চকরিয়া বর্ণমালা একাডেমির সভায়-উপজেলা চেয়ারম্যান বাংলার বুকে মায়ের ভাষা প্রতিষ্ঠা করতে জাতিকে হারাতে হয়েছে সূর্য সন্তানদের

জুবাইদা আক্তার,চকরিয়াঃ

চকরিয়া থানা সেন্টারে মনোরম পরিবেশে অবস্থিত মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও সংস্কৃতিমনা চকরিয়া উপজেলার একমাত্র শিশুবান্ধব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান চকরিয়া বর্ণমালা একাডেমির উদ্যোগে প্রতিবছরের মতো এবারও ব্যাপক আয়োজনের মাধ্যমে একুশে ফেব্রুয়ারী আর্ন্তজাতিক মাতৃৃভাষা দিবস উদযাপন করা হয়েছে। দিবসের প্রথম প্রহরে প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামীলীগের সদস্য আমিনুর রশিদ দুলাল শহীদ বেদীতে শ্রদ্ধা নিবেদনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সুচনা করেন। একুশের দিন ভোরে বিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহনে অনুষ্ঠিত হয়েছে প্রভাতফেরী। দুপুরে বিদ্যালয় প্রাঙ্গনে চলে শিক্ষার্থীদের চিত্রাঙ্গন, রচনা ও আবৃতি প্রতিযোগিতা এবং বিকালে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভা।
চকরিয়া বর্ণমালা একাডেমি স্কুলের চেয়ারম্যান আমিনুর রশিদ দুলালের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন চকরিয়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আলহাজ জাফর আলম।
স্কুলের শিক্ষক সিরাজুল গণি ছোটনের সঞ্চালনায় সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন কক্সবাজার জেলা পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান ও চকরিয়া পৌরসভা আওয়ামীলীগের সভাপতি জাহেদুল ইসলাম লিটু, প্রভাতফেরীতে অংশ নেন সাংবাদিক জহিরুল ইসলাম, সভায় আরও বক্তব্য রাখেন স্কুলের অধ্যক্ষ আবু উমর মোহাম্মদ আরমান,চকরিয়া পৌরসভা আওয়ামীলীগের মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক সম্পাদক জয়নাল আবেদিন, পশ্চিম বড়ভেওলা ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ইব্রাহিম খলিল প্রমুখ। এছাড়াও সভায় শিক্ষক মুন্নি, রুবেল, আজাদ, ইমন, নাজনীন, মুক্তা, সাবিনা, মালেকা, বিউটি, এলভি, সকল শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও সুধীজন উপস্থিত ছিলেন।
আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি চকরিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান আলহাজ জাফর আলম বলেন, মায়ের ভাষা বাংলা প্রতিষ্ঠা করতে বাংলার দামাল ছেলেরা ১৯৫২ সালে আন্দোলনের ডাক দেন। সেই আন্দোলনে বাঙ্গালি জাতি অকুন্ঠ চিত্রে সাড়া দিয়ে পাকিস্তানী শাসকগোষ্ঠির চক্রান্ত নস্যাৎ করে অবশেষে বাংলার বুকে মায়ের ভাষা প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হন। সেই অর্জনের জন্য জাতিকে হারাতে হয়েছে দেশের সূর্য সন্তান সালাম, জব্বার, রফিকসহ অনেককে।
তিনি বলেন, একইভাবে ১৯৭১ সালে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বজ্রকণ্ঠের আহবানে সাড়া দিয়ে বাঙ্গালি জাতি দেশকে পরাধীনতার শৃঙ্খল থেকে মুক্ত করেছেন। সেইজন্য বাঙ্গালি জাতিকে অপুরণীয় ক্ষতির শিকার হতে হয়েছে। ৩০ লাখ শহীদ ও দুই লাখ মা-বোনের ইজ্জত হরণের মাধ্যমে আমরা স্বাধীনতা লাভ করি। কিন্তু মহান ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধের রক্তক্ষয়ী সেই যুদ্ধের মাধ্যমে বাংলাদেশ মায়ের ভাষা বাংলা ও লাল সবুজের পতাকা অর্জন করতে সক্ষম হলেও আমরা জাতি হিসেবে এখনো নানা ষড়যন্ত্রের কারনে পিছিয়ে রয়েছি। তার কারণ স্বাধীনতার পর থেকে এই দেশে পাকিস্তানীদের দোসরা সংক্রিয় রয়েছে। তাঁরা মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাসকে বিকৃত করে জাতির মাঝে বিভাজন তৈরী করেছে। তাদের এই অপকর্মের কারনে নতুন প্রজন্মের শিক্ষার্থীরা বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও ভাষা আন্দোলনের প্রকৃত ঘটনাবলী সম্পর্কে জানতে বারবার বাঁধাগ্রস্থ হয়েছে।
উপজেলা চেয়ারম্যান জাফর আলম আরও বলেন, এখন সময় এসেছে বর্তমান নতুন প্রজন্মের শিক্ষার্থীদের কাছে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস ও ভাষা আন্দোলনের স্মৃতিগাঁথা তুলে ধরতে হবে। যাতে তাঁরা বাংলাদেশের সকল অর্জনের পেছনে কী কী ক্ষতি ও লাভ হয়েছে তা জানতে পারবে। এইজন্য প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পাঠদানের ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের মাঝে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ছড়িয়ে দিতে হবে। এইজন্য শিক্ষক সমাজকে অগ্রনী ভুমিকা পালন করতে হবে। আলোচনা সভা শেষে প্রধান অতিথি উপজেলা চেয়ারম্যান বর্ণমালা একাডেমী স্কুলের মহান একুশ উপলক্ষে আয়োজিত চিত্রাঙ্গন, রচনা ও আবৃতি প্রতিযোগিতায় বিজয়ী শিক্ষার্থীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন। ##

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

Application to the Ministry of Information for registration.