সুপ্রীম কোর্টের রায় উপেক্ষা করে পেশীশক্তির কবলে চকরিয়ার জমজম হাসাপাতাল

চকরিয়া অফিস:
চকরিয়া ও পেকুয়া উপজেলার প্রথম বেসরকারি সর্ব বৃহৎ স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান জম জম হাসপাতাল (প্রা:) লিমিটেডে দীর্ঘ দিন ধরে শেয়ার হোল্পারদের মধ্যে কর্তৃত্ব ও নের্তৃত্ব নিয়ে লড়াইয়ের এখনো অবসান হয়নি। বিরোধী বিষয় নিয়ে দেশের সর্বোচ্চ আদালত কর্তৃক প্রদত্ত রায় উপেক্ষা করে বর্তমানে পেশিশক্তির কবলে পড়েছে এ প্রতিষ্ঠানটি। ৬০ শয্যা বিশিষ্ট প্রায় ২০ বছর বয়সী বেসরকারি উক্ত প্রতিষ্ঠানটি ত্রিমুখি গ্রæপিং ও অবৈধভাবে পদ দখলের চেষ্টাসহ চলছে নানা অব্যবস্থাপনা। আদালতের সুপ্রিম কোর্টের রায় উপেক্ষা করে পূর্ব থেকে এমডি পদে দায়িত্বে থাকা গোলাম কবির পেশিশক্তির বলে অদ্যবধি স্বপদে বহাল থাকায় প্রতিষ্ঠানটি ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে বললে চলে। জানাগেছে, ১৯৯৭ সালে চকরিয়া সরকারি হাসপাতাল সড়কের উত্তর পার্শ্বে স্বল্প পরিসরে অস্থায়ীভাবে একটি ভবনে যাত্রা শুরু করে বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান চকরিয়া জম জম হাসপাতাল। ২০০০-১ সালের দিকে মাতামুহুরী ব্রীজের দক্ষিণপার্শ্বে নিজস্ব ভবনে এটি বৃহত্তর পরিসরে চালু হয়। বর্তমানে এটি ৬০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতাল। শুরু থেকে দীর্ঘকাল বেশভালভাবেই চলছিল হাসপাতালটি। মাঝ পথে শুরু হয় হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা কমিটির নের্তৃত্ব ও কর্তৃত্ব নিয়ে কলহ। এ কলহ ক্রমশ তীব্র আকার ধারণ করে। হাসপাতালের মুল অর্থাৎ রেজিষ্টার্ড শেয়ার হোল্ডার ৫০ জন, আর কো-শেয়ার হোল্ডার ২৫ জন।
হাসপাতালের বর্তমান পরিস্থিতি মুখখুলেন শেয়ার হোল্ডার ড. মহিউদ্দিন, ইঞ্জনিয়ার মো: নুর হোসেন, প্রফেসর রিদুয়ানুল হক, এডভোকেট নুরুল ইসলাম, এহছানুল আনোয়ার, শামসুদ্দিন, আবদুল করিম, ডা: এম এ হাসেম, সাংবাদিক ্িজএম আশেক উল্লাহ ও ডা: মো: রোকন উদ্দিন, তারা বলেন, হাসপাতালটি প্রতিষ্ঠান লগ্ন থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালনা কমিটির সভাপতি ছিলেন ডা: মাহবুব কামাল চৌধুরী, ব্যবস্থাপনা পরিচালক ছিলেন আকতার আহমদ। এমডির পদ থেকে আকতার আহমদ অপসারণ হলে ২০১৪ থেকে ১৬ সালের জন্য এমডি নির্বাচিত হন মুল শেয়ার হোল্ডার গোলাম কবির। তারা আরও জানান, বিগত ৬/২/২০১৬ সালে অনুষ্ঠিত ব্যবস্থাপনা কমিটির নির্বাচনে আবারও ডা: মাহবুব কামাল চৌধুরী সভাপতি হন এবং অস্থায়ী এমডি হন গোলাম কবির ও প্রফেসর রিদুয়ান (পরিচালক) অর্থ হন। সভায় সিদ্ধান্ত হয় এ কমিটি একমাসের মধ্যে একজন বেতনভুক্ত এমডি নিয়োগ দেবেন এবং ভেতনভুক্ত এমডি যিনি হবেন তিনি একজন চিকিৎসকও হবেন। এ জন্য অস্থায়ী এমডি গোলাম কবিরকে নিয়মানুযায়ী নিযোগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ সহ যাবতীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয় পর্যদ হতে। কিন্তু অভিযোগ উঠেছে, গোলাম কবির তার এমডি পদ হতে সরে দাড়াতে না রাজ, তাই তিনি তার অবস্থানকে পাকাপুক্ত করতে বেতনভুক্ত এমডি নিয়োগ দিতে কোন বিজ্ঞাপন প্রকাশ করেননি। এ নিয়ে শেয়ার হোল্ডারদের মধ্যে শুরু হয় বিরোধ। পরিচালনা পর্ষদের সিদ্ধান্তকে বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শ করায় পর্ষদের চেয়ারম্যান মাহবুব কামাল চৌধুরী উক্ত পর্ষদ থেকে পদত্যাগের চেষ্টা করেন। কিন্তু সিংহভাগ শিয়ার হোল্ডারদের অনুরোধে তিনি পদত্যাগ করেননি।
এ দিকে এমডি গোলাম কবির অনিয়ম ও স্বেচ্ছাচারিতার আশ্রয় নেওয়ায় পরিচালনা পরির্ষদ তার নিকট হতে আর্থিক লেনদেনের ক্ষমতা খর্ব করে। হাসপাতালের সিসংহভাগ শেয়ার হোল্ডারের দাবী, গোলাম কবিরের নানা অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা ও আর্থিক দুর্নীতিতে প্রতিষ্টানটির অবস্থান এখন ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে। তার নিকট হতে আর্থিক ক্ষমতা খর্ব করার ঘটনাটি হাইকোট পর্যন্ত গড়িয়েছেন তিনি। আর্থিক এখাতিয়ার খর্বের বৈধতা চালেঞ্জ করে তার পক্ষে হাইকোর্ট বিভাগে রিট দাখিল করেন সিরাজুল ইসলাম গং।
হাসপাতালের শেয়ার হোল্ডার সাংবাদিক জিএম আশেক উল্লাহ জানান, মহামান্য হাইকোর্টে দায়েরকৃত ওইরিট তাদের বিপক্ষে (রিটকারীদের বিপক্ষে) রায় দিলে তারা আবার আপীল বিভাগের আশ্রয় নেয়। সেখানেও তারা আইনীভাবে হেরে যায়। কিন্তু সর্বোচ্ছ আদালতের নির্দেশও অমান্য করে গোলাম কবির স্বপদে বহাল থাকতে অপচেষ্টা করে।
ডা: মো: রোকন উদ্দিন জানান, দেশের সর্বোচ্চ আদালতের নিদ্ধান্তকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে পেশিশক্তির দিয়ে অবৈধভাবে হাসপাতালের এমডি পদে বহাল রয়েছেন গোলাম কবির।
গত ৭ জানুয়ারি বৃহস্পতিবার হাসপাতালের সিংহভাগ শেয়ার হোল্ডার বর্তমান অবৈধ এমডি গোলাম কবিরকে হাসপাতাল থেকে বের করে দিলে বিষয়টি চকরিয়া থানা পর্যন্ত গড়ালে থানার অফিসার ইনচার্জ বকতিয়ার উদ্দিন চৌধুরী হাসপাতালের অবৈধ এমডি গোলাম কবিরকে বাদ দিয়ে সৃষ্ট তিনটি গ্রæপ হতে ২জন করে ৬জনকে একমাসের জন্য প্রতিষ্ঠান পরিচালনার দায়িত্ব দেন। তারা ১৭ ফেব্রয়ারি হতে আগামী ১৭ মার্চ পর্যন্ত দায়িত্বপালন করবেন। ওই পরিচালনা পরিষদ এক মাসের মধ্যে একটি নির্বাচন দেবেন, নির্বাচনে বিজয়ীরাই হাসপাতাল পরিচালনা করবেন।
হাসপাতালের সিংহভাগ শেয়ার হোল্ডার ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এ সিদ্ধান্তের পরও জোর করে স্বপদে বহাল রয়েছেন গোলাম কবির। অধিকাংশ শেয়ার হোল্ডারদের মতে, গোলাম কবিরে নানা অনিয়ম, দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতার ফলে হাসপাতালের শেয়ার হোল্ডার ও কো-শেয়াররা তিন গ্রæপে বিভক্ত হয়ে পড়েছে, কেবল মাত্র এমডি পদ দখলে রাখতে তিনি নানা শঠামীর আশ্রয় নেন। অবৈধভাবে এমডি পদে বহাল থাকতে গোলাম কবির বেপরোয়া অর্থ ব্যবহার করছেন প্রতিষ্ঠানের।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

Application to the Ministry of Information for registration.