কর্ণেল আইয়ুব কাইছারের অংশের জায়গার পুনরায় স্থিতাবস্থা আদেশ প্রত্যাহার করেছে আদালত!

চকরিয়া পৌরসভার ভরামুহুরীস্থ থানা সেন্টার এলাকার

বার্তা পরিবেশক:
চকরিয়া পৌরসভার ৪নম্বর ওয়ার্ডের ভরামুহুরীস্থ থানা সেন্টার এলাকার বাসিন্দা মরহুম লে.কর্ণেল আবু মুছা মোহাম্মদ আইয়ুব কাইছার এর অংশের রের্কডীয় জমি নিয়ে আদালত পুনরায় স্থিতাবস্থা আদেশ প্রত্যাহার করেছেন। গত ৩০ এপ্রিল কক্সবাজার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট খালেদ মাহমুদ উপরোক্ত জমি নিয়ে উম্মে হাবিবা বাদি হয়ে দায়ের করা এমআর মামলা (নং ২২৬/১৮) এর শুনানী শেষে এ আদেশ দেন।
জানা গেছে, চকরিয়া পৌরসভার ভরামুহুরী মৌজার বিএস ১৬০ নং খতিয়ানের বিএস ৮৬, ৮৭ দাগের আট শতক জমি রের্কডীয় মালিক হন শহীদ লে. কর্ণেল আবু মুছা মোহাম্মদ আইয়ুব কাইছার। তিনি মরনে ওই জমির মালিক হন তাঁর স্ত্রী ও দুই কন্যা সন্তান। পরে উক্ত জমি স্ত্রী ও কন্যারা দলিল সম্পাদনের মাধ্যমে উচিত মুল্য নির্ধারণ করে চকরিয়া থানা রাস্তা মাথা এলাকার আলহাজ আবুল ফয়েজ এর ছেলে মোহাম্মদ আলমগীর গংয়ের কাছে বিক্রি করেন।
জমি ক্রেতা মোহাম্মদ আলমগীর দাবি করেছেন, শহীদ লে. কর্ণেল আইয়ুব কাইছার এর স্ত্রী ও কন্যারা দলিল সম্পাদনের মাধ্যমে উপরোক্ত জমি আমাকে বিক্রি করার পর অপরাপর ওয়ারিশরা ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেন। এরই জেরে তাঁরা আমাকে নানাভাবে বাধাগ্রস্থ ও হয়রানি করে আসছে। এ নিয়ে ওয়ারিশদের পক্ষে জহরুল মাওলা ও এনামুল হক মিলে আমাকে হয়রানি করার জন্য একাধিক সাজানো মামলায় জড়িয়ে উক্ত জায়গা থেকে উচ্ছেদের চেষ্ঠা চালাচ্ছে। সর্বশেষ জহুরুল মাওলার স্ত্রী উম্মে হাবিবাকে বাদি করে কক্সবাজার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে উক্ত জমির ব্যাপারে একটি এমআর মামলা (৩১৪/১৭) দায়ের করেন। ওই মামলায় আদালত স্থিতাবস্থার আদেশ জারি করেন। ওইসময় আদালত জায়গার ব্যাপারে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য চকরিয়া উপজেলা সহকারি কমিশনার ভুমিকে নির্দেশ দেন। দীর্ঘ তদন্ত শেষে চকরিয়া উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভুমি) আদালতের কাছে প্রতিবেদন দাখিল করেন। তাতে উক্ত জমি বৈধভাবে ক্রয়সুত্রে আমি মালিক ও ভোগদখলে রয়েছি তা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এমনকি উক্ত জমিটি শহীদ কর্ণেল আইয়ুব কাইছার জীবিত থাকাবস্থায়ও তার ওয়ারিশরা (স্ত্রী-কন্যা) ভোগদখলে রয়েছেন বলে আদালতে দাখিল করা প্রতিবেদনে জানানো হয়।
পরবর্তীতে আমি উম্মে হাবিবার উক্ত এমআর মামলার বিপক্ষে কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ আদালতে আপিল মামলা (নং ২২২/১৭) দাখিল করি। ২০১৭ সালের ৮ অক্টোবর আদালত মামলার শুনানী শেষে আদেশ দেন নিন্ম আদালতের দেয়া স্থিতিবস্থার তর্কিত আদেশের কার্যকারিতা ও কার্যক্রম রিভিশন নিস্পত্তি কালতক স্থগিত রাখা হইল।
জমির ক্রেতা মোহাম্মদ আলমগীর জানান, জেলা জজ আদালতের ওই আদেশের প্রেক্ষিতে আবারও ক্ষিপ্ত ও লোভের বশবর্তী হয়ে পরবর্তীতে উম্মে হাবিবা বাদি হয়ে পুনরায় কক্সবাজার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে আরো একটি এমআর মামলা (নং ২২৬/১৮) দায়ের করেন। উক্ত মামলার সর্বশেষ শুনানীকালে গত ৩০ এপ্রিল আদালতের ম্যাজিষ্ট্রেট খালেদ মাহমুদ আদেশ দেন যে, সার্বিক বিবেচনায় মহামান্য হাইর্কোটের নির্দেশনার আলোকে উপরোক্ত জমি নিয়ে গত ১২/০৩/১৮ইং তারিখ দেয়া স্থিতাবস্থা আদেশ প্রত্যাহার করা হলো।
জায়গার মালিক আলমগীর জানান, আদালতের স্থিতাবস্থা আদেশ প্রত্যাহার হওয়ার পর এখন তিনি ক্রয়কৃত উপরোক্ত জমিতে স্থাপনা নির্মাণে আইনী আর কোন ধরণের বাঁধা নেই। এমনকি আদালতের এই আদেশের প্রেক্ষিতে তিনি উপরোক্ত জমি বৈধভাবে ক্রয় করেছেন বলে প্রমাণিত হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

Application to the Ministry of Information for registration.