চকরিয়ায় সংবাদ সম্মেলনে স্ত্রীর অভিযোগ স্বামীকে ডেকে নিয়ে পরিকল্পিতভাবে অস্ত্রদিয়ে ফাঁসিয়েছে পুলিশ

চকরিয়া অফিস:
কক্সবাজারের চকরিয়ার উপজেলার বরইতলী ও সীমান্ত উপজেলা লামার ফাইতংস্থ মহেশখালী পাড়া এলাকায় সম্প্রতি দু’সন্ত্রাসী বাহিনীর মধ্যে জায়গা জবর-দখলকে কেন্দ্র করে গোলাগুলি ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় পুলিশ ঘটনাস্থলে সন্ত্রাসীদের রেখে যাওয়া একটি পরিত্যাক্ত দেশী তৈরি বন্দুক উদ্ধার করে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে আধা কি:মি দূরে চায়ের দোকানে সালিশী বৈঠকে অবস্থান নেয়া স্থানীয় ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ওমর ফারুক ও চকরিয়া উপজেলা বঙ্গবন্ধু সৈনিকলীগের আহবায়ক সাইফুল ইসলামসহ নিরীহ চার ব্যক্তিকে আটক করে পুলিশ। আটক সাইফুলের স্ত্রী নুরুন্নাহার দাবি করেছেন, তার স্বামী নির্দোষ ও একজন সাধারণ ব্যবসায়ী। পরিকল্পিত ও ষড়যন্ত্রমূলক ভাবে তাকে চায়ের দোকান থেকে আটক করে পুলিশের উদ্ধার করা পরিত্যাক্ত অস্ত্রদিয়ে তার স্বামীকে মিথ্যা মামলা দিয়ে ফাঁসানো হয়েছে বলে সংবাদ সম্মেলনে দাবী করেছেন। গতকাল শনিবার(১২মে) বিকেল ৩টায় চকরিয়া প্রেস ক্লাব কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ অভিযোগ করেন।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্যে সাইফুলের স্ত্রী নুরুন্নাহার বলেন, আমার স্বামী সাইফুল ঘটনার দিন সকাল ১০টার দিকে মোটরসাইকেল নিয়ে বাড়ির বাজার করার জন্য বাসা থেকে বের হয়। ঘটনার সময় তাকে পূর্ব পরিকল্পিত ভাবে ফাইতংয়ের মহেশখালী পাড়া নামক এলাকায় স্থানীয় একটি সামাজিক সালিশী বৈঠকের কথা বলে ডেকে নিয়ে যান। তিনি মহেশখালী পাড়ার একটি চায়ের দোকানে ওই ইউনিয়নস্থ আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক (ধর্মান্তরিত) ওমর ফারুক ও সাইফুল সালিশী বৈঠকে অবস্থান নেয়। তাদের অবস্থান নেয়া জায়গা থেকে আধা কিলোমিটার দূরে জায়গা জবর দখল নিয়ে বরইতলী এলাকার মোর্শেদ হত্যাসহ কয়েক ডজন মামলার আসামী শীর্ষ সন্ত্রাসী শাহজাহান বাহিনী প্রধান শাহজাহান ও তার প্রতিপক্ষের মধ্যে গোলাগুলির নাকি ঘটনা ঘটে। ওই গোলাগুলি ও সংঘর্ষের ঘটনায় হারবাং পুলিশের আইসি আবুল কালামের নেতৃত্বে একদল পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছলে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে শাহজাহান বাহিনী লোকজন একটি অস্ত্র ফেলে পালিয়ে যায়। পরে ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ দেশীয় তৈরি ওই অস্ত্রটি উদ্ধার করে। তিনি বলেন, হারবাং পুলিশের আইসি আবুল কালাম ঘটনাস্থল থেকে দূরে চায়ের দোকানে সালিশী বৈঠকে অবস্থান নেয়া স্বামী সাইফুলকে পরিকল্পিত ভাবে আটক করে এবং শীর্ষ সন্ত্রাসী শাহজাহানের গোপন আর্থিক লেনদেনের বিনিময়ে প্রকাশ্যে জনসম্মুখে চোর ডাকাতের মতো উদ্ধার করা বন্দুকের বাট দিয়ে পিঠিয়ে গুরুতর আহত করে থানায় নিয়ে যায়। রাত ১২টার দিকে সাইফুলের সাথে আটক হওয়া ওমর ফারুককে থানা হাজত থেকে মোটা অংকের উৎকোচের বিনিময়ে হারবাং পুলিশ ফাড়ির আইসি (ইন্সপেক্টর) আবুল কালাম ছেড়ে দেয়। কিন্তু নিরপরাধ আমার স্বামীকে মিথ্যা ও ষড়যন্ত্রমূলক অস্ত্রসহ আটক দেখিয়ে মামলা দিয়ে তাকে জেলে পাঠিয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরো বলেন, আমার স্বামীকে হারবাং আইসি কালাম উদ্যেশ্য প্রনোদিত ভাবে আটক করে পরিকল্পিত ভাবে হত্যার চেষ্টায় ব্যাপক মারধর করে অস্ত্রদিয়ে ফাঁসিয়ে দিয়েছে।তিনি এ ঘটনা নিয়ে পুলিশ প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট সরকারের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সুষ্ট তদন্তের মাধ্যমে মূল ঘটনা উদঘাটন করে মিথ্যা ও কথিত সাজানো মামলা থেকে অব্যাহতি কামনা করেন এবং বিজ্ঞ আদালতের নির্দোষ স্বামীর মুক্তি দাবী করেন। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন সাইফুল ইসলামের পিতা শামসুল আলম, মাতা মনোয়ারা বেগম, ২ ভাই সেলিম উদ্দিন ও নাজেম উদ্দিন, ভগ্নিপতি মো: জকরিয়া, ২ ছেলে ও ১ মেয়েসহ পরিবারের সদস্যরা।
অভিযোগ সম্পর্কে হারবাং পুলিশের আইসি আবুল কালামের কাছে বক্তব্য নেয়ার যোগাযোগের চেষ্টা করে তার মুঠোফোন সংযোগ না পাওয়া বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

Application to the Ministry of Information for registration.