এটা জাতীয়তাবাদী শক্তির বিজয়: জয়নুল আবেদীন

ঢাকা: ‘এটা জাতীয়তাবাদী শক্তির বিজয়। আইনের শাসন বাস্তবায়নের জন্য আমাদেরকে আইনজীবীরা নির্বাচিত করেছেন’ বলে মন্তব্য করেছেন সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির নবনির্বাচিত সভাপতি ও বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা জয়নুল আবেদীন।

শুক্রবার (২৩ মার্চ) তিনি এ কথা বলেন। সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির ২০১৮-১৯ সালের নির্বাচনে বিএনপি জামায়াত পন্থিরা নিরঙ্কুশ জয় পাওয়ার পর তিনি এক প্রতিক্রিয়ায় এসব মন্তব্য করেন। কোর্ট আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে মোট ১৪টি পদের নির্বাচনে সভাপতি এবং সম্পাদকসহ ১০টিতেই বিজয়ী হয়েছে তারা। বাকি ৪টি পদে জিতেছেন আওয়ামী লীগ-সমর্থিত সম্মিলিত আইনজীবী সমন্বয় পরিষদ মনোনীত প্রার্থীরা।

জয়নুল আবেদীন বলেন, এটা জাতীয়তাবাদী শক্তির বিজয়। আমরা মনে করি বেগম খালেদা জিয়াকে সরকার অন্যায়ভাবে জেলে রেখেছে। তারই প্রতিবাদ স্বরূপ আইনজীবীরা আমাদেরকে নির্বাচিত করেছে এবং আইনের শাসন বাস্তবায়নের জন্য নির্বাচিত করেছে।

সভাপতি পদে পুনঃনির্বাচিত হয়েছেন বিএনপি সমর্থিত ‘জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ঐক্য’ প্যানেলের প্রার্থী ও বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা জয়নুল আবেদীন। তিনি ভোট পেয়েছেন ২ হাজার ৩৬৯ টি। একই পদে ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন পেয়েছে ২ হাজার ৩১৫ ভোট। আর সম্পাদক পদে আবারও নির্বাচিত হয়েছেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন। তিনি পেয়েছেন ২ হাজার ৬১৬ ভোট। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী শেখ মো. মোরশেদ পেয়েছেন ২ হাজার ১৭৫ ভোট।

গত বুধ ও বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের ২০১৮-১৯ সালের নির্বাচনের ভোট গ্রহণ হয়। নির্বাচনে ৬ হাজার ১৫২ ভোটারের মধ্যে সর্বমোট ৪ হাজার ৮৯৬ জন ভোট দিয়েছেন।

বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টায় ভোটগ্রহণ শেষ হয়। এরপর রাত ১০টা থেকে ভোট গণনা শুরু হয়। সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির দু’দিনব্যাপী নির্বাচনের পর ভোট গণনা শেষে শুক্রবার সকালে নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক ফলাফল ঘোষণা করেছেন নির্বাচন উপ-কমিটির আহ্বায়ক সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এ ওয়াই মসিউজ্জামান।

নির্বাচন উপ-কমিটির আহ্বায়ক সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এ ওয়াই মসিউজ্জামান জানান, আইনজীবী সমিতির গুরুত্বপূর্ণ এই দুটি পদসহ কার্যনির্বাহী কমিটির ১৪টি পদের মধ্যে ১০টি পদে জয় পেয়েছেন বিএনপি-জামায়াত সমর্থিত আইনজীবীরা। অন্যদিকে একটি সহ-সম্পাদকসহ মোট ৪টি পদে জয় পেয়েছেন আওয়ামী লীগ সমর্থিত আইনজীবীরা।

তিনি বলেন, গত ২১ ও ২২ মার্চ পর পর দুইদিনই সকাল ১০টা থেকে ভোটগ্রহণ শুরু হয়ে এক ঘণ্টার বিরতি দিয়ে বিকেল ৫টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ চলে। এরপর বৃহস্পতিবার রাত থেকে ভোট গণনা শুরু হয়ে শুক্রবার সকালে গণনা শেষ হয়।

এবারের নির্বাচনে মোট ভোটার ছিলেন ৬১৫২ জন আইনজীবী। তবে ভোট প্রদান করেন ৪৮৬৫ জন। নির্বাচনে ১৪টি পদের বিপরীতে এবার মোট প্রার্থী হয়েছিলেন ৩৩ জন।

নির্বাচনে যথারীতি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন সরকার সমর্থক এবং বিএনপি সমর্থক আইনজীবীরা। ১৪টি পদের বিপরীতে লড়েছেন মোট ৩৩ প্রার্থী। সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির কার্যনির্বাহী কমিটির ১৪ পদের মধ্যে ৭টি সম্পাদকীয় ও ৭টি নির্বাহী সদস্যের পদ রয়েছে। এসব পদের বিপরীতে সরকার সমর্থিত আওয়ামী লীগের বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী সমন্বয় পরিষদ এবং বিএনপি-জামায়াত সমর্থিত জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ঐক্য প্যানেল ছাড়াও আলাদা পাঁচজন মিলে মোট ৩৩ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।

এবারের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি প্যানেল ছাড়াও স্বতন্ত্রভাবে সভাপতি পদে দুইজন এবং সহ-সভাপতি, সম্পাদক ও সদস্য পদে একজন করে প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন।

উল্লেখ্য, ২০১৭-১৮ সেশনের নির্বাচনে ১৪টি পদের মধ্যে সভাপতি ও সম্পাদকসহ মোট আটটি পদে জয়ী হয়েছিল জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ঐক্য প্যানেল (নীল প্যানেল)। অন্যদিকে ছয়টি পদ পেয়েছিল ক্ষমতাসীনদের মোর্চা সম্মিলিত আইনজীবী সমন্বয় পরিষদ (সাদা প্যানেল)।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

Application to the Ministry of Information for registration.