চকরিয়া হারবাংয়ের পরিকল্পনা পরিদর্শক নাছিরের অপর্কমের শেষ কোথায়!

চকরিয়া প্রতিনিধি
কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার হারবাং ইউনিয়নে কর্মরত পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শক নাছির উদ্দিনের যেন অপকর্মের অন্ত: নেই। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে, জাল-জালিয়াতির আশ্রয় নিয়ে চাকুরী নেয়া! চাকুরীতে নিয়োগ পাওয়ার পর থেকে কোন কিছুরই তোয়াক্কা করেন না! স্থানীয় এক নেতা এবং জনপ্রতিনিধির আস্কারায় এই নাছির দিন দিন বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। নাছিরের বিরুদ্ধে ইউনিয়ন স্বাস্থ্য পরিবার পরিকল্পনা অফিসের সম্পদ লুটপাটসহ যেন অভিযোগের অন্ত:নেই।
স্থানীয়রা জানান, চকরিয়া উপজেলার হারবাং ইউনিয়নের বাজার পাড়া গ্রামের বাসিন্দা নাছির উদ্দিন বর্তমানে ওয়ার্ড আওযয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে রয়েছে। পাশাপাশি হারবাং ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কেন্দ্রে পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শক হিসেবে সরকারী চাকরীতে কর্মরত রয়েছে। যা নিয়মের পরিপন্থী। সরকারী চাকরিজীবি কখনো রাজনৈতিক দলের পদ পদবীতে থাকতে পারে না।
এলাকাবাসীর সূত্রে জানা গেছে, সম্প্র্রতি হারাবং ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেও গাছ কেটে নিয়ে হারবাং বাজারের জনৈক কাঠ ব্যবসায়ী জাফর আলম আলম সওদাগরের সমিলে বিক্রি করে টাকা হাতিয়ে নিয়েছে পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শক নাছির উদ্দিন! সরকারী জায়গার গাছ কাটতে হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমতির প্রয়োজন হয়। বিনা টেন্ডারে সরকারী যে কোন স্থাপনার গাছ কেটে বিক্রি করার নিয়ম নাই। আর গাছ কাটার পূর্বে বন বিভাগের স্থানীয় বিট কর্মকর্তার অনাপত্তি সনদপত্রের প্রয়োজন হয়। এসব নিয়ম না মেনেই হারবাং ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের গাছ কেটে বিক্রি করে দিয়েছে নাছির উদ্দিন।
জালিয়াতি করে চাকুরীতে নিয়োগ জালিয়াতি ও প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে নাছির উদ্দিন হারবাং ইউনিয়ন পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শক পদে নিয়োগ পেয়েছেন। জালিয়াতির মাধ্যমে নিয়োগ পেয়ে চাকরি করে যাচ্ছেন গত চার বছর ধরে। কিন্তু তার নিয়োগ প্রক্রিয়াটি ছিলো সম্পূর্ন অবৈধ। এ ঘটনাটি ফাঁস হওয়ার পর তার নিয়োগ নিয়ে প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে এলাকাবাসির মধ্যে। এমন কী নিয়োগ পরীক্ষায় অংশ নেওয়া অপর চাকরি প্রার্থীদের মধ্যেও চরম অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তার অবৈধ নিয়োগ বাতিলের জন্য ভুক্তভোগী একাধিক চাকরি প্রার্থী সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে বলে জানা গেছে।
অভিযোগে জানা যায়, কক্সবাজার জেলা পরিবার পরিকল্পনা বিভাগ চকরিয়া উপজেলা হারবাং ইউনিয়নের পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শক পদে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছিল চার বছর আগে। এরই প্রেক্ষিতে হারবাং ইনিয়নের স্থায়ী বাসিন্দা এমন ৮ জন প্রার্থী চাকরির আবেদন করেন। পরে ২০১৪ সালের ১৯ ডিসেম্বর কক্সবাজার বায়তুশরফ জব্বারিয়া একাডেমিতে ৭জন প্রার্থী লিখিত পরীক্ষায় অংশ নেন। কিন্তু ওই লিখিত পরীক্ষায় নাছির উদ্দিন যার প্রবেশপত্র (রোল নং ২৬১০০০৪) অংশ গ্রহণ করেনি। যারা লিখিত পরীক্ষায় পাস করেছে পরবর্তীতে তারা মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নেয়। কিন্তু সেখানে নাছির উদ্দিন লিখিত পরীক্ষায় অংশগ্রহণ না করে মৌখিক পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করলে অন্য প্রার্থীদের মধ্যে প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। এ অবস্থায় অপর চাকরি প্রার্থী মহিউদ্দিন ও নোমান চৌধুরী সাজ্জাদ প্রতিকার চেয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বরাবরে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
ওই দুই চাকরী প্রার্থী জানান, কক্সবাজার জেলা পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের তৎকালীন উপ-পরিচালক ডা: দীপক তালুকদার মোটা অংকের উৎকোচের বিনিময়ে প্রতারণার আশ্রয় ও দূর্নীতি করে নাছির উদ্দিনকে নিয়োগ দেন। ২০১৬ ইংরেজীর ২০ জুন নাছির উদ্দিন হারবাং ইউনিয়ন পরিবার পরিকল্পনা বিভাগে পরিদর্শক পদে যোগদান করেন। সেই থেকে অদ্যবধি পর্যন্ত নাছির চাকুরীতে বহাল রয়েছে।
এ ঘটনায় চাকরি প্রার্থী ও হারবাংবাসী যথাযথ তদন্তপূর্বক জালিয়াতকারী নাছির উদ্দিনের নিয়োগ বাতিল দাবী করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

Application to the Ministry of Information for registration.