চকরিয়ায় কর্ণেল আইয়ুব কাইছারের বিক্রিত জমি বুঝে পাচ্ছেনা ক্রেতা মালিক আলমগীর

এখনো দাবি করা হচ্ছে ২৫ লাখ টাকা, হয়রাণির অপচেষ্ঠা

বার্তা পরিবেশক
চকরিয়া পৌরসভার ৪নম্বর ওয়ার্ডের ভরামুহুরীস্থ থানা সেন্টার এলাকার বাসিন্দা মরহুম লে.কর্ণেল আবু মুছা মোহাম্মদ আইয়ুব কাইছার এর অংশের বিক্রিত জমি বুঝে পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ করেছেন ক্রেতা মালিক মোহাম্মদ আলমগীর। উল্টো তাকে মামলায় জড়িয়ে নানাভাবে ভয়ভীতি দেখিয়ে জায়গা থেকে উচ্ছেদে পাঁয়তারা চালানো হচ্ছে। এখনো তাঁর কাছ থেকে দাবি করা হচ্ছে ২৫ লাখ টাকা। অবশ্য চাঁদাদাবির অভিযোগে জমির ক্রেতা আলমগীর বাদি হয়ে গত ৬ মার্চ চকরিয়া উপজেলা সিনিয়র জুড়িসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে নালিশী মামলা করেছেন। আদালতের বিচারক বাদির মামলাটি আমলে নিয়ে এব্যাপারে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য চকরিয়া উপজেলা সহকারি কমিশনারকে (ভুমি) নির্দেশ দিয়েছেন।
ক্রেতা মালিক মোহাম্মদ আলমগীর কিভাবে চকরিয়া পৌরসভার ৪নম্বর ওয়ার্ডের ভরামুহুরীস্থ থানা সেন্টার এলাকার বাসিন্দা মরহুম লে.কর্ণেল আবু মুছা মোহাম্মদ আইয়ুব কাইছার এর অংশের জমি কিনেছেন তার বিস্তারিত তুলে ধরেছেন। আলমগীর জানান, কর্ণেল আইয়ুব কাইছার চকরিয়া পৌরসভার ভরামুহুরী মৌজার পৈত্রিক ৬টি বিএস খতিয়ানের জমির অংশের মালিক। তারমধ্যে বিএস ১৩৩ নং খতিয়ানের ১৩৯ ও ১৪০ বিএস দাগের মোট জমি ১৩ শতক। ১৩৪ নং খতিয়ানের ৪০৪, ৪০৮, ৪১৯, ৪২১ ও ৪২৭ দাগের মোট জমি ৮৩ শতক। ১৩৫ নং খতিয়ানের ২৬, ২৮, ২৫, ৩৬, ২৯ ও ৩৫ দাগের মোট জমি ২১ শতক। ১৫৭ নং খতিয়ানের ৮৩, ৯৪, ৯৫, ১২১, ১২২, ১৩৫, ১৪৬, ৯৩ ও ৭৩ দাগের মোট জমি ৯৩শতক। ১৫৯ নং খতিয়ানের ৩২ ও ৩৩ দাগের মোট জমি ০৪ শতক। ১৬০ নং খতিয়ানের ৮৪, ৮৫, ৮৬, ৮৭, ৯৬, ৯৭ ও ১০৭ দাগে মোট জমি ৪৬শতক।
আলমগীর জানান, ৬টি খতিয়ান থেকে কর্ণেল আইয়ুব কাইছার রের্কট বন্টনমুলে মোট জমি পাবে জিরো দশমিক ২৯৭২ একর বা ২৯ দশমিক ৭২শতক। ২০০৯ সালে পিলখানা ট্রাজেডিতে লে.কর্ণেল আইয়ুব কাইছার শহীদ হলে তাঁর কোন ছেলে সন্তান না থাকায় ৬ দশমিক ২১ শতক জমি পরিবারের অপরাপর ওয়ারিশদের অনুকুলে চলে যায়। ফলে কর্ণেল কাইছার এর অংশে মোট জমির পরিমাণ দাঁড়ায় ২৩ দশমিক ৫১ শতক। পিলখানা ট্রাজেডির পর টাকার বিশেষ প্রয়োজনে কর্ণেল আইয়ুব কাইছারের স্ত্রী ও মেয়েরা তাদের অংশের ওই জমি বিক্রি করতে প্রস্তাব দেন জহুরুল মাওলা ও এনামুল হককে। ওইসময় তাঁরা কর্ণেল কাইছারের স্ত্রী ও মেয়েদেরকে উল্টো তিরস্কার করে বাড়ি থেকে বের করে দেন। উল্টো বলেন ঢাকায় সরকার থেকে যেসব অনুদানের টাকা সম্পদ পেয়েছে তার ভাগ আমাদেরকে দিতে হবে।
ওই ঘটনার পর কর্ণেল কাইছারের স্ত্রী ও মেয়েরা তাদের অংশ জমি বিক্রি করতে চকরিয়া ও অন্য উপজেলার কয়েকজন ক্রেতার সাথে কথা বলেন। দরদাম যাছাই করে তাঁরা সর্বশেষ আমাকে উক্ত ২৩ দশমিক ৫১ শতক জমি বিক্রি করতে সম্মত হন। উপস্থিত স্বাক্ষীগনের সামনে দরদাম নির্ধারণ পুর্বক টাকা গ্রহনের পর কর্ণেল কাইছারের স্ত্রী ও মেয়েরা উক্ত ২৩ দশমিক ৫১ শতক জমি ১৩/০৩/২০১৭ইং তারিখে চকরিয়া উপজেলা সাব রেজিষ্ট্রার কার্যালয়ে (১২৬৯/১৭) দলিল সম্পাদনের মাধ্যমে উক্ত জমি আমাকে বিক্রি করেন। সম্পাদিত দলিলের প্রকৃতি (অপ্রত্যাহারযোগ্য পাওয়ার অব অ্যার্টনী)। জমির পরিমাণ ২৩ দশমিক ৫১ শতক (নাল ও ভিটা)। মোট মুল্য ১ কোটি ৩০ লাখ টাকা সম্পাদিত দলিলে লিপিবদ্ধ করা হয়। বর্তমানে আমি ক্রয়কৃত উক্ত ২৩ দশমিক ৫১ শতক জমির মধ্যে ভোগদখলে আছি ১৬০ নং খতিয়ানের ৮৬ ও ৮৭ দাগের মাত্র ৬ শতক জমিতে। আমার কেনা জমির পরিমাণ ২৩ দশমিক ৫১ শতক। ভোগদখলে মাত্র ৬ শতক। অবশিষ্ঠ আছে আরো ১৭ দশমিক ৫১ শতক জমি। জমি সমুহ ক্রয়ের আগে কর্ণেল কাইছারের স্ত্রী মুসরাত জাহান ও দুই মেয়ে কারিসা মুসরাত এবং রুসদানা কায়সারের নামে বিএস ৯৫ ও ৪১৯ দাগের মোট ১৫ দশমিক ৫১ শতক জমির অনুকুলে চকরিয়া উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভুমি) দপ্তর থেকে জমাভাগ খতিয়ান (নং ১৫০৭) সৃজিত হয়। যা গত ০৪/০১/১৭ ইং তারিখে সৃজিত খতিয়ানে স্বাক্ষর করেন উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভুমি) মাহাবুব-উল করিম।
তপশীলোক্ত জায়গাটি চকরিয়া পৌরসভার কেন্দ্রস্থলে স্থিত হওয়ায় বর্তমানে বাজার মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় কর্ণেল কাইছারের বড়ভাই জহুরুল মাওলা ও এনামুল হক দুর্লোভের বশবর্তী হইয়া অধীনকে তপশীলোক্ত জমি হইতে উচ্ছেদ করার জন্য বিভিন্ন হাঁকাবকা ও ভয়ভীতি প্রর্দশন করিয়া আসার প্রেক্ষাপটে তাাঁরা বিজ্ঞ অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালত, কক্সবাজারে এম,আর ৩১৪/১৭ইং নং মামলা দায়ের করিলে বিজ্ঞ আদালত স্থিতিবস্থা আদেশ প্রচার করেন ও দখলের বিষয়ে মাননীয় সহকারী কমিশনার (ভূমি), চকরিয়ার নিকট হইতে প্রতিবেদন তলব করেন।
পরবর্তীতে চাহিত সরজমিনে তদন্ত প্রতিবেদনে আমার দখলে থাকার বিষয় নিশ্চিত পাওয়ার পরও স্থিতিতাবস্থার আদেশ বহাল রাখেন। গত ০২/০৮/২০১৭ইং তারিখ আদেশ প্রচার করিলে আমি নিরুপায় হইয়া তাহার বিরুদ্ধে বিজ্ঞ জেলা ও দায়রা জজ আদালত, কক্সবাজারে ক্রিমিন্যাল রিভিশন মামলা নং- ২২২/১৭ইং দায়ের করি। যাহাতে বিগত ০২/০৮/২০১৭ইং তারিখে তর্কিত আদেশের কার্যক্রম উক্ত রিভিশন মামলা নিষ্পত্তিকালতক স্থগিত ঘোষণা করেন (কপি সংযুক্ত)।
রিভিশন মামলা স্থগিত ঘোষণা হওয়ায় ক্ষিপ্ত হয়ে বিবাদিগণ আমাকে জায়গা থেকে উচ্ছেদে নানাভাবে হুমকি দেয়। এমনকি বিভিন্ন ধরণের মামলায় জড়িয়ে হয়রানি করে। সর্বশেষ তাঁরা আমার কাছ থেকে পঁচিশ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। আমি উক্ত চাঁদা দিতে অস্বীকার করিলে অধিকতর ক্ষিপ্ত হইয়া প্রকাশ্যে হুমকি প্রদর্শন শুরু করে। পরে আমি বিষয়টি নিরসনকল্পে চকরিয়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, চকরিয়া পৌরসভার মেয়র, কমিশনার ও গণ্যমান্য লোকজনের কাছে অভিযোগ করি। পরে তাদের মধ্যস্থতায় সালিশী বৈঠকের সিদ্ধান্ত হয়।
কিন্তু বৈঠকের সিদ্ধান্ত মোতাবেক সালিশী একরারনামায় তাঁরা স্বাক্ষর না দিয়া ঘটনার দিন বিগত ০৩/০৩/২০১৮ইং তারিখ দিবাগত রাত ১০.২০ ঘটিকার সময় সাক্ষীগণ ও স্থানীয় গণমান্য লোকজনের উপস্থিতিতে ঘটনাস্থলে (পঁচিশ লাখ) টাকা দাবী করে এবং উক্ত টাকা না পাওয়ায় সালিশী একরারনামায় আসামীগণ স্বাক্ষর না করিয়া গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গকে অমান্য করিয়া বিবাদিগন চলিয়া যায়। এরপর থেকে তপশীলোক্ত আমার স্বত্ব দলখীয় জমি হইতে জোর পূর্বক উচ্ছেদ করিবে মর্মে হুমকি ও ভয়ভীতি প্রর্দশন করিয়া আসিতেছেন।
জমির ক্রেতা মোহাম্মদ আলমগীর জানান, জেলা জজ আদালতের ওই আদেশের প্রেক্ষিতে আবারও ক্ষিপ্ত ও লোভের বশবর্তী হয়ে পরবর্তীতে উম্মে হাবিবা বাদি হয়ে পুনরায় কক্সবাজার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে আরো একটি এমআর মামলা (নং ২২৬/১৮) দায়ের করেন। উক্ত মামলার সর্বশেষ শুনানীকালে গত ৩০ এপ্রিল আদালতের ম্যাজিষ্ট্রেট খালেদ মাহমুদ আদেশ দেন যে, সার্বিক বিবেচনায় মহামান্য হাইর্কোটের নির্দেশনার আলোকে উপরোক্ত জমি নিয়ে গত ১২/০৩/১৮ইং তারিখ দেয়া স্থিতাবস্থা আদেশ প্রত্যাহার করা হলো।
আদালতের স্থিতাবস্থা আদেশ প্রত্যাহার হওয়ার পর আমি ক্রয়কৃত উপরোক্ত জমিতে কাজ করতে গেলে বর্তমানে নানাভাবে বাঁধা দিচ্ছে। মামলায় জড়িয়ে হয়রানি করার অপচেষ্ঠা চালাচ্ছে। এ অবস্থায় আমি নতুন করে হয়রানীর শিকার হচ্ছি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

Application to the Ministry of Information for registration.