চকরিয়ায় এক প্রতিবন্ধীর নামে বরাদ্দকৃত চিংড়িঘের দীর্ঘ ২১ বছর পর দখল পেলেও ফের বেদখলের হুমকি সহোদরের

চকরিয়া প্রতিনিধি:
কক্সবাজারের চকরিয়ায় এক আপন সহোদরের অত্যাচার, নির্যাতন,হুমকি ও দখল-বেদখলে অতিষ্ট হয়ে পড়েছে মােহাম্মদ হারুনুর রশিদ নামে অপর এক প্রতিবন্ধী সহোদর। এমনকি ওই প্রতিবন্ধীর নামে বরাদ্দকৃত ১০একর চিংড়ি ঘের দীর্ঘ ২১বছর পর সম্প্রতি দখলে নিলেও ঘের থেকে ফের উচ্ছেধ করে জবর দখলে নেয়ার চেষ্টা ও হুমকি ধমকি দিয়ে যাচ্ছে। ফলে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে ও সন্তানদের লেখাপড়াসহ ভবিষ্যত নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়েছে অসহায় প্রতিবন্ধী পরিবারটি।

চকরিয়া উপজেলার সাহারবিল ইউনিয়নের ৬ নং ওয়ার্ডের মাইজ ঘােনা গ্রামের মৃত জাকের আহামদের পুত্র মােহাম্মদ হারুনুর রশিদ স্থানীয় সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, আমি একজন অসহায় গরিব, অত্যচারিত প্রতিবন্ধী ব্যক্তি। আমার আপন সহোদর দলিলুর রহমান বিগত ১৯৮৫ইং সালে দান সূত্রে পাওয়া ৪০ শতক জমি বিক্রয় করে আত্বসাৎ করে। বিগত ২০০০ সালে কক্সাজার জেলা প্রশাসকের অধীনে চকরিয়ার বদরখালী মৌজায় ১০ বছরের জন্য ১০ একর চিংড়ি প্রজেক্ট ইজারা দেন। বরাদ্দ পাওয়ার পর থেকে আমার বড় ভাই দলিলুর রহমান উক্ত চিংড়ি প্রজেক্টটি ভোগ দখলে রেখেছেন। একদিনের জন্যও আমাকে উক্ত প্রজেক্ট ভোগ করতে দেয়নি। অথচঃ তার নামে ও তার পরিবারের সদস্যদের নামে অসংখ্য চিংড়ি প্রজেক্ট বরাদ্দ পেয়ে ভোগ দখলে রয়েছে।
তিনি জানান, আমার দুই মেয়ে , এক ছেলে। বড় মেয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ম্যানেজম্যান্ট ৩য় বর্ষের মেধাবী ছাত্রী। অপর মেয়ে ৭ম শ্রেণীতে। এক ছেলে ঢাকা মিরপুর বাংলা কলেজে ২য় বর্ষের ছাত্র। আমি জীবিকা নির্বাহ ও সন্তানদের ভরণপোষনের তাগিদে সামান্য পরিত্যক্ত জমিতে কচু ক্ষেত করি এবং লজ্জার কারণে এলাকায় না করে সাতকানিয়া, পটিয়া ও চন্দনাইশ থানা এলাকায় গিয়ে কামলার কাজ করি। অন্যদিকে, আমার নামীয় চিংড়ি ঘের জবর দখলে রাখার পাশাপাশি ভাই দলিলুর রহমান বিগত ১০জুলাই’১৮ ইংরেজী আমার পরিবারের বসবাসের একমাত্র সম্বল ঝুপড়ি ঘরটিও ভেঙ্গে দিয়ে দখলে নেয়ার চেষ্টা চারিয়েছে। ফলে বর্ষা মৌসুমে বৃষ্টির পানি থেকে ও শীত নিবারণে দুর্বিসহ জীবন যাপন করতে হচ্ছে। ঘর মেরামতের জন্য মেস্ত্রী নিয়ে গেলে তাদের তাড়াইয়া দেয়। ভাই দলিল প্রভাবশালী, অর্থশালী ও লোভী হওয়ায় অন্যভাইয়েরাও তার সাথে জোট বেধেছে। এনিয়ে থানায় অনেকবার বৈঠকও হয়েছে। স্থানীয় ভাবেও শালীশ হয়েছে ।
ভুক্তভোগি মােহাম্মদ হারুনুর রশিদ জানান, কক্সবাজারের সদ্য সাবেক মাননীয় জেলা প্রশাসক কামাল হােসেনকে বিষয়টি অবহিত করলে তিনি চিংড়ি ঘেরটি আমাকে দখল বুঝিয়ে দেওয়ার জন্য চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি)কে নির্দেশনা দিয়েছেন। এর প্রেক্ষিতে ভেওলা ভূমি অফিসের তহশীলদার আবুল মনসুরকে চিংড়ি ঘেরটি পরিমাপ করে দখল আমাকে দখল বুঝাইয়া দেওয়ার জন্য বলেন। জমি পরিমাপে সার্ভেয়ার খরচ বাবৎ ৫হাজার টাকাও প্রদান করেন। নানা অজুহাতে প্রজেক্টের দখল বুঝিয়ে সম্প্রতি দলিলুর রহমানের কবল থেকে দীর্ঘ ২১বছর পর চিংড়ি ঘেরটি দখলমুক্ত করে জনৈক নজরুল ইসলাম মনুকে লাগিয়ত করেন। ২১ বছর ধরে অবৈধভাবে বিপুল অর্থ আত্ত্বসাৎ করেছে। তিনি প্রশাসনের মাধ্যমে আত্মসাতকৃত অর্থ ফেরত চেয়েছেন। একই সাথে বিক্রিত এক কানি জমির টাকাও বর্তমান বাজার মূল্যে ফেরত এবং পৈত্রিক সম্পত্তির ন্যায্য বন্ঠনের দাবী জানিয়েছেন।

ভূক্তভোগি মােহাম্মদ হারুনুর রশিদ অভিযোগ করেন, তার সহোদর দলিলুর রহমানের গ্রাস থেকে ১০একর চিংড়ি ঘের দখলমুক্ত করার পর ২৮ফেব্রুয়ারী’২১ থেকে ফের জবর দখলে নিতে বরাদ্দ পাওযা ঘের মালিক মােহাম্মদ হারুনুর রশিদ ও লাগিয়ত গ্রহীতা নজরুল ইসলাম মনুকে হুমকি ধমকি দিচ্ছে। এমনকি প্রাণনাশেরও ভয় দেখানো হচ্ছে বলে সংবাদ সম্মেলন করে অভিযোগ করেন। বর্তমানে ভাইয়ের হুমকিতে জীবন মৃত্যু নিয়ে চরম নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছেন বলে জানান।
চকরিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শাকের মোহাম্মদ যুবায়ের বলেন, বিষয়টি তদন্তাধীন আছে। নতুন করে কেউ হুমকি ধমকি দেয়া হলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।###

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

Application to the Ministry of Information for registration.