চকরিয়ায় জমি জবর দখল নিয়ে হামলা, মা-মেয়েসহ আহত ৪

চকরিয়া অফিস:
চকরিয়ায় আদালতের আদেশ উপেক্ষা করে স্থানীয় ভূমিদস্যু বাহিনীর বিরুদ্ধে এক অসহায় পরিবারের ভোগ দখলীয় জমি জবর দখলের অভিযোগ উঠেছে। এমনকি দখলবাজদের বাধা দিতে গিয়ে সন্ত্রাসী হামলায় গুরুতর আহত হয়েছে মা-মেয়েসহ একই পরিবারের ৪জন। গতকাল ২৮ মার্চ’১৮ইং সকাল ১০টার দিকে উপজেলার ডুলাহজারা ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের রংমহল গ্রামে ঘটেছে এ ঘটনা। এনিয়ে ভূক্তভোগী পরিবারের ছৈয়দ কামালের পুত্র আহামদ শামীম (২৪) বাদী হয়ে ৬জনের নাম উল্লেখ্য করে অজ্ঞাত আরো ১০/১২জনকে দেখিয়ে এদিন বিকেলে থানায় লিখিত এজাহার দায়ের করা হয়েছে।
অভিযোগে জানাগেছে, বাদী আহামদ শামীম অভিযোগে জানিয়েছেন, ডুলাহাজারা রংমহল গ্রামে তার পিতা ছৈয়দ কামালের নামীয় ও ভোগদখলীয় ৪০ শতক জমি রয়েছে। ওই জমি থেকে সাড়ে ১৩ শতক (৪০কড়া) জমি অবৈধভাবে জবর দখলে নেওয়ার পায়তারা চালায় একই এলাকার মৃত ফজর রহমানের পুত্র লিয়াকত আলী (৫৫) গং। এনিয়ে জমি মালিক ছৈয়দ কামাল বাদী হয়ে স্থানীয় ডুলাহাজারা ইউনিয়ন পরিষদের গ্রাম আদালতে এমআর মামলা নং ০১/১৪ দায়ের করেন। ওই মামলায় গ্রাম আদালত তাদের পক্ষে ডিক্রি দেন। তা অমান্য করায় উপজেলার নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে একই এমআর মামলা দায়ের করেন। উপজেলা নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট আদালত থেকেও তাদের (ছৈয়দ আলম) পক্ষে ডিক্রি দেন। অভিযুক্ত দখলবাজদের বিরুদ্ধে বিজ্ঞ দায়রা জজ আদালত,কক্সবাজার-এ ক্রিমিনাল রিভিশন মামলা নং ৭৪/২০১৬ দায়ের করেন। ওই মামলায় বিজ্ঞ আদালত কর্তৃক বিগত ১৩ এপ্রিল’১৭ইং বাদী (তাদের) পক্ষে আদেশ দেন। সর্বশেষ জমি জবর দখল বিষয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ এবং চকরিয়া সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে জিডি (নং৭২/১৮) দায়ের করা হলে এর প্রেক্ষিতে উভয় পক্ষের শালিসকারদের নিয়ে থানায় একাধিকবার বৈঠক হয়। এতেও তাদের পক্ষে শালিসী রোয়েদাদ দিয়েছেন। আদালত, থানা, ইউপি গ্রাম আদালত ও স্থানীয় শালিস উপেক্ষা করে বিভিন্ন এলাকা থেকে সন্ত্রাসী ভাড়ায় এনে জোর পূর্বক জমি জবর দখলে নিতে গতকাল ২৮ মার্চ সকালে হামলা, ভাংচুর ও লুটপাট চালিয়েছে। তাদের বাধা দেওয়ায় হামলায় আহত হয়েছে জমি মালিকের পুত্র আহামদ শামীম (২৪), স্ত্রী হামিদা ইয়াছমিন (৪৫), কলেজ পড়ুয়া মেয়ে কানিজ ফাতেমা (১৮) ও স্কুল পড়–য়া মেয়ে নুরি জন্নাত (১৫)। তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। হামলার সময় স্বর্ণালংকার,নগদ টাকা ও মালামাল লুট এবং ভাংচুরে অন্তত লক্ষাধিক টাকার ক্ষতি সাধন করে। এনিয়ে থানায় দায়েরকৃত এজাহারে লিয়াকত আলী,ছমিদুল করিম, মো: মানিক, জুসি আক্তার, ফাতেমা বেগম, শারমীন আক্তারকে অভিযুক্ত করে অজ্ঞাত আরো ১০/১২জনকে দেখানো হয়েছে।
চকরিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি: মো: বখতিয়ার উদ্দিন চৌধুরী জানিয়েছেন, আদালতে আদেশ উপেক্ষা করে জমি জবর দখল এবং মালিক পক্ষের উপর হামলার বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছেন। তা তদন্তে সত্যতা প্রমাণিত হলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

Application to the Ministry of Information for registration.