চকরিয়া চলতি মৌসুমে ১৮লাখ মেট্রিক টন লবণ উৎপাদনের লক্ষ্যামাত্রা

এম রায়হান চৌধুরী,চকরিয়া(কক্সবাজার) প্রতিনিধিঃ
বিসিক গতবছর ২০১৪ সালে দেশে লবণ উৎপাদন হয়েছে ১৭লাখ ৫৩হাজার মেট্রিক টন। ওইবছর চাহিদা দেখানো হয় ১৪লাখ ৫৮ হাজার মেট্রিক টন। আর লক্ষ্যামাত্রা নির্ধারন করা হয় ১৬লাখ মেট্রিক টন। প্রাকৃতিক পরিবেশ অনুকুলে থাকায় সেইবছর লক্ষ্যমাত্রা ডিঙ্গিয়ে দেশে অতিরিক্ত লবণ উৎপাদন হয় এক লাখ ৫৩ হাজার মেট্রিক টন। যা চাহিদার চেয়ে প্রায় তিন লাখ মেট্রিক টন বেশি। বিসিকের হিসেবে গেল বছর দেশে উৎপাদিত তিন লাখ মেট্রিক টন লবণ উদ্বৃত্ত রয়েছে এমন কথা বলা হয়েছে। এছাড়াও রয়েছে আমদানির এক মেট্রিক টন লবন।
বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুঠির শিল্প কর্পোরেশন (বিসিক) কক্সবাজার আঞ্চলিক বিভাগের তদারক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, চলতিবছর ২০১৭ সালে দেশে লবণের চাহিদা রয়েছে ১৫লাখ ৮০হাজার মেট্রিক টন। আর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১৮লাখ মেট্রিক টন। ২০১৪ সালের নভেম্বর মাস থেকে কক্সবাজার জেলার চকরিয়া, পেকুয়া, মহেশখালী, কুতুবদিয়া, টেকনাফ, কক্সবাজার সদর উপজেলা ও চট্টগ্রামের বাঁশখালী (আংশিক) উপজেলার ১৩টি কেন্দ্রের অধীনে প্রায় ৬০হাজার একর জমিতে লবণ চাষ শুরু করেন চাষীরা। ইতোমধ্যে নভেম্বর থেকে গেল ২৪ এপিল পর্যন্ত দেশে লবণ উৎপাদন হয়েছে প্রায় ১২লাখ মেট্রিক টন। মৌসুম শেষ হতে আরো দুই মাস সময় রয়েছে। তিনি বলেন, প্রাকৃতিক পরিবেশ অনুকুলে থাকলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে চলতিবছর উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা অতিক্রম করে অতিরিক্ত লবন উৎপাদন হবে।
বিসিক সুত্রে জানা গেছে, চলতিবছর কক্সবাজার জেলার চকরিয়া, পেকুয়া, মহেশখালী, কুতুবদিয়া, টেকনাফ, কক্সবাজার সদর উপজেলা ও চট্টগ্রামের বাঁশখালী (আংশিক) উপজেলার ১৩টি কেন্দ্রের অধীনে ৬০হাজার একর জমিতে লবণ চাষ করা হয়। তারমধ্যে চকরিয়া উপজেলার দরবেশকাটা কেন্দ্রে (পেকুয়াসহ) ১২হাজার ৩৭৫হাজার একর, ডুলাহাজারা কেন্দ্রে ৪৭৫একর, খুটাখালী ফুলছড়ি কেন্দ্রে ৪হাজার৩৭৬একর, কুতুবদিয়া উপজেলার লেমশীখালী কেন্দ্রে ৬হাজার ৪৪৪ একর, মহেশখালী উপজেলার উত্তর নরবিলা কেন্দ্রে ৭হাজার ৪শত একর, গোরকঘাটা কেন্দ্রে ৮হাজার ৫৭৭একর, মাতারবাড়ি কেন্দ্রে ৫হাজার ৮০৬ একর, কক্সবাজার সদর উপজেলার গোমাতলী কেন্দ্রে ৪হাজার এক একর, চৌফলদন্ডি কেন্দ্রে ৩হাজার ২শত একর, বাঁশখালী উপজেলার সরল কেন্দ্রে ১হাজার ৪২১ একর, পুর্ব বড়ঘোনা কেন্দ্রে ৬হাজার ৯০একর, টেকনাফে ৩হাজার ৯শত একর ও বিসিকের প্রদর্শনী কেন্দ্রে ৮৬একর জমিতে পলিথিন ও সনাতন পদ্ধতিতে লবণ চাষ করা হয়।
চকরিয়া উপজেলার বদরখালীর লবণ চাষী মোহাম্মদ এখলাছ, নুরুল কবির, পশ্চিমবড় ভেওলা ইউনিয়নের দরবেশকাটা এলাকার জাহিদ হোসেন, মোহাম্মদ হোসেন, ইলিশিয়ার আবদুর রহমান, আজিজুল হক বলেন, চলতিবছর উৎপাদনের পরিমাণ ১৮ লাখ মেট্রিক টন নির্ধারণ করা হলেও প্রাকৃতিক বৈরী পরিবেশের কারনে গেল ছয়মাসে সন্তোষজনক লবণ উৎপাদন করতে পারেনি চাষীরা। তবে মৌসুমের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে লক্ষ্যমাত্রা অতিক্রম করে প্রতিবছরের মতো এবারও লবণের বাম্পার উৎপাদনে সম্ভাবনা রয়েছে।
চকরিয়া উপজেলার বৃহত্তম লবণ ব্যবসা প্রতিষ্টান দরবেশকাটা এন্টারপ্রাইজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও বাংলাদেশ লবণ চাষী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো.শহিদুল ইসলাম বলেন, জেলার চকরিয়া, পেকুয়া, মহেশখালী, কুতুবদিয়া, টেকনাফ, কক্সবাজার সদর উপজেলা ও চট্টগ্রামের বাঁশখালী (আংশিক) উপজেলার ১৩টি কেন্দ্রের অধীনে অন্তত লক্ষাধিক চাষী চলতিবছর লবণ উৎপাদনে নেমেছে। গত এপ্রিল মাসে কয়েকদফা বৃষ্টিপাতের কারনে লবণ উৎপাদনে কিছুটা ছন্দপতন ঘটেছে। তবে তা বিসিকের লক্ষ্যমাত্রা অতিক্রমে তেমন বিরুপ প্রভাব ফেলবে না। তিনি বলেন, এখনো প্রতিটি কেন্দ্রের অধীনে হাজার হাজার চাষী লবণ উৎপাদনে নিয়োজিত রয়েছে। কাজেই মৌসুম শেষ হওয়ার আগে চাষীরা লবণ উৎপাদনের মাধ্যমে বিসিকের টার্গেট পুরন করতে সক্ষম হবে।
বাংলাদেশ লবণ চাষী সমিতির সভাপতি ও চকরিয়া উপজেলা আইনজীবি সমিতির সভাপতি এডভোকেট শহীদুল্লাহ চৌধুরী বলেন, গতবছর দেশের চাহিদা মিটিয়ে উৎপাদিত প্রায় তিন লাখ মেট্রিক টন লবণ উদ্বৃত্ত রয়েছে। চলতিবছর গেল ছয়মাসে ১২লাখ মেট্রিক টন লবণ উৎপাদন হয়েছে। সেই হিসেবে বর্তমানে ১৫লাখ মেট্রিক টন লবণ মজুদ রয়েছে। যা চলতিবছরের চাহিদার কাছাকাছি। মাঠ পর্যায়ে পরির্দশন করে চাষীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, প্রাকৃতিক পরিবেশ অনুকুলে থাকলে চলতি মৌসুম শেষ হওয়ার নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এবছরের লক্ষ্যমাত্রা অতিক্রম হবে। তিনি বলেন, বিসিক কর্মকর্তাদের চাপে ফেলে চলতি মৌসুমে লবণ কম উৎপাদনের তথ্য উপস্থাপন করে এক শ্রেনীর প্রভাবশালী ব্যবসায়ীরা সরকারের উচ্চ মহলে ভুল তথ্য দিয়ে সংকটের অজুহাতে বিদেশ থেকে লবণ আমদানির পায়ঁতারা চালাচ্ছেন। সরকারের শিল্প ও বাণিজ্য মন্ত্রানালয় এতে অনুকম্পা দেখালে দেশের ক্ষুদ্র লবণ চাষীরা আর্থিকভাবে দেউলিয়া হবে। এব্যাপারে লবণ চাষ ও শিল্পের সাথে সংশ্লিষ্ট সকলকে সজাগ থাকতে হবে। নইলে দেশের লবণ শিল্প একদিন বিলুপ্ত ঘটবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

Application to the Ministry of Information for registration.