ফলো আপ- চকরিয়ার সাহারবিল বিএমএস উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের অনিয়ম-দূর্নীতির তদন্ত শুরু

চকরিয়া অফিস:
চকরিয়া উপজেলার সাহারবিল ইউনিয়নের সাহারবিল বিএমএস উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে ব্যাপক অনিয়ম, দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার ও স্বেচ্ছাচারিতার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগ নিয়ে শিক্ষা অধিদপ্তরসহ প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ দেওয়ার পর ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে তদন্তে নেমেছে মাধ্যমিক শিক্ষা বিভাগ। গতকাল মঙ্গলবার কক্সবাজার জেলা মাধ্যমিক শিক্ষাকর্মকর্তা ছালেহ আহমদ চৌধুরী প্রাথমিকভাবে তদন্তকার্য শুরু করেন।
জানাগেছে, চকরিয়া উপজেলার খ্যাতিমান শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সাহারবিল বিএমএস উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নজরুল ইসলাম ওই পদে নিয়োগ পাওয়ার পর জড়িয়ে পড়েন নানা অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি ও দূর্নীতিতে। বিগত ২০১৩ সনে এ প্রতিষ্ঠানে নিয়োগপান তিনি। অভিযোগে জানাগেছে, ওই প্রধান শিক্ষক নজরুল ইসলাম বিদ্যালয়ের নামীয় ৫টি দোকানঘর ও ধানী জমি প্রকাশ্যে ইজারা না দিয়ে মনগড়া বরাদ্ধ দেন লোকজনকে। এছাড়া শিক্ষার্থীদের কাছে সার্টিফিকেট বাণিজ্য, উন্নয়ন কাজের নামে মিথ্যা বিল ভাওচার সৃজন করে অর্থ আত্মসাত, যাতায়াত ও অফিস খরচের নামে টাকা লুট, পরীক্ষা খরচ, শিক্ষা বোর্ড খরচ, আইসিটি, শিক্ষক নিয়োগ, জাতীয় দিবসসহ বিভিন্ন দিবস পালনের নামে অডিট বিহীন বিশাল অংকের অর্থ ব্যয়। এছাড়া শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে আইসিটি নামের ৩৫ হাজার টাকা উত্তোলন করে হাতিয়ে নেন তিনি। অভিযোগে প্রকাশ, সরকারের নীতিমালার প্রতি বৃদ্ধাঙ্গালী প্রদর্শন করে প্রকাশনা কোম্পানীর সাথে গোপন যোগসাজসে মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে ব্যাকরণ (গ্রামার) বই শিক্ষার্থীদের উপর চাপিয়ে দেন ওই প্রধান শিক্ষক। শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কোন ধরণের ভাওচার বিহীন ভর্তি ফিস, মাসিক ফিস, রেজিষ্ট্রেশন ফিসসহ অতিরিক্ত অর্থ আদায় করে সিংহভাগ টাকা আত্মসাত করে যাচ্ছেন তিনি। স্কুল ম্যানেজিং কমিটির সভায় আয়-ব্যয়ের হিসাব বিবরণী অনুমোদনের নিয়ম থাকলেও প্রধান শিক্ষক নজরুল ইসলাম যোগদানের পর থেকে কোন ধরণের আয়-ব্যয় অনুমোদন করেনি। মূলত: স্কুলের কমিটি না থাকা সত্তে¡ও এডহক কমিটির মাধ্যমে তিনি তৎকালীন সময়ে জালিয়তির মাধ্যমে প্রধান শিক্ষক পদে নিয়োগ নিয়েছেন। যা জনবল কাঠামো নির্দেশিকা ১৮ (১)(ঘে) এর সম্পূর্ণ পরিপন্থি বলে জানান অভিভাকরা। তাই অনিয়ম দূর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহার নিয়ে অভিভাবকদের পক্ষে মো: জুনাইদুল হক বাদী হয়ে সচিব-মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক অধিদপ্তর ঢাকা, মহাপরিচালক মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর ঢাকা, চেয়ারম্যান-দূর্নীতি দমন কমিশন, চেয়ারম্যান-চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ড, জেলা প্রশাসক কক্সবাজার, উপপরিচালক-চট্টগ্রাম অঞ্চল, শিক্ষা অফিসার কক্সবাজার ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার চকরিয়াসহ প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ করেছেন।
বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও সাহারবিল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মহসিন বাবুল জানিয়েছেন, প্রধান শিক্ষক অনিময় দূর্নীতি করে থাকলে তা পূর্বের কমিটির বিষয়। তাতে প্রধান শিক্ষক অপরাধী হলে পূর্বের কমিটির সংশ্লিষ্টরাও অপরাধী হবেন। তাই তদন্তে কি ধরণের তথ্য উদঘাটন হয় তা দেখার অপেক্ষায় রয়েছি।
এ দিকে অভিযোগের পর গতকাল বুধবার সকালে কক্সবাজার জেলা উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষাবিভাগ থেকে ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছেন। প্রথামিক এ তদন্তকার্যে নেতৃত্বে দেন জেলা মাধ্যমিক শিক্ষাকর্মকর্তা ছালেহ আহমদ চৌধুরী।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

Application to the Ministry of Information for registration.