চকরিয়া বিএমচর ইউপি কার্যালয়ে হামলা ও ভাংচুর, চেয়ারম্যানসহ আহত ৪

চকরিয়া প্রতিনিধিঃ
চকরিয়ার ভেওলা মানিকচর (বিএমচর) ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে ও চেয়ারম্যানের উপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। হামলায় চেয়ারম্যানসহ ৪জন গুরুতর আহত হয়েছে। পুলিশ তাৎক্ষনিকভাবে ঘটনাস্থলে পৌছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনে। এসময় স্থানীয় জনতার কাছে হামলাকারী ফরহাদুল ইসলাম (২৫) আটক হলেও মোশারফ হোসেন রুবেল ও সাজ্জাদ হোসেন পালিয়ে যায়। পরে ফরহাদ কে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছে স্থানীয় জনতা।
এঘটনায় চকরিয়ার ভেওলা মানিকচর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান এস.এম জাহাঙ্গীর আলম (৫০) বাদী হয়ে লিখিত এজাহার দায়ের করেন। এতে আসামী করা হয়েছে; ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডের বেতুয়ারকুল গ্রামের মীর কাশেম প্রকাশ মীরু’র পুত্র ফরহাদুল ইসলাম (২৫), মােরশেদ হােসন রুবেল (৩৫) ও সাজ্জাত হোসেন রানা(২৮) সহ অজ্ঞাতনামা আরো ২/৩জনকে।
অভিযোগে জানাগেছে, উল্লেখিত আসামীগন এলাকার সন্ত্রাসী ও মাস্তান প্রকৃতির লােক। গত ২৭মে’২০২১ইং আসামীগণ অনলাইনে জন্ম নিবন্ধন কার্ডের জন্য আবেদন ফরম পূরণ করে চেয়ারম্যানের ব্যক্তিগত ড্রাইভার শহিদুল মােত্মফা রুবেলের কাছে গিয়ে অযৌক্তিকভাবে বাকবিতন্ডা করেন। নানাবিধ কাগজপত্র অসম্পূর্ণ থাকা সত্ত্বেও আসামীদের অন্যায় আবদারে ইউপি কার্যালয় থেকে জন্ম নিবন্ধন ফরম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে পাঠিয়েও দেন। সর্বশেষ ঘটনার দিন ৩০মে’২০১১ইং দুপুর অনুমানিক ১২ ঘটিকার সময় আসামীগণ অবৈধ অস্ত্রশস্ত্র সহকারে ইউপি কার্যালয়ের ভিতরে প্রবেশ করে অতর্কিতভাবে সন্ত্রাসী তাণ্ডব চালিয়ে ইউপি কার্যালয়ে বিভিন্ন আসবাবপত্র ভাংচুর ও তান্ডব চালিয়ে অনুমানিক ২০ হাজার টাকার ক্ষতি সাধন করে। এক পর্যায়ে চেয়ারম্যানের ব্যক্তিগত ড্রাইভার শহিদুল মােস্তুফা রুবেলকে টানা হেচড়া করে ইউপি কার্যালয় হতে বের করে আক্রমণ করে। তাকে মাথা লক্ষ্য কোপ মেরে গুরুতর ও হাড়ভাঙ্গা জখম করে। এক পর্যায়ে শহিদুল মোস্তফা
রুবেলকে এলােপাতাড়ী কুপিয়ে জখম করে রক্তাক্ত অবস্থায় অপহরণ করার চেষ্টা চালায়। তার চিৎকারে চেয়ারম্যান ও চৌকিদাররা শহিদুল মােস্তফা রুবেলকে উদ্ধারের চেষ্টা করলে আসামীরা চেয়ারম্যানকে হত্যার কোপ মেরে ঘাড়ে ও বাম হাতে মারাত্মক জখম করে। তাকে উদ্ধারে ভাতিজা আলম এগিয়ে গেলে তাকে জখম করে বাম হাতের কনিষ্ঠ আঙ্গুলের হাড় ভেঙ্গে ফেলে। হামলাকারীরা পরিষদের চৌকিদার মহিউদ্দিনকে বেধম মারধর করে।
এসময় লুট করে নিয়ে যায় নগদ ৪৭হাজার টাকা, ভাতিজা আলমের ব্যবহারের একটি স্যামসাং এম-৪৫ মলের ৩৯ হাজার টাকা মূল্যের মােবাইল সেট, চৌকিদার মহিউদ্দিনের ব্যবহারের একটি স্যামসাং জে২ মডেলের ১০ হাজার টাকা মূল্যের মােবাইল সেটসহ প্রয়োজনীয় মালামালা। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় আহত চেয়ারম্যান এস.এম জাহাঙ্গীর আলম (৫০), ভাতিজা আলম (২১), ড্রাইভার শহিদুল মােস্তফা কবেল (২৩), মহিউদ্দিন চৌকিদার (৩১)কে উদ্ধার। করে চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
ভেওলা মানিকচর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান এস.এম জাহাঙ্গীর আলম জানিয়েছেন, অভিযুক্তরা অদৃশ্য শক্তির ঈশারায় অতর্কিতভাবে পরিষদে ঢুকে সন্ত্রাসী কায়দায় হামলা ও ভাংচুর চালিয়েছে। সরকারি একটি প্রতিষ্ঠানে এ ধরণের হামলা খুবই ন্যাক্কারজনক। তিনি এ জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী,স্বরাস্ত্রমন্ত্রী, স্থানীয় সরকার মন্ত্রী, সিনিয়র সচিব, বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক, কক্সবাজারের পুলিশ সুপার ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

চকরিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শাকের মোঃ যুবায়ের বলেন, ইউপি কার্যালয় ও চেয়ারম্যানের উপর হামলার ঘটনায় তাৎক্ষনিকভাবে ঘটনাস্থলে পুলিশের দুইটি টীম পাঠানো হয়েছে।এঘটনায় চেয়ারম্যান এস.এম জাহাঙ্গীর আলম বাদী হয়ে থানায় এজাহার জমা দিয়েছেন। বিষয়টি তদন্তের জন্য মাতামুহুরী তদন্ত কেন্দ্র ও থানার একজন উপপরিদর্শক সহকারে তদন্ত করছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

Application to the Ministry of Information for registration.