চিকিৎসার অভাবে কারাগারেই মৃত্যু হতে পারে মুরসির

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

কায়রো: মিশরে গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত একমাত্র প্রেসিডেন্ট মুহাম্মাদ মুরসি চিকিৎসার অভাবে কারাগারে মৃত্যুবরণ করতে পারেন বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে ব্রিটেনের সংসদীয় কমিটি।

ব্রিটিশ দৈনিক ‘দ্য টাইমস’ কয়েকজন সংসদ সদস্য ও আইনজীবীর বরাত দিয়ে লিখেছে, মুহাম্মাদ মুরসি বিভিন্ন ধরনের রোগে ভুগছেন। ডায়াবেটিস, ব্লাড প্রেশার ও লিভার সমস্যায় ভুগলেও তার সঠিক চিকিৎসা হচ্ছে না। তাকে মিশরের রাজধানী কায়রোর একটি জেলখানার নির্জন সেলে রাখা হয়েছে।

দৈনিক টাইমস আরো লিখেছে, খারাপ আচরণ এবং চিকিৎসার অভাবে মুরসির জীবন এখন হুমকির মুখে রয়েছে। কয়েকটি মামলায় মুরসিকে ৪৮ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

মিশর সরকার অভিযোগ করেছে, মুরসি হত্যা ও সহিংসতায় উসকানি দেওয়ার পাশাপাশি অন্য দেশের জন্য গোয়েন্দাবৃত্তি করেছেন।

আরো পড়ুন…
মিশরে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে একতরফা ভোট শুরু, ফাঁকা মাঠে সিসি’র গোল!
মিশরে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। এবারের নির্বাচনে অবশ্য মাত্র দু’জন প্রেসিডেন্ট পদে লড়াই করছেন। তাদের মধ্য থেকেই একজনকে বেছে নেবেন মিশরের জনগণ। অবশ্য বর্তমান প্রেসিডেন্ট আব্দুল ফাত্তাহ আল সিসি’র প্রতিদ্বন্দ্বী মধ্যপন্থী রাজনীতিবিদ মুসা মোস্তফা তেমন জনপ্রিয় না হওয়ায় ফলাফল এরই মধ্যে বোঝা হয়ে গেছে দেশটির রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানায়, এবারের নির্বাচনে আব্দেল ফাত্তাহ আল সিসি দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় বসবেন বলে মনে করছেন দেশটির অধিকাংশ মানুষ।

সোমবার সকাল থেকে তিন দিনব্যাপী এই ভোট শুরু হয়েছে। দেশটির বিরোধী দলগুলো নির্বাচন প্রত্যাখ্যান করায় প্রতিদ্বন্দ্বীতায় আর কেউ নেই। মিশরীয় সেনাবাহিনীর সাবেক প্রধান সামি আনান প্রথমে নির্বাচনের ঘোষণা দিলেও পরে তা প্রত্যাহার করেন। তাকে বর্তমান প্রেসিডেন্টের বড় প্রতিদ্বন্দ্বী মনে করা হচ্ছিল।

বিবিসি’র প্রতিবেদনে বলা হয়, মুসা মোস্তফা মুসা আগে থেকেই ফাত্তাহ আল সিসি’র প্রিয়পাত্র হিসেবে পরিচিত। সরকারের সমর্থক হিসেবেও এর আগে নিজের অবস্থানের কথা জানিয়েছিলেন তিনি। তাছাড়া সিসির পুনরায় নির্বাচনের প্রতিও তার সমর্থন ছিল।

এদিকে অভিযোগ রয়েছে, ভয়-আতঙ্ক-ত্রাস সৃষ্টি করে মিসরে রাজত্ব করছেন প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসি। চালু করেছেন ধর-পাকড়ের নীতি। গণতন্ত্রের লাগাম ধরে স্বৈরশাসন চালাচ্ছেন। দমন-পীড়নের মাধ্যমে ভয়ের রাজ্য কায়েম রেখেছেন। সাংবাদিক, সরকারি কর্মচারী, এনজিও কর্মী, শিক্ষক-শিক্ষিকা, ছেলে-বুড়ো- সবার মনেই ‘সিসি ভয়’। চুন থেকে পান খসলেই বিপদ।

তার বিরুদ্ধে কৌতুক করে কথা বলতেও সাহস পান না কেউই। বিরোধী বা ভিন্ন মতাবলম্বীদের দমনে কারাগারকে ব্যবহার করছেন তিনি। লেলিয়ে দিচ্ছেন সেনা-পুলিশের পেটুয়া বাহিনী। বিচার বিভাগকেও চোখের ইশারায় ব্যবহার করছেন সিসি।

তার শাসনামলে গত ৫ বছরে ১০ হাজারেরও বেশি রাজনীতিককে গ্রেফতার করেছেন। সিসির বিরুদ্ধে নির্বাচনে দাঁড়াতে চাইলেও তাকে কারাগারে ঢুকিয়ে দেয়া হয়েছে। এভাবে নির্বাচনী মাঠ ফাঁকা করে সবাইকে আতঙ্কে রেখে একা গোল দিচ্ছেন সেনাপ্রধান থেকে এক রাতে প্রেসিডেন্ট বনে যাওয়া এ স্বৈরশাসক।

গত পাঁচ বছরে মিসরে বিনিয়োগ ও পর্যটকদের আনাগোনা কমেছে। জ্বালানির ওপর ভর্তুকি কর্তন ও করারোপের কারণে বাজেটে ঘাটতি দেখা দিয়েছে। ২০১৬ সালে দেশটিতে মুদ্রাস্ফীতিও ক্ষেপিয়ে তুলেছে ব্যবসায়ীদের।

২০১১ সালে অভ্যুত্থানের আগের সময়ের মতোই বিদেশি রিজার্ভ নিম্নস্তরে। গত বছর দেশটির পর্যটকের সংখ্যা ছিল প্রায় ৮০ লাখ, যা অন্যান্য বছরের তুলনায় বেশ কম। কমে গেছে হোটেল-আবাসন ব্যবসা। তলানিতে নেমেছে বিদেশি বিনিয়োগ। এরপরও জনগণের মধ্যে টু শব্দটিও নেই। মুখ বুজে সহ্য করছেন নাগরিকরা। কেউ একটু এগিয়ে এলেই ঠাসা হচ্ছে কারাগারে।

দ্য ইকোনোমিস্ট জানায়, এতকিছুর পরও এবারের নির্বাচনে সিসির জয় নিশ্চিত। জনগণ নয়, সিসির সামনে এখন একটাই চ্যালেঞ্জ। সেনাবাহিনী ও শিল্পপতিরা তার নীতির বিরুদ্ধে ক্ষেপে গেলে সিসির হাত থেকে মুক্ত হবে মিসরের মসনদ। তবে চার বছর মেয়াদের দ্বিতীয় দফার বেশি প্রেসিডেন্ট হওয়ার নিয়ম নেই সংবিধানে।

অনেক এমপি এ ধারা পরিবর্তনের প্রস্তাব দিয়েছেন। আবার অনেকে বলছেন, দ্বিতীয় মেয়াদের পর আর ক্ষমতায় থাকবেন না সিসি। এ বিষয়ে প্রাইভেট ব্যাংকের এক কর্মকর্তা বলেন, আপনি আম খেতে ভালোবাসলেও, দীর্ঘদিন ধরে প্রতিদিন আম খেতে কিন্তু আপনার ভালো লাগবে না।

মিশরের বর্তমান জনসংখ্যা প্রায় ৮ কোটি ৪০ লাখ। আরব দেশগুলোর মধ্যে সর্বাধিক জনসংখ্যার এ দেশটির মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

Application to the Ministry of Information for registration.