ভারতে রোহিঙ্গা শিবিরে বিজেপির আগুন

 

মিয়ানমারে ব্যাপক নির্যাতিত হয়ে ঘরবাড়ি হারিয়ে তারা ভারতের দিল্লিতে আশ্রয় নিয়েছিল একটি শরণার্থী শিবিরে। সেই শিবিরেই অবশিষ্ট সবকিছু পুড়ে গেল হতভাগ্য রোহিঙ্গাদের। ফের তারা নিষ্ঠুরতার শিকার হলো মানুষের। আর এর পেছনে এবার ভারতের শাসক দল বিজেপির নামই উঠে এল।

ভারতের রাজধানী দিল্লিতে রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরে আগুন ধরিয়ে দেয়ার কথা স্বীকার করেছে ক্ষমতাসীন বিজেপির যুব মোর্চা। গত রবিবার এ আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটে।

দিল্লিতে সেই শরণার্থী শিবিরে আগুন ধরার ঘটনায় বিজেপির যুব মোর্চা নেতা মনীষ চান্দেলা নিজেদের দায় স্বীকার করেছেন। তিনি ও তার সহযোগীরা ওই আগুন ধরানোর ঘটনায় জড়িত বলে জানিয়েছেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ ধরনের স্বীকারোক্তি প্রকাশ্যে আসার পর প্রখ্যাত আইনজীবী ও সমাজকর্মী প্রশান্ত ভূষণ বৃহস্পতিবার নয়াদিল্লির তিলক মার্গ থানায় মনীষ চান্দেলা নামে বিজেপি যুব নেতার বিরুদ্ধে থানায় এফআইআর দায়ের করেছেন।

প্রশান্ত ভূষণ বলেন, মামলা দায়ের ও তাকে গ্রেফতার করার জন্য দিল্লি পুলিশের পক্ষ থেকে কোনো পদক্ষেপ নেয়া হয়নি এবং তাকে দল থেকে বহিষ্কার করার জন্যও বিজেপির পক্ষ থেকে কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি।

রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরে আগুন ধরানোর ঘটনায় এক টুইটার বার্তার জবাবে মনীষ চান্দেলা লেখেন, হ্যাঁ আমরাই রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীদের ঘর পুড়িয়ে দিয়েছি। ওই ঘটনার একদিন পরে পুনরায় তিনি লেখেন, হ্যাঁ আমরাই এটা করেছি এবং আবারও তা করব।

তাদের দাবি, ভারতে যে কোনো জায়গায় অবৈধভাবে বাস করা তাদের ভাষায় ‘সন্ত্রাসী’ রোহিঙ্গা মুসলিমদের বসতির তথ্য দিলে তারা তাদের আসল জায়গায় পৌঁছে দেবে।

গত ১৫ এপ্রিল দক্ষিণ দিল্লির কালিন্দিকুঞ্জের কাছে শরণার্থী শিবিরে আগুন ধরে যায়। ওই ঘটনায় দুই শতাধিক মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হন। ওই ঘটনায় প্রায় ৫০ পরিবার সম্পূর্ণ গৃহহীন হয়ে পড়ে। তাদের সর্বস্ব আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে যায়। গুরুত্বপূর্ণ নথির মধ্যে পরিচয়পত্র ও জাতিসংঘের দেয়া বিশেষ ভিসাসহ অন্যান্য জিনিসপত্র নিশ্চিহ্ন হয়ে যায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

Application to the Ministry of Information for registration.