‘কোটা সংস্কার আন্দোলনের নেতৃত্বে থাকা অধিকাংশই ছাত্রশিবিরের’

প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম দাবি করেছেন, কোটা সংস্কার আন্দোলনের নেতৃত্বে রয়েছে ছাত্রশিবির। আজ রোববার বিবিসি বাংলাকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতেই বলছি, যারা এই আন্দোলনে নেতৃত্ব দিচ্ছে তাদের অধিকাংশই ছাত্রশিবিরের।’

নিচে বিবিসি বাংলার প্রতিবেদনটি হুবহু তুলে ধরা হল–

“বাংলাদেশে সরকারি চাকরিতে কোটা বাতিল নিয়ে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা বলছে সিদ্ধান্ত ঘোষণার একমাস পরেও প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা প্রজ্ঞাপন আকারে জারি না হওয়ার বিষয়টি হতাশাজনক।

বিষয়টি নিয়ে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের অনেকেই সন্দেহ প্রকাশ করেছেন এবং রোববার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভসহ দেশের কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জনের আহবান জানিয়েছেন।

সিদ্ধান্ত এতোদিনেও বাস্তবায়িত না হওয়ায় সেটি সরকারের কোন কৌশল কিনা তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক শামীমা সুলতানা।

অধ্যাপক সুলতানা বলেন, “সরকারে যারা থাকেন তারাই তো কৌশলী হন। হয়ত বলে ফেলেছেন, এখন হয়তো উনি (প্রধানমন্ত্রী) ভাবছেন যদি এটা বাস্তবায়ন হয়, তাহলে দুইটা পক্ষ হয়েতো মুখোমুখি হয়ে যাবে। সেটা আমার বিশ্লেষণ।”

”ভাবছে একদিকে হয়তো মুক্তিযোদ্ধাদের সন্তান বা আত্নীয়-স্বজন যারা আছে তারা দাঁড়িয়ে যাবে, অন্যদিকে সাধারণ ছাত্র-ছাত্রী যারা আছে তারা মুখোমুখি হয়ে যাবে। হয়ত এটা তাদের মাথায় আছে।”

তিনি বলেন সামনে নির্বাচন আছে, ”তাই হয়ত এই ব্যাপারটা তারা ঘাঁটাতে চাইছেন না।”

নির্বাচনের বছরে কোটার বিষয়টি নিয়ে সরকার একটা কৌশলী ভূমিকা নিতে চাইছে বলে তিনি মনে করেন।

তবে তিনি বলেন যেহেতু সংসদে দাঁড়িয়ে প্রধানমন্ত্রী এই সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেছেন – ”যে সংসদ থেকে দেশের জন্য নানা সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হয়, তাই আমার মনে হয় এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করা উচিত।

শিক্ষার্থীরা বলছেন প্রজ্ঞাপন জারির জন্য একমাস সময় নেয়া হয়েছিল যা ৭ই মে পার হয়ে গেছে।

তাদের এই দাবি নাকচ করে দিয়ে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম বিবিসি বাংলাকে বলেছেন, ”প্রধানমন্ত্রী যখন সংসদে এই সিদ্ধান্তের কথা বলেছিলেন তখন তিনি ৭ই মের কথা বলেছিলেন বলে আমার মনে পড়ে না, কারণ আমি সেদিন সংসদে ছিলাম, তাঁর বক্তব্য শুনেছি।”

মি: ইমাম বলেন, আন্দোলনরতরা সবাই যদি শিক্ষার্থী হয়, তাহলে তাদের মধ্যে একটা শিষ্টাচার থাকা উচিত, ”আমি মনে করি সরকারকে ছাত্রদের পক্ষ থেকে আলটিমেটাম দেওয়া শিষ্টাচার বহির্ভূত।”

তিনি মনে করেন নির্বাচনের আগে এর পেছনে ”অনেক রাজনৈতিক অঙ্ক কষার বিষয় আছে এবং কষাও হচ্ছে।”

মি: ইমাম বলেন, ”সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতেই বলছি যারা এই আন্দোলনে নেতৃত্ব যারা দিচ্ছে তাদের অধিকাংশই ছাত্র শিবিরের।”

গতমাসে কোটা সংস্কার নিয়ে যখন দেশজুড়ে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন তুঙ্গে, তখন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সংসদে বলেছিলেন কোন কোটাই থাকবে না।

এরপর কিছুদিন আগে এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী আবার বলেছেন, কোটা বাতিল হয়ে গেছে এবং এনিয়ে হা-হুতাশ করে লাভ নেই।

কিন্তু কয়েকদিন আগে মন্ত্রীপরিষদ সচিব জানিয়েছেন, কোটা নিয়ে কোন অগ্রগতি নেই এবং এ বিষয়ে কোন দিকনির্দেশনাও নেই।

এইচ টি ইমাম বলেছেন বিষয়টি দেখার জন্য কমিটি করে দেয়া হয়েছে এবং বিষয়টিতে সময় লাগবে।

কিন্তু এর দুদিন পরেই জনপ্রশাসন মন্ত্রনালয়ের সচিব সাংবাদিকদের বলেছেন কোটা বাতিল বা সংস্কার করতে একটি কমিটি গঠনের রূপরেখা প্রধানমন্ত্রীর কাছে পৌঁছেছে। দ্রুত একটি সিদ্ধান্ত হবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।

আন্দোলনরত একজন শিক্ষার্থী মিস মৌসুমি বিবিসি বাংলাকে বলেছেন, “আপনি জানেন সামনে রোজা, কিন্তু রোজার মধ্যেও আমরা আন্দোলন চালিয়ে যাব। প্রজ্ঞাপন না হওযা পর্যন্ত অনির্দিষ্টকাল আন্দোলন চলবে।”

তবে তিনি বলেন শিক্ষার্থীরা ”অহিংস আন্দোলন করবে এবং তা হবে মূলত অবস্থান কর্মসূচি”। পরবর্তীতে তারা সড়ক অবরোধ, ধর্মঘট বা ক্লাস বন্ধ করার মত কর্মসূচি দেবেন কিনা সে বিষয়েও শিগগিরিই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানান মিস মৌসুমি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

Application to the Ministry of Information for registration.