পেকুয়ার মরিচ্যাদিয়ায় জমি জবর নিয়ে দু’পক্ষের সংঘর্ষে রণক্ষেত্র, গুলিবিদ্ধসহ আহত ১০

বিশেষ প্রতিবেদক,চকরিয়া
কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার মগনামা ইউনিয়নের দক্ষিন মগনামা মরিচ্যাদিয়া গ্রামে জমি জবর দখল নিয়ে দু’পক্ষের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সংঘর্ষের ফলে এলাকায় রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। এ সময় প্রতিপক্ষের ভাড়াটে অস্ত্রধারীর সন্ত্রাসীদের ছোড়া গুলিতে একই পরিবারের ৩ জন গুলিবিদ্ধসহ ১০ জন আহত হয়েছে। আহতদের উদ্ধার করে পেকুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। এদের মধ্যে গুলিবিদ্ধ ১ জনসহ গুরুতর আহত ৩ জনকে কর্তব্যরত চিকিৎসক চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করেছে। গত গত ১ নভেম্বর সন্ধ্যা ৬ টার দিকে সংঘঠিত ঘটনার জের ধরে ৯নভেম্বর পর্যন্ত দু’পক্ষের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে। খবর পেয়ে পেকুয়া থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শনসহ টহল জোরদার করা হয়েছে।
হামলায় গুলিবিদ্ধরা হলেন; পেকুয়ার মরিচ্যাদিয়া গ্রামের মৃত নুরুল ইসলামের পুত্র নুর উদ্দিন (৬০), তার ভাই মফিজ (৫২) ও নুরুস সোলতান (৩০)। আহতরা হলেন; একই পরিবারের সাহাব উদ্দিন (৫৫) ও তার ভাই মনি উদ্দিন (৪০)। অপরপক্ষের আহতরা হলেন ছৈয়দ নুরের পুত্র জসিম উদ্দিন (৪৫), তার স্ত্রী কাজল আক্তার (৪০), মৃত সিরাজের পুত্র ছৈয়দ নুর (৭৫), মৃত শফিকুর রহমানের পুত্র আইনুল হক (৫০), তার পুত্র মজিব (১৭)।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সুত্র জানায়, পেকুয়ার মরিচ্যাদিয়া গ্রামে ১৮ শতক জমি নিয়ে মৃত নুরুল ইসলামের পুত্র নুর উদ্দিন গং ও মৃত সিরাজের পুত্র ছৈয়দ নুর গংদের মধ্যে বেশ কিছুদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। ফলে আধিপত্য বিস্তার ও জবর দখল-বেদখলকে কেন্দ্র করে গত কয়েক মাস ধরে দু’পক্ষের মধ্যে কয়েক দফায় হামলা, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা সংঘঠিত হয়েছে। নুরুল ইসলামের পুত্র নুর উদ্দিন গং ওই জায়গা ৭০ বছর থেকে ভোগ দখলে আছে। তবে দিয়ারা রেকর্ডে জায়গাটি অন্য জনের নামে প্রচার হয়। মৃত সিরাজের পুত্র ছৈয়দ নুর দিয়ারা মুলে ১৮ শতক জায়গা খরিদ করেন। মূলত: তা নিয়েই বিরোধের সুত্রপাত।
মগনামা ইউপির চেয়ারম্যান শরাফত উল্লাহ চৌধুরী ওয়াসিম ছৈয়দ নুরকে জায়গা বুঝিয়ে দিয়েছিলেন। কিন্তু নুর উদ্দিন গং চেয়ারম্যানের এ সিদ্ধান্তকে মেনে নেয়নি। ফলে ঘটনার দিন বিকেলে উল্লেখিত ছৈয়দ নুর বহিরাগত লোকজনসহ জায়গা দখলে যায়। এ সময় দু’পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। ঘটনার সময় ছৈয়দ নুর ঘটনাস্থল ত্যাগ করলেও দ্বিতীয় দফায় একই দিন মাগরিবের নামাজের পর পূণরায় শক্তি প্রদর্শণ করে প্রায় শতাধিক লোকজন নিয়ে আগ্নেয়াস্ত্র, লাঠিসোটা, ধারালো কিরিচ নিয়ে ফের জায়গা দখল করতে যায়। এ সময় দু’পক্ষের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষের হয়। এতে নুর উদ্দিনসহ ৩ জন গুলিবিদ্ধ এবং উভয় পক্ষে কমপক্ষে ১০ জন আহত হয়।
গুলিবিদ্ধ নুর উদ্দিন জানান, উক্ত জায়গা তাদের পরিবারের ভোগ দখলীয়। ছৈয়দ নুর ও তার ছেলে জসিমের নেতৃত্বে শতাধিক ভাড়াটে সন্ত্রাসী নিয়ে মরিচ্যাদিয়ায় এসে জমি জবর দখলের অপচেষ্টা চালায়। চেয়ারম্যান শরাফত উল্লাহ চৌধুরী ওয়াসিম ছৈয়দ নুরের পক্ষ নিয়ে তার মাস্তান বাহিনী পাঠিয়ে জমি জবর দখলে সহায়তা করে। ঘটনার সময় পশ্চিমকুলের জেলে আবছারের পুত্র জিয়াবুল, সাতঘরপাড়ার আজিজুর রহমানের পুত্র গিয়াস উদ্দিন, মোক্তারের ছেলে বল্লাইয়াসহ আরো কয়েকজনের হাতে আগ্নেয়াস্ত্র ছিল। সন্ত্রাসী জিয়াবুল চেয়ারম্যান ওয়াসিম বাহিনীর স্বশস্ত্র ক্যাডার। তারা জমি মালিকদের লক্ষ্য করে ৩ রাউন্ড গুলি ছুড়ে। এতে ৩ ভাই গুলিবিদ্ধ হয়। আবুল শামার স্ত্রী রাশেদা বেগম জানান, জিয়াবুলকে আমি চিনি। আমি দেখেছি সে বন্দুক নিয়ে গুলি বর্ষণ করেছে।
ফজলুল হকের স্ত্রী রোকেয়া বেগম জানান, চেয়ারম্যান সন্ত্রাসী বাহিনী পাঠিয়ে পরিকল্পিত ঘটনা করেছে। ঘটনায় ৩ রাউন্ড গুলি বর্ষণ হয়েছে। নুর উদ্দিন, নুরুস সোলতান ও মফিজের হাতে গুলি লাগে।
পেকুয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সাইফুর রহমান মজুমদার জানান, ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। থানায় দু’পক্ষই লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। তা তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে রয়েছে বলে জানান। ##

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

Application to the Ministry of Information for registration.