চকরিয়ায় কিশোরীকে গণধর্ষণ অভিযোগে আদালতে মামলা

চকরিয়া অফিস:
চকরিয়ায় এক কিশোরীকে আটকিয়ে গণধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এনিয়ে কিশোরীর মা খালেদা বেগম বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল,কক্সবাজারে সিপি মামলা (নং ২৫০/১৮) দায়ের করা হয়েছে। বিজ্ঞ আদালতে ফৌজদারী অভিযোগ আমলে নিয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, পুলিশ ব্যুারো অব্ ইন্ভেস্টিগেশন (পিবিআই)কে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। গত ১৪ ফেব্রুয়ারী’১৮ইং এ মামলাটি করেন। এতে অভিযুক্ত করা হয়েছে ছৈয়দ আহমদের ছেলে সাজ্জাদ হোসাইন, ধর্ষণে যোগসাজসকারী ও আশ্রয়দাতা সাকেরা বেগম মুক্তা ও অজ্ঞাত পরিচয়ের দুই যুবককে। চকরিয়া উপজেলার কাকারা ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের কসাইপাড়া গ্রামের মো: ইসমাইলের মেয়ে সাকেরা বেগম মুক্তার বাড়িতে ঘটেছে ধর্ষণের এ ঘটনা।
মামলার আর্জি সূত্রে জানাগেছে, একই ইউনিয়নের আলীমিয়া সিকদারপাড়া গ্রামের মৃত নুরুচ্ছমদের স্ত্রী খালেদা বেগম (৩৫) দরিদ্র পরিবারের মেয়ে হিসেবে এলাকার বিভিন্ন লোকজনের বাড়িতে ঝি’য়ের কাজ করে কোন রকমে জীবিকা নির্বাহ করেন। একই ভাবে সংসারে অভাব অনটনের কারণে খালেদা বেগমের মেয়েকে (ছদ্মনাম করিমা, বয়স ১৫) ২০০০ টাকা মাসিক বেতনে অভিযুক্ত আসামী সাকেরা বেগম মুক্তার বাড়িতে কাজের মেয়ে হিসেবে দেন। কাজের মেয়ে হিসেবে বাড়িতে থাকার এক পর্যায়ে অবৈধ অর্থ উপার্যনের লক্ষ্যে কাজের মেয়ের শুবার কক্ষে ২ং আসামী সাকেরা বেগম মুক্তার নির্দেশে মোবাইল ফোনে কন্ট্রাক্ট করে বাড়িতে এনে অভিযুক্ত ১নং আসামী সাজ্জাদ হোসেন ও অজ্ঞাত ২ুবকসহ ৩জনকে রুমের ভেতরে ঢুকিয়ে দিয়ে ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোর পূর্বক ধর্ষণ করে। এভাবে কক্ষের ভেতরে আটকিয়ে রেখে বিগত ১৩ নভেম্বর’১৭ইং হতে চলতি ৮ ফেব্রুয়ারী’১৮ইং পযর্ন্ত একাধিকবার ধর্ষণ কাজ চালাতে অর্থের বিনিময়ে সহায়তা করে এলাকার দু:চরিত্রবান মহিলা সাকেরা বেগম মুক্তা। সর্বশেষ গত ১০ ফেব্রুয়ারী গুরুতর অসুস্থতার কথা বলে এতিম মেয়ে বাড়িতে এসে তার মাকে বিষয়টি অবহিত করলে গত ১৩ ফেব্রুয়ারী থানায় লিখিত অভিযোগ ও ১৪ ফেব্রুয়ারী নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ এর ২৭ (১)(ক) ধারার বিধান মতে মামলাটি করেন। বিজ্ঞ আদালত অভিযোগ আমলে ১৮ ফেব্রুয়ারী হতে ৭ কার্য দিবসের মধ্যে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পিবিআইকে নির্দেশ দিয়েছেন।
মামলার বাদী খালেদা বেগম অভিযোগ করেন, অভিযুক্ত সাকেরা বেগম মুক্তা এলাকার একজন দু:চরিত্রবান ও পতিতা মহিলা হিসেবে সকলের কাছে পরিচিত। তার কাজ হচ্ছে এলাকার দরিদ্র, নিরীহ ও এতিম শিশু-কিশোরদের বাড়িতে চাকুরী দেওয়ার প্রলোভনে ফেলে বিভিন্ন এলাকার যুবকদেরকে অর্থের বিনিময়ে ধর্ষণ ও পতিতাবৃত্তিতে পরিণত করে। এছাড়াও মামলাবাজ মহিলা সাকেরা বেগম মুক্তা বিভিন্ন জনের নামে মিথ্যা মামলা করে পরবর্তীতে হুমকি ধমকি দিয়ে মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে রপাদপায় মামলার আপোষ করে। ইতিপূর্বে সে চট্টগ্রাম মহানগর হাকিম আদালতে মামলা নং ৮৪/০৪, চকরিয়া থানায় জিআর মামলা নং ৩৪৮/০৯, ৪৪৬/১১সহ ডজন খানেক মিথ্যা মামলা করেছে। খালেদা বেগম অভিযোগ করেন, বর্তমানে ধর্ষণের তার মেয়েকে গণধর্ষণের মামলা ধামা চাপা দিতে তার ভাই আবদুর রশিদসহ স্বাক্ষীদের মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে হয়রাণী করার হুমকি ধমকিসহ নানাভাবে অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এনিয়ে বিজ্ঞ আদালত এবং থানা প্রশাসনের সহযোগিতাসহ মেয়ে ধর্ষণের সুষ্ঠু বিচার দাবী করেছেন। একই আহবান জানিয়েছেন স্থানীয় সর্বস্তরের এলাকাবাসী।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

Application to the Ministry of Information for registration.