চকরিয়ায় অভিভাবক সমাবেশে – ———————- ইউএনও শিবলী নোমান যে শিক্ষার্থীর অভাব অনটন লাঞ্চনা-বঞ্চনা আছে সেখানে মেধা লুকিয়ে আছে


এম.রায়হান চৌধুরী, চকরিয়া:
কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার ছিকলঘাট স্টেশনস্থ হাজি নুরুলকবির চৌধুরী স্কুল এন্ড কলেজে এক অভিভাবক সমাবেশ অনুষ্টিত হয়েছে।বৃহস্পতিবার বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে বিদ্যালয়ের হলরুম মিলনায়তনে প্রতিষ্টানের প্রতিষ্টাতা চেয়ারম্যান ও লক্ষ্যারচর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান হাজ্বী নুরুল কবির চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্টিত সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নূরুদ্দীন মুহাম্মদ শিবলী নোমান।উক্ত অভিভাবক সমাবেশে প্রধান অতিথি শিবলী নোমান তার বক্তব্য বলেন,যোগ্য ও মেধাবী মানব সম্পদ তৈরীতে চ্যালেঞ্জ নিয়ে প্রথমে অভিভাবককে এগিয়ে আসতে হবে।অভিভাবকরা সচেতন হলেই কোন সন্তান খারাপ পথের দিকে অগ্রসর হবেনা।প্রতিটি বাবা-মায়ের কর্তব্য হলো সন্তানেরা কখন কোথায় যায়,কার সাথে মেলামেশা করে সে দিকে দৃষ্টিকটু রাখা। বর্তমানে স্কুল,কলেজ ও মাদ্রাসা পড়ুয়া কোমলমতি শিক্ষার্থীকে মাদক,জঙ্গীবাদ ও নাশকতামূলকসহ নানা ধরণের ভয়ানক কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে।কোন বাবা-মা সেটা কাম্য করেনা।একজন প্রকৃত অভিভাবক তার সন্তানের প্রতি দৃষ্টি রেখে সমাজের অপরাধ কর্মকান্ড সম্পর্কে তাকে জানানো খুবই প্রয়োজন।তিনি বলেন,উপজেলা প্রশাসনের পক্ষথেকে পুরো উপজেলা জুড়ে শিক্ষার দিক থেকে পিছিয়ে পড়া শিক্ষা প্রতিষ্টানকে শতভাগ সচল করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।প্রতিটি ক্লাসের শিক্ষার্থীকে শব্দের উপর চর্চা ও গণিতের বিষয়ের উপর পরীক্ষার মতো প্রতিযোগিতা চালু করতে হবে।তাহলেই একজন শিক্ষার্থী তা সঠিক ভাবে মেধা নির্ভর হবে।শিক্ষা ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন নিয়ে আসতে হলে গণিত ও ইংরেজী বিষয়ের উপর দক্ষতা বাড়ানো খুবই অপরিহার্য।বিশ্বায়নের সাথে প্রতিযোগিতায় ঠিকে থাকলে হলে এর গুরুত্ব খুবই অপরিসীম।দেশের মধ্যে পড়া-লেখা করতে একজন শিক্ষার্থীর যেখানে অভাব অনটন লাঞ্চনা-বঞ্চনা রয়েছে সেখানে মেধা লুকিয়ে আছে বলে অভিমত ব্যক্ত করেন।স্কুল পড়ুয়া কোন শিক্ষার্থীকে কোন ধরণের স্মার্ট ফোন ব্যবহার করতে দেয়া যাবেনা।বর্তমানে অভিভাবক সচেতনতা অভাবের কারণে কমবয়সী ও স্কুল পড়ুয়া শিক্ষার্থী যেন বাল্য বিবাহের শিকার না হয় সে দিকে নজর রাখতে হবে।এখনো কিছু কিছু অভিভাবক তাদের সচেতনতার অভাব ও টাকার লোভে পড়ে ফলে একটি কমবয়সী মেয়েকে জিম্মি করে বাল্য বিবাহ দেয়া হয়।এ ধরণের কোন ঘটনা দেখা মাত্রই প্রতিষ্টান ও প্রশাসনকে অবহিত করার আহ্বান জানান।তিনি আরো বলেন,বর্তমান সরকারের ইতিবাচক শিক্ষানীতির কারনে দেশে এখন শিক্ষার ব্যাপক প্রসার ঘটেছে।শিক্ষার এই প্রসারকে সত্যিকার ভাবে গুনগতমানের লেখাপড়া নিশ্চিতকল্পে কাজে লাগাতে হবে।দক্ষ মানব সম্পদ তৈরীতে দক্ষ শিক্ষকদ্বারা প্রতিষ্ঠানকে এগিয়ে নিতে হবে।একটি প্রতিষ্ঠানের সুনাম অর্জনের পেছনে শিক্ষকদের অবদান সবচেয়ে বেশি।শিক্ষকরা ভাল ভাবে লেখাপড়া নিশ্চিত করলে দ্রুত ওই প্রতিষ্ঠানের সুনাম চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ে।বিশ্বায়নের সাথে তাল মিলিয়ে সব ধরণের প্রতিযোগিতায় নতুন প্রজন্মের শিক্ষার্থীদেরকে সফলতা দেখাতে হবে বলে তিনি সকলের প্রতি আহ্বান জানান। অভিভাবক সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, লক্ষ্যারচর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গোলাম মোস্তফা কাইছার,আমজাদিয়া রফিকুল উলুম ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ, শিক্ষানুরাগী ও সমাজ সেবক মৌলভী ছাবের আহমদ,লক্ষ্যারচর ইউপি সদস্য আবুল কালাম,ছদরুল হক চৌধুরী প্রমূখ।এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন,সমাজ সেবক মো: ওসমান গণি,বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক,সাংবাদিক, অভিভাবক-অভিভাবিকা, শিক্ষক-শিক্ষিকাসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যাক্তিবর্গ ও সুধীজন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

Application to the Ministry of Information for registration.