সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বৈষম্য নিরসনসহ গ্রেড সংখ্যা কমানোর দাবি

সরকারি চাকরিজীবীদের গ্রেড সংখ্যা কমানোর দাবি

কক্স টিভি ঃ

সরকারি চাকরিজীবীদের চলমান বেতন বৈষম্য নিরসন করে গ্রেড সংখ্যা কমানো দাবি জানিয়েছে ‘সরকারি চাকরিজীবী গ্রেড ১১-২০ অধিকার ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন। একইসঙ্গে চাকরিতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার জোর দাবিসহ ৮ দফা দাবি জানায় সংগঠনটি।

শুক্রবার (২৯ জানুয়ারি) সংগঠনটির এক আলোচনা সভায় এসব দাবি জানান ফোরামের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি লুৎফর রহমান। রাজধানীর সেচ ভবনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবর্ষ উপলক্ষে এ আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।

লুৎফর রহমান বলেন, সারাদেশে একযোগে কর্মবিরতি, গণস্বাক্ষর কর্মসূচি, প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপিসহ ৮ দফা দাবিতে আমাদের আন্দোলন দীর্ঘ দিনের। বঙ্গবন্ধু ঢাকা বিশ্ববিদলয়ের চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীদের জন্য জেল খেটেছেন। তার কন্যা বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে তৃতীয়-চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীদের অধিকার আদায় হবে বলেই বিশ্বাস করে এই সংগঠন।

নারায়ণগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য ও বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম বাবু বলেন, ১১ থেকে ২০ গ্রেডের সরকারি চাকরিজীবীদের ৮ দফা দাবি যৌক্তিক। তাই এই দাবি বাস্তবায়নে একজন সংসদ সদস্য হিসেবে সংসদে আমি ভূমিকা রাখব। দেশের সমস্ত সরকারি প্রতিষ্ঠানে যদি শতভাগ সেবা নিশ্চিত করতে হয় তাহলে তৃতীয়-চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীদের অধিকার সংরক্ষণ জরুরি।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রের সমস্ত সরকারি প্রতিষ্ঠানে সেবা নিশ্চিত করতে ১১ থেকে ২০ গ্রেডের সরকারি চাকরিজীবীদের মূল্যায়ন করতে হবে। তাদেরকে অবমূল্যায়ন করে সরকারি প্রতিষ্ঠানের সেবা নিশ্চিত সম্ভব নয়। বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে হলে সরকারি চাকরিজীবীদের বিশেষ করে ১১-২০ গ্রেডের কর্মচারীদের গুরুত্ব সবার আগে বিবেচনা করতে হবে।

এ সময় আট দফা দাবি জানানো হয়। তাদের দাবির মধ্যে ছিল- চাকুরিজীবিদের চলমান বেতন বৈষম্য নিরসন করা, বেতন স্কেলের পার্থক্য সমহারে নির্ধারণ, দ্রব্যমূল্যের ঊধ্র্বগতির কারণে ভাতাসমূহ পুনঃনির্ধারণ, টাইম স্কেল সিলেকশন গ্রেড পুর্নবহাল, সচিবালয়ের মতো পদ-পদবি, ব্লক পদ বিলুপ্ত করে সকল পদে পদোন্নতি, এক ও অভিন্ন নিয়োগবিধি প্রণয়ন, নিম্ন বেতন ভোগীদের রেশন এবং শতভাগ পেনশন সুবিধা প্রদান।

সভায় স্বাগত বক্তৃতা করেন ফোরামের সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুল হাসান। সভায় উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় কার্যকরি সভাপতি ফাহাদুর রহমান রাজু, সিনিয়র সহ-সভাপতি মো. শফিকুল ইসলাম, সহ-সভাপতি মো. জাহাঙ্গীর আলম, মো. মোফাজ্জল হোসেন, মো. রফিকুল ইসলাম মামুন, অর্থ সম্পাদক মো. আব্দুর রাজ্জাক প্রমূখ।

আলোচনা সভা শেষে ঢাকা মহানগর নির্বাহী পরিষদের অভিষেক অনুষ্ঠিত হয়। নবনির্বাচিত ৭১ সদস্যবিশিষ্ট কমিটির সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন মোহাম্মদ আলী, সিনিয়র সহ-সভাপতি মো. ছারোয়ার হোসেন তালুকদার ও সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান পান্না, যুগ্ম-সম্পাদক, মো. আরিফুল ইসলাম ও মো. মনির হোসেন এবং সাংগঠনিক সম্পাদক মো. ওহিদ উল্লাহ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

Application to the Ministry of Information for registration.