প্রয়োজনীয় নথি দেননি ডিআইজি মিজান, মামলার হুমকি দুদকের

বিতর্কিত পুলিশ কর্মকর্তা ডিআইজি মিজানুর রহমান তাঁর সম্পদের কিছু প্রয়োজনীয় নথিপত্র দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) জমা দেওয়ার কথা থাকলেও তা জমা দেননি। তদন্তের প্রয়োজনে এসব নথিপত্র দিয়ে সহযোগিতা না করলে তাঁর বিরুদ্ধে মামলা করা হবে বলে হুমকি দিয়েছে দুদক।

গতকাল সোমবার দুপুরে সেগুনবাগিচায় দুদকের প্রধান কার্যালয়ে দুদক সচিব ড. শামসুল আরেফিন সাংবাদিকদের বলেন, গত রবিবার অনুসন্ধানকাজের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রয়োজনীয় নথিপত্র দুদকের অনুসন্ধান কর্মকর্তার কাছে সরবরাহ করার কথা ছিল ডিআইজি মিজানের। কিন্তু তিনি দুদকের অনুসন্ধান কর্মকর্তার কাছে নথিপত্র জমা দেননি। নথিপত্র না দিয়ে অনুসন্ধানকাজে অসহযোগিতা করছেন, এটা সম্পূর্ণভাবে অনুসন্ধানকাজে অসহযোগিতা এবং দুদক আইনবিরোধী। তিনি যদি এভাবে অনুসন্ধানকাজে অসহযোগিতা করে যান, তাহলে দুদক আইনে সেটা অপরাধ। আর এই অপরাধে দুদক আইনের ১৯(৩) ধারায় তাঁর বিরুদ্ধে মামলা হতে পারে।

ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে মিজানুর রহমান মিজানকে গত বৃহস্পতিবার সাড়ে ছয় ঘণ্টাব্যাপী জিজ্ঞাসাবাদ করেন দুদকের অনুসন্ধান কর্মকর্তা ও দুদকের উপপরিচালক মো. ফরিদ আহমেদ পাটোয়ারী। জিজ্ঞাসাবাদে ডিআইজি মিজান অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ অস্বীকার করেন এবং বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর এড়িয়ে যান।

তবে দুদক সূত্রে জানা গেছে, ডিআইজি মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে প্রাথমিক অনুসন্ধানে অবৈধ সম্পদ অর্জনের বেশ কিছু তথ্য-উপাত্ত দুদকের কাছে এসেছে। ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে নিজের ও আত্মীয়-স্বজনের নামে ঢাকাসহ তাঁর নিজ গ্রামেও সম্পদ করেছেন। কাকরাইলে নিজের ভাগ্নের নামে বিলাসবহুল ফ্ল্যাট, ছোট ভাইয়ের নামে ফ্ল্যাট, স্ত্রীর নামেও রয়েছে ফ্ল্যাটসহ বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান।

ডিআইজি মিজানের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগটি চলতি বছরের ১০ ফেব্রুয়ারি অনুসন্ধানের জন্য উপপরিচালক ফরিদ আহমেদ পাটোয়ারীকে কমিশন থেকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। প্রাথমিক অনুসন্ধানে অবৈধ সম্পদ অর্জনের তথ্য-উপাত্ত পেয়েই দুদকের উপপরিচালক ফরিদ আহমেদ পাটোয়ারী গত ২৪ এপ্রিল ডিআইজি মিজানকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলবি নোটিশ দেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

Application to the Ministry of Information for registration.