কক্সবাজারের ফুলছড়িতে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ : দেড় কোটি টাকার বনভূমি উদ্ধার

কক্সবাজার প্রতিনিধি, ২৯ মার্চ।।

কক্সবাজার উত্তর বনবিভাগের ফুলছড়ি রেঞ্জের চকরিয়া ফুলছড়ি বনবিট এলাকায় কোটি টাকার সামাজিক বনায়নের চারাগাছ ধ্বংস করে গড়ে তোলা অবৈধ বসতি উচ্ছেদ করে অন্তত দেড় কোটি টাকা মূল্যের ৬ একর বনভূমি উদ্ধার করা হয়েছে।
স্থানীয় যুবলীগ নামধারী দুবৃত্তরা কোটি টাকার বনায়ননের চারা ধ্বংস করে দেড় কোটি টাকার বনভুমি প্লট আকারে বিক্রি করে সেখানে সশস্ত্র পাহারায় মাটির ও কাচা ঘর নির্মাণ করেছিল।

সোমবার (২৯ মার্চ) সকাল ১০ টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত সেখানে যৌথ উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

চকরিয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ওনির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট তানভীর হোসেন এবং কক্সবাজার উত্তর বন বিভাগের সহকারী বন সংরক্ষক সোহেল রানার নেতৃত্বে বনবিভাগ ও পুলিশ যৌথভাবে এ অভিযান চালায়।
বনবিভাগের এধরনের অভিযানকে সাধুবাদ জানিয়েছে স্থানীয় বাসিন্দারা।
তবে উচ্ছেদের পর সন্ধ্যার সময় ফাঁকাগুলি ছুঁড়ে ভীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টির পর আবারও দখলে নিয়েছে দখলবাজ চক্র।

উচ্ছেদ অভিযানে আরও অংশ নেন ফুলছড়ি ও ফাঁসিয়া রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. মাজহারুল ইসলাম, শহর রেঞ্জ কর্মকর্তা ও বনবিভাগের বিশেষ টহল দলের ওসি একেএম আতা এলাহী, মেহের ঘোনা রেঞ্জ কর্মকর্তা মোঃ মামুন মিয়া, ঈদগড় রেঞ্জ কর্মকর্তা মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান, বাঘখালী রেঞ্জ কর্মকর্তা মোঃ সরওয়ার জাহান (ফরেস্টার), পিএমখালী রেঞ্জ কর্মকর্তা মোঃ আবদুল জব্বার, জোয়ারিয়া নালা রেঞ্জ কর্মকর্তা সুলতান মাহমুদ হাওলাদার, ঈদগাও রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. আনোয়ার হোসেন খাঁন, ফুলছড়ি বনবিট কর্মকর্তা ফারুক আহমেদ বাবুলসহ বিশেষ টহল দল, সকল রেঞ্জের দুইশতাধিক বনকর্মী ও ভিলেজার এবং চকরিয়া থানার এসআই মাইনদ্দিনের নেতৃত্ব একদল পুলিশ।

ফুলছড়ি ও ফাঁসিয়াখালী রেঞ্জ কর্মকর্তা মো.মাজহারুল ইসলাম
জানান, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক দলের নাম ভাঙ্গিয়ে একটি প্রভাবশালী মহল ফুলছড়ি রেঞ্জের আওতাধীন ফুলছড়ি বিট সংলগ্ন এলাকায় ২০১৮-২০১৯ সালে (দ্বিতীয় আর্ত) সামাজিক বনায়নের চারাগাছ ধ্বংস করে বনভূমিতে অবৈধ বসতি নির্মাণ করে জোর দখলের চেষ্ঠা চালায়। সোমবার অবৈধ দখলে থাকা এই বনভূমি উদ্ধারে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো.তহিদুল ইসলামের কঠোর নির্দেশনায় পরিচালিত এই অভিযানে একাধিক নির্মাণাধীন মাটির তৈরী বাড়ি ঘর ও বিভিন্ন ধরনের কাচা স্থাপনা গুড়িয়ে দিয়ে উচ্ছেদ করে প্রায় ৬ একর বনভূমি উদ্ধার করা হয়। যার বাজার মূল্য প্রায় কয়েক কোটি টাকা।
বন বিভাগের বনভূমির সর্বোচ্চ সুরক্ষায় এই ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন ফুলছড়ি বন বিট কর্মকর্তা ফারুক আহমেদ বাবুল।
স্থানীয়রা জানান, ইসলামপুর ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি ওসমান আলী মোরশেদ, সাধারণ সম্পাদক নুরুল আবছার শাহীনেট নেতৃত্বে এহেছান, নুরুল আবছার, কামরুল হাসান সবুজ, আবছার কামাল, দেলোয়ার হোসেন মনি, আবুল কালাম কালা সোনা, রেজাউল করিম, আনোয়ারসহ যুবদল, ছাত্রদল, ছাত্র শিবিরের ২০/৩০ জন সশস্ত্র দুবৃত্ত বনায়নের কোটি টাকার চারাগাছ কেটে বনভুমি দখলে নেয়। পরে বনভুমি প্লট আকারে বিভিন্ন ব্যক্তিকে বিক্রি করে প্রায় দেড় কোটি টাকা অবৈধ আয় করে ওসমান আলী মোরশেদ ও আবছার কামাল সিন্ডিকেট। তারা প্রতিদিন সশস্ত্র পাহারায় মাটির ঘর নির্মাণ কাজ করতে সহযোগিতা দিয়ে আসছিল। সেখানে বেশকিছু স্থায়ী মাটিরঘর ও পলিথিনের কাচাঘর নির্মাণ করা হয়েছিল। ওই সব ঘরে রাতে বেলায় মাদকের আসর ও অসামাজিক কার্যকলাপও চলে আসছিল। রাজনৈতিক পরিচয়ে এধরনের দেশদ্রোহী কাজের বিরোধিতা করে আসছিল স্থানীয় সচেতন মহল।
স্থানীয়রা আরও জানান, সোমবার দুপুর পর্যন্ত উপজেলা প্রশাসন ও বনবিভাগের যৌথ অভিযানের পর সন্ধ্যায় ফাঁকাগুলি ছুঁড়ে ভীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টির পর আবারও দখলে নিয়েছে দখলবাজ ওসমান আলী মোরশেদ ও আবছার চক্র।

……..
শাহজাহান চৌধুরী শাহীন,
কক্সবাজার, ২৯ মার্চ,
০১৭৯৪৭৩৭২৭২

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

Application to the Ministry of Information for registration.