। আজকে বলা হয়, এত শহীদ হয়েছে, এটা নিয়েও অনেক বিতর্ক আছে।’

একই বছর ২৫ ডিসেম্বর জাতীয় প্রেস ক্লাবে ‘স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ও রিজভী আহমেদ’ শীর্ষক আলোচনাসভায় শহীদ  বুদ্ধিজীবীদের প্রসঙ্গে গয়েশ্বর বলেন, ‘একাত্তরের ১৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত যারা পাকিস্তানের বেতন-ভাতা খেয়েছেন, তারা নির্বোধের মতো মারা গেলেন। আর আমাদের মতো নির্বোধরা বুদ্ধিজীবী হিসেবে তাদের ফুল দেই। না গেলেও পাপ হয়। তারা যদি বুদ্ধিমান হতেন তাহলে ১৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত নিজ ঘরে থাকলেন কেন?’

তাঁদের দেওয়া বক্তব্য পরের দিন গণমাধ্যমে প্রচার ও প্রকাশিত হয়। আসামিদের ওই বক্তব্য স্বাধীনতা যুদ্ধে বঙ্গবন্ধুর অবদান ও ভূমিকাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। এ ছাড়া এ ধরনের মন্তব্যে বাদীর ১০০ কোটি টাকার মানহানি হয়েছে বলে বাদী তার অভিযোগে উল্লেখ করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

Application to the Ministry of Information for registration.