পর্যটকদের হাতছানি দিয়ে ডাকছে সৌন্দর্যের অপার লীলাভূমি কুতুবদিয়া

                                                                                         পর্যটকদের হাতছানি দিয়ে ডাকছে

সৌন্দর্যের অপার লীলাভূমি কুতুবদিয়া

                                   বোরহান সিকদার 

মানুষ মোরা মাঝে মধ্যে

অচেনা পরিসর খুজি,

কখনো আবার ভরা কলরবে

কাটাই ক্ষন তিথি ।

কখনো আবার আপন নেশায়

মনোরম তীর্থের সন্ধানে ঘুরি

এটাই মানব জীবনের দাদাগিরি।

জল প্রকৃতির সম্ভারে ভরা

আছে অসীম সমূদ্রের জলরাশি

দূর হতে ভেসে আসা

বাধ ভাংগা ঢেউ আর ঢেউ

আর সমূদ্রের গম্ভীর গর্জন ।

আছে হরেক জল প্রকৃতি

একবার আসবে কি ?

হাতছানি দিয়ে ডাকছে তোমায়

সৌন্দর্যের অপার এই লীলাভূমি।

কুতুবদিয়া দ্বীপটি প্রায় হাজার বছর আদী ও পুরনো । দেশের মূল ভূ-খন্ড হতে অনেকটাই বিচ্ছিন্ন বলে এই দ্বীপে বহিরাগতদের তেমন গমনাগমন হয় না, সরকারী আমলা ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মচারীদের উপস্থিতি ছাড়া । তবে যুগে যুগে এই দ্বীপে অনেক আউলিয়া একরামের প্রাদূর্ভাব ঘটেছে । তাই কুতুবউদ্দীন আউলিয়ার নামে এই দ্বীপের নামকরণ হয় । এই দ্বীপে বেশি বহিরাগতদের আগমন ঘটে হযরত শাহ আব্দুল মালেক শাহ আল কুতুবী (রাঃ) এর দরগাহে। ফলে বহিরাগতরা নির্দিষ্ট উদ্দেশ্যে আসেন বলে মনের মাঝে এই দ্বীপের সৌন্দর্য উপভোগ করার মানস ঘটাতে পারেন না । এই এলাকার মানুষগুলো অত্যন্ত সামাজিক মনোভাবাপন্ন বিধায় এই দ্বীপকে চট্টগ্রাম অঞ্চলের মানুষ শান্তির তীর্থস্থান বলে সম্মোধন করতেন। এছাড়াও জেলার মূল ভূ-খন্ড হতে বিচ্ছিন্ন বলে এখনো এই এলাকার লোকজনের বৈদ্যুতিক চাহিদা মেটাতে পারছেন না সরকার, তবে প্রযুক্তির কোন অধ্যায়ে পিছিয়ে নেই এই দ্বীপ বাসী । চারিপাশে জলরাশি দ্বারা পরিবেষ্টিত দ্বীপটির সৌন্দর্য সত্যিই সৃষ্টিকর্তার এক অপার মহীমা ।

বিশেষত দ্বীপটির পশ্চিম পাশে তীর ঘেঁষে বয়ে গেছে বিশাল সমূদ্র সৈকত। সারি সারি ঝাউবন আর সাগরের কিনারায় জোয়ারের পানিতে হাজার হাজার গাংচিল জীবিকা নির্বাহ করে যাচ্ছে আর ক্ষরা রৌদ্রে ঝাঁকে ঝাঁকে গাংচিলেরা মুক্ত মনে সাগরে ভাসছে আর প্রকৃতিকে আরও বৈচিত্রময় করে চলছে । আর কবি জসীম উদ্দীনের (বালিতে বসবাসকারী এক ধরণের লাল কাঁকড়া) সোনার কন্যাগুলো ঘুরে বেড়াচ্ছে বিশাল সমূদ্র তীরে। কখনো তারা বাসা বুনছে ও মা কাঁকড়াগুলো সহচরী হয়ে বাচ্ছা কাঁকড়াগুলোকে পথচলা শেখাচ্ছে । কত মানুষ পায়ে হেঁটে যাচ্ছে তাদের পাশ দিয়ে, এই ছোট্ট প্রাণীগুলো নির্ভয়ে তাদের জীবিকা নির্বাহ করে চলছে । কিন্তু নির্দয় সাগর জল প্রতিনিয়ত ভেঙ্গে গুড়িয়ে দিয়ে যাচ্ছে সাগর কন্যার স্বপ্ন আর আপন মহল । তবু থেমে নেই তাদের পথচলা। এই যেন প্রকৃতির এক ধরণের রীতিগত খেলা । সমূদ্রের তীরে বসে প্রকৃতির এই অবলোকন সত্যিই অসাধরণ যা আপন উপস্থিতি ব্যতিত উপলদ্ধি সম্ভব নয় ।

শুধু প্রকৃতির সৌন্দর্যের মাঝে সীমাবদ্ধ নেই এই দ্বীপ । ইতোমধ্যে কুতুবদিয়ার পর্যটকদের সুবিধার জন্য সরকারী ও বেসরকারী বিভিন্ন মহল আবাসন ও উন্নয়ন মূলক পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করেছেন। তৈরী করা হয়েছে &সী-বীচ পার্ক& এই পার্কটি সাগরের তীর ঘেঁষে বেড়িবাঁধ সংলগ্ন হওয়ায় অবলীলায় পড়ন্ত বিকেলের স্নিগ্ধতা ও সাগরের মুক্ত হাওয়া অনুভব করা যায় আর ডুবন্ত সূর্যের দৃশ্যতো অসাধারণ। এক কথায় বিশ্বের অন্যতম ও বৃহৎ সমূদ্র সৈকত কক্সবাজারকেও হার মানায় । তবে সেটা আমার মতে, আমার বিশ্বাস এই জায়গাটির সৌন্দর্য ভ্রমন পিয়াসী মানুষের নজরে আসলে দ্বীপটি এ্যাডভান্সার টাইপের পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে স্বীকৃতি পাবে । এখানে রয়েছে ঐতিহাসিক সমূদ্র বাতিঘর (নাবিকদের পথ নির্দেশক স্থাপনা), শত শত বছর পূর্ব হতে নাবিকগণ গভীর সমূদ্র হতে এই বাতির সাহায্যে তাদের অবস্থান ও দিক নির্ণয় করে আসছেন । আর ইতোমধ্যে এই বাতিঘরকে বিশ্বের অন্যতম বাতিঘর হিসেবে স্বীকৃতিদানের লক্ষ্যে যুগপযোগী পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। নানান শ্রেণীর মানুষ-জেলেদের মনে লুকায়িত কষ্টের আহবান আর তাদের সমূদ্র জীবন ও মাঝে মাঝে জেলেদের গভীর সমূদ্রের জাল হারানোর করুন আর্তনাদ ও সুখময় জীবন যাত্রার কল্প কথা, লবণ চাষীর স্বপযাত্রা এবং সাগরের শুটকী উৎপাদন কেন্দ্র সব মিলিয়ে সত্যিই অসাধারণ এক অপূর্ব দর্শনীয় স্থান কুতুবদিয়া দ্বীপ।  সার্বিক সহযোগিতায় এ.কে. এম রিদওয়ানুল করিম ; চেয়ারম্যান কক্স টিভি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

Application to the Ministry of Information for registration.