কক্সবাজার শহরে আলোকায়ন ও নিরাপদ সুপেয় পানি সরবরাহে ১৯৯ কোটি টাকার প্রকল্প গ্রহণ

শাহজাহান চৌধুরী শাহীন, কক্সবাজার ।।

পর্যটনের পুরো কক্সবাজার শহরে এলইডি বাতি দিয়ে আলোকায়ন এবং শহরের প্রতিটি বাড়ি ও প্রতিষ্ঠানে নিরাপদ সুপেয় পানি সরবরাহের জন্য দুটি পৃথক প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে।
কক্সবাজার শহরে যে সব রাস্তা ও অলিগলি দিয়ে পর্যটকেরা যাতায়াত করে তাদের সুবিধা ও নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে আলোকায়নের জন্য ৪৯ কোটি টাকা ব্যয়ে প্রকল্প গ্রহণ করা হয়।
এ ছাড়াও প্রায় ১৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে কক্সবাজারে ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্টের মাধ্যমে বাঁকখালী নদীর ভূ-উপরিস্থ পানি ট্রিটমেন্ট করে কক্সবাজার শহরের প্রতিটি বাড়ি ও প্রতিষ্ঠানে নিরাপদ সুপেয় পানি সরবরাহ করা হবে।
স্থানীয় সরকার বিভাগের সিনিয়র সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানিয়েছেন।
তিনি আরো জানান, পর্যটন শহরে আলোকায়ন প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হলে কক্সবাজার শহরের সৌন্দর্য বৃদ্ধি পাবে এবং দিনেরাতে সমানভাবে নিরাপদে পর্যটক ও স্থানীয় জনসাধারণ চলাচল করতে পারবে।
কক্সবাজারের সন্তান, সিনিয়র সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ আরো বলেন, কক্সবাজার শহরে এখন প্রায় ৫ লক্ষ লোকের বসবাস। তার উপর বন্ধের দিনে ৪/৫ লক্ষ পর্যটক কক্সবাজার আগমন করে থাকে। কোন কোন জায়গায় আবার অবৈধভাবে রোহিঙ্গাদের বসতিও গড়ে উঠছে। আবার ১৯৯১ সালের প্রলয়ংকরী ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসে বসতভিটা হারিয়ে কুতুবদিয়া, মহেশখালী সহ উপকূলীয় এলাকা থেকে অনেক মানুষ কক্সবাজার শহরে বসতি গড়েছেন। ফলে কক্সবাজার শহরে জনসংখ্যার একটা বাড়তি চাপ রয়েছে। এজন্য পরিকল্পিতভাবে কক্সবাজার শহরকে সাজানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সিনিয়র সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ বলেন, প্রায় একশ ৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে কক্সবাজারে ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্টের মাধ্যমে বাঁকখালী নদীর ভূ-উপরিস্থ পানি ট্রিটমেন্ট করা হবে। এ প্ল্যান্টের মাধ্যমে
কক্সবাজার শহরের প্রতিটি বাড়ি ও প্রতিষ্ঠানে নিরাপদ সুপেয় পানি সরবরাহ করা হবে।
তিনি আরো বলেন, এখন শহরবাসী নলকূপ ও গভীর নলকূপের পানি পান করে থাকেন। শুষ্ক মৌসুমে শহরের অনেক জায়গায় সুপেয় পানির জন্য হাহাকার পড়ে যায়। এ সমস্যার স্থায়ী সমাধানে এই ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যানটি স্থাপন করা হচ্ছে।
সিনিয়র সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ আরও বলেন, আমার জন্ম, শৈশব, কৈশোর, লেখাপড়া, বর্তমানে বসবাস সহ সবকিছুই কক্সবাজারে শহরে। তাই স্বাভাবিক ভাবেই কক্সবাজার শহরের প্রতি আমার একটা আলাদা দরদ রয়েছে। তিনি বলেন, স্থানীয় সরকার বিভাগের সিনিয়র সচিব হিসাবে দায়িত্বে আছি বলেই কক্সবাজার শহরের জন্য এসব উন্নয়ন কার্যক্রম হাতে নিতে পারছি। অন্য মন্ত্রনালয়ের সচিব হলে সদিচ্ছা থাকলেও হয়ত এত সহজে কক্সবাজার শহরের উন্নয়ন কাজের জন্য উদ্যোগ নিতে পারতাম না। এসব প্ল্যান্ট বাস্তবায়নে তিনি সকলের সহযোগিতাও কামনা করেন।
…..
শাহজাহান চৌধুরী শাহীন,
কক্সবাজার।
০১৭৯৪৭৩৭২৭২

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

Application to the Ministry of Information for registration.