চকরিয়ায় অ্যাডভোকেট রানা দাশগুপ্ত বঙ্গবন্ধু মুজিবকে স্ব-পরিবারে হত্যা করে পাকিস্তানে প্রত্যাবর্তন প্রক্রিয়া এখনো অব্যাহত

এম জাহেদ চৌধুরী,চকরিয়া-পেকুয়া:
বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট রানা দাশগুপ্ত বলেছেন, এই বাংলাদেশ বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশ। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে স্ব-পরিবারে হত্যার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশকে পাকিস্তানে প্রত্যাবর্তন করার যে প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল তা এখনো অব্যাহত রয়েছে। অবসান হয়নি বলেই পাঠ্যপুস্তকে সম্প্রাদায়িকরণ করা হয়। আজকের যে সংবিধান তা বঙ্গবন্ধুর সংবিধান নয়।
গত শুক্রবার রাতে বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ চকরিয়া উপজেলা ও পৌরসভা শাখার ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ চকরিয়া উপজেলা শাখার আহবায়ক রতন বরন দাশের সভাপতিত্বে অনুষ্টিত সভার উদ্ভোধন করেন জেলা ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ট্রাস্টি অধ্যাপক প্রিয়তোষ শর্মা চন্দন। সম্মেলনে স্বাগত বক্তব্য রাখেন চকরিয়া উপজেলা সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির আহবায়ক ও চকরিয়া প্রেসক্লাবের যুগ্ন-সম্পাদক মুকুল কান্তি দাশ।
রানা দাশ গুপ্তা বলেন, আমরা আমাদের সমমর্যদা চাই। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে সময়কালে মুসলিমদের পাশাপাশি এদেশের সংখ্যালঘুরা হায়নাদের হাতে খুন,ধর্ষন, নির্যাতন-লুটপাটের শিকার হয়। ফলে, এদশের এক কোটি মানুষ ভারতে আশ্রয় নেয়। আশ্রয় নেয়া মানুষের মধ্যে ৯৯ লাখই ছিল সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের। এ অমানবিকতা দেখেই বাংলাদেশকে স্বাধীন করতে সহযোগীতার হাত বাড়ায় ভারত।
তিনি আরো বলেন, হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সংগ্রাম অসম্প্রাদায়িক বাংলাদেশ বিনির্মানের সংগ্রাম। কিন্তু দেশ স্বাধীনের পর অসম্প্রাদায়িক চেতনার যে সংবিধান রচনা করে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের বাংলাদেশ গঠনের কথা বলা হয়েছিল তা এখন নেই। সংবিধানে অসম্প্রাদায়িকতা লেখা থাকলেও যোগ করা হয়েছে রাষ্ট্র ধর্ম। এভাবে বিভিন্ন ক্ষেত্রে মৌলবাদীভাব প্রকাশ পাওয়ায় হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের জন্ম। তাই নিজেদের দাবি আদায়ের ক্ষেত্রে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।
অনুষ্টানে আরো বক্তব্য রাখেন, বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ কেন্দ্রীয কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক উত্তম কুমার চক্রবর্তী, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব জাফর আলম, চকরিয়া পৌরসভার মেয়র মো.আলমগীর চৌধুরী, জেলা পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান জাহেদুল ইসলাম লিুট, বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক অরবিন্দু ভৌমিক, সহ-আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক সুপ্তভুষন বড়–য়া, কক্সবাজার জেলা কমিটির কার্যকরী সভাপতি অ্যাডভোকেট দীপংকর বড়–য়া (পিন্টু), সভাপতি মন্ডলীর সভাপতি উদয় শংকর পাল মিটু, বাংলাদেশ ঋষি অদ্বৈতানন্দ পরিষদ চকরিয়া উপজেলা শাখার সভাপতি ডাক্তার তেজেন্দ্র লাল দে, চকরিয়া পুজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি তপন কান্তি দাশ, সাধারণ সম্পাদক বাবলা দেবনাথ, চকরিয়া কেন্দ্রীয় হরি মন্দির উন্নয়ন কমিটির সভাপতি প্রদীপ কান্তি দাশ, হারবাং গুণামেজু বড় বৌদ্ধ বিহারের সভাপতি ভান্তে উ.সুবর্ণ মহাথের, বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ চকরিয়া পৌরসভার শাখার আহবায়ক নারায়ন কান্তি দাশ, সদস্য সচিব সুনিপ দাশ সৌরভ প্রমুখ।
এদিন জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মাধ্যমে এবং বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ চকরিয়া উপজেলা শাখার যুগ্ন-আহবায়ক লিটন কান্তি দাশের পবিত্র গীতাপাঠ, উ.সুবর্ণ মহাথেরের ত্রিপিটক পাঠ ও রেমন্ড হাওলাদারের বাইবেল পাঠের মাধ্যমে অনুষ্টানের শুরু হয়। এসময় নেপালে বিমান দুর্ঘটনায় হতাহতদের স্মরণে এক মিনিট দাঁড়িয়ে নিরবতা পালন করা হয়।
সম্মেলনের প্রথম অধিবেশন শেষে আহবায়ক কমিটি বিলুপ্ত ঘোষনা করে দ্বিতীয় অধিবেশন হয় কক্সবাজার জেলা ঐক্য পরিষদের কার্যকরী সভাপতি দীপংকর বড়–য়া পিন্টুর সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক ট্রাস্টি অধ্যাপক প্রিয়তোষ শর্মা চন্দনের সঞ্চালনায় বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ চকরিয়া উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ও পৌরসভার বিভিন্ন ওয়ার্ড কমিটির প্রতিনিধিদের প্রত্যক অংশগ্রহণে দ্বিতীয় অধিবেশন শুরু হয়। এসময় চকরিয়া উপজেলা শাখায় রতন বরণ দাশকে সভাপতি ও সাংবাদিক মুকুল কান্তি দাশকে সাধারণ সম্পাদক ও দিলীপ সুশীলকে সাংগঠনিক সম্পাদক নির্বাচিত করা হয়। চকরিয়া পৌরসভায় নারায়ন কান্তি দাশকে সভাপতি ও সুনীপ দাশ সৌরভকে সাধারণ সম্পাদক ও লিটন কান্তি দাশকে সাংগঠনিক সম্পাদক নির্বাচিত করা হয়।###

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

Application to the Ministry of Information for registration.