কুতুবদিয়ায় সাজাসহ ডজন মামলার পলাতক আসামী মনজুর আলম গ্রেফতার

কুতুবদিয়ায় সাজাসহ ডজন মামলার পলাতক আসামী মনজুর আলম গ্রেফতার

ছবি ঃ মনজুর আলম

কুতুবদিয়া প্রতিনিধিঃ
কুতুবদিয়ায় সাজাসহ প্রায় ডজন মামলার দীর্ঘদিনের পলাতক আসামী মনজুর আলমকে গ্রেফতার করেছে কুতুবদিয়া থানা পুলিশ। ওয়ারেন্টভূক্ত আসামী মনজুর আলম প্রক্যাশ্যে দিবালোকে চলাফেরাসহ সাইকেল চালিয়ে ঘুরাফেরা করলেও নানা কৌশল অবলম্বন করায় পুলিশ বহুবার গ্রেফতার অভিযান পরিচালনা করেও ব্যর্থ হয়। সর্বশেষ ১৫ নভেম্বর দুপুরে নিজ বাড়িতে অবস্থান করার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কুতুবদিয়া থানার  এস আই আব্দুল্লাহ আল ফারুকের নেতৃত্বে সঙ্গীয় অফিসার নিয়ে অভিযান পরিচালনা করেন। এ সময় মনজুর পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পালানোর চেষ্টা করে। ধাওয়া করে পুলিশ তাকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।

মনজুর আলমের খুঁটির জোর কোথায়? কি তার পরিচয়?
কুতুবদিয়ায় সাজাসহ ডজন মামলার আসামী কে এই মনজুর? বেরিয়ে আসছে নানা চাঞ্চল্যকর অপকর্মের তথ্য। কুতুবদিয়ায় জমির বিরোধে মনজুর পিটিয়ে রক্তাক্ত করেছিল কক্সবাজার আঞ্চলিক বেতার কেন্দ্রের চাকুরীজীবি আপন সহোদর রিদওয়ানকে । আহত ছোট ভাইকে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে জেলা সদর হাসপাতালে রেফার করা হয়। গত ২৭ ডিসেম্বর’২০১৯ দুপুর ২টার দিকে কুতুবদিয়া উপজেলার কৈয়ারবিল ইউনিয়নের পরান সিকদার পাড়ায় ঘটেছে এ হামলার ঘটনা। হামলাকারী মনজুর আলমের বিরুদ্ধে সাজাসহ প্রায় ডজনখানেক মামলা রয়েছে। মামলা ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, ওই গ্রামের মৃত করিম দাঁদের পুত্র কক্সবাজার বেতার কেন্দ্রের চাকুরীজীবি এ কে এম রিদওয়ানুল করিম (২৭) ছুটির দিনে বাড়িতে এসে পৈত্রিক জমি বন্টনের কথা বলতে গেলে মেজভাই মনজুর আলম ক্ষিপ্ত হয়ে ধারালো অস্ত্র-শস্ত্র দিয়ে রিদওয়ানের মাথার বাম পাশে ও বাম হাতে কোপ মেরে গুরুতর কাটা ও হাড় ভাঙ্গা জখম করে। মনজুর অালের স্ত্রী রাবেয়া বছরীও লোহার রড দিয়ে সারা শরীরে এলোপাতারী অাঘাত করে মারাত্মক জখম হাড় ভাঙ্গা থেতলানো জখম করে। এসময় তার অপর বড় ভাই মোজাফ্ফর আহাম্মদ, বোন রফিকা বেগম, ভাবী রেনুজা বাঁধা দিলে তাদের উপরও হামলা চালানো হয়। চিকিৎসা সনদে বেতার কর্মচারী রিদুয়ানের হাত ভেঙ্গে দ্বিখন্ডিত হয়ে গেছে উল্লেখ আছে । এ ঘটনায় রিদওয়ান বাদি হয়ে কুতুবদিয়া থানায় মামলা নং জি অার ৬/২০ দায়ের করেছিল । এর আগেও মনজুর আলম তার অপর ছোট ভাই ইসহাক ও তার স্ত্রীকে মারধরের মামলায় আদালতে এক বছরের সাজায় ১৫ দিন জেল খেটে জামিনে আসে। উল্লেখিত হামলাকারী মনজুর আলমের বিরুদ্ধে অন্তত ডজনের অধিক মামলা রয়েছে। সে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজী, ডাকাতিসহ অস্ত্র আইনে বহু মামলার আসামী। তার বিরুদ্ধে বিগত ১৯৯১ সালে কুতুবদিয়া পরীক্ষা কেন্দ্রে এসএসসি পরীক্ষা চলাকালে নকলসহ নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট-ইউএনও’র হাতে-নাতে ধরা পড়লে তাৎক্ষনিক তৎকালীন ম্যাজিষ্ট্রেটের উপর হামলার ঘটনায় মামলার আসামী হয়। ওই মামলায় সাজাও হয়েছিল। ১৯৯৬ সালে জনৈক জহির উদ্দিন ও শিহাব উদ্দিনের বাড়িতে লুটপাট, ভাংচুর ও হামলার ঘটনায় মামলা রয়েছে। ১৯৯৬ সালে এলাকা ভিত্তিক ত্রাস সৃষ্টির অভিযোগে মামলা রয়েছে। ২০১১ সালে জহির উদ্দিন ও শিহাব উদ্দিনের বাড়িতে ফের হামলা ও লুটপাটের অভিযোগে মামলা রয়েছে। ২০১২ সালে আপন সহোদর রিদওয়ানের উপর হামলাসহ বাড়ি থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। ২০১২ সাল থেকে ২০১৯ সাল পযর্ন্ত কুতুবদিয়া উপজেলায় ডাকাতি, সন্ত্রাসী কার্যক্রম, চাঁদাবাজী ও নারী নির্যাতনসহ অন্তত আরো ৮টি মামলা রয়েছে। আপন সহোদর মোজাফ্ফর আহমদ ও তার স্ত্রীর উপর হামলাসহ গায়ে গরম পানির ডেক্সী তুলে দিয়ে সারা শরীর জ্বলসে দেয়ার অভিযোগ রয়েছে কুখ্যাত মনজুর অালমের বিরুদ্ধে। মনজুর তার ছোট ভাই ইছহাককে বারবার মারধরের কারণে এক পর্যায়ে ইসহাক মানষিক ভারসাম্যহীন (পাগল) হয়ে যায়। ২০১৭ সালে ইছহাক ও তার স্ত্রী রেনজু বেগমকে মারধর করে হাত দ্বিখন্ডিত করে দেয়, ওই মামলায় কুখ্যাত মনজুরের বিরুদ্ধে ১ বছরের সাজা রয়েছে। মনজুর আলমের বিরুদ্ধে তার নিজের বৃদ্ধ মাকে মারধর ও চিকিৎসার টাকা আত্মসাৎ করার অভিযোগ রয়েছে কুতুবদিয়া থানায়।
স্থানীয়রা ও পরিবার সদস্যরা জানিয়েছেন, কতিপয় কিছু খারাপ লোকের ছত্রছায়া ও ইন্ধনের কারণে নিজ পরিবারের সদস্যরাসহ স্থানীয়দের বিরুদ্ধে এসব ঘটনা করেও বার বার পার পেয়ে যাচ্ছে মনজুর আলম। নিজ পরিবারের সদস্যসহ এলাকার নিরীহ লোকজনকে অসংখ্য মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর অভিযোগও রয়েছে মনজুরের বিরুদ্ধে।
এ দিকে গ্রেফতার বিষয়ে থানার ওসি জালাল উদ্দিন এ প্রতিনিধিকে জানিয়েছেন, ওয়ারেন্টভূক্ত আসামী মনজুর আলমকে গ্রেফতারের জন্য সন্দেহভাজন স্থানে বহুবার অভিযান পরিচালনা করা হয়েছিল। গ্রেফতার এড়ানোর জন্য মনজুর নানা কৌশল অবলম্বন করে পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে দীর্ঘ দিন পলাতক ছিল । অবশেষে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছি। বিভিন্ন মামলার আসামীসহ অপরাধীদের গ্রেফতারে পুলিশের নিয়মিত অভিযান অব্যাহত আছে। অপরাধী যেই হোক তাকে গ্রেফতার করা হবে। এতে কোন আপোষ নেই।
মামলার বাদী এ.কে. এম রিদওয়ানুল করিম জানান, “আসামী মনজুর আলম আমাকে মামলা প্রত্যাহার করার জন্য প্রতিনিয়ত বিভিন্নভাবে হুমকি দিয়ে আসছিল, অন্যতায় প্রাণে মেরে ফেলবে । এমতাবস্থায় আমি মামলা দিয়ে আইনের আশ্রয় নিয়েও আসামী গ্রেফতার না হওয়ায় জীবনের নিরাপত্তাহীনকতায় ভোগছিলাম। আমি দ্রুত সময়ে আসামীকে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনায় কুতুবদিয়া থানা পুলিশের কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি, সেই সাথে মহান আল্লাহ তালার নিকট শোকরিয়া জ্ঞাপন করছি। আমি ন্যায় বিচার প্রত্যশা করছি।
স্থানীয়রা নানা অপরাধে জড়িত সন্ত্রাসী মনজুর আলমের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবী জানিয়েছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

Application to the Ministry of Information for registration.