চকরিয়া উপজেলা ছাত্রলীগের কমিটি নিয়ে কেন্দ্র ও জেলার পাল্টাপাল্টি প্রেস বিজ্ঞপ্তি, রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের সম্ভাবনা

বার্তা পরিবেশকঃ
কেন্দ্র ও জেলার পাল্টাপাল্টি ঘোষণায় দ্বিধাদ্বন্ধে চকরিয়া ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা পদ নিয়ে টানাটানি রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশঙ্কা।

কেন্দ্র ও জেলার পাল্টাপাল্টি ঘোষণায় দ্বিধাদ্বন্ধে চকরিয়া ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা ছাত্রলীগ চকরিয়া ইউনিট নিয়ে কেন্দ্র ও জেলার পাল্টাপাল্টি প্রেসরিলিজ।

বাংলাদেশ ছাত্রলীগ চকরিয়া উপজেলা ইউনিটের নেতৃত্ব কার হাতে থাকছে এনিয়ে সৃষ্টি হয়েছে তীব্র ধুম্রজাল। বিপাকে পড়েছেন পদবঞ্চিত ও পদপ্রত্যাশী এবং পদে থাকা অসংখ্য নেতাকর্মী। একই পদে দুজন নেতা নিজেদের ওই পদের দায়িত্বশীল ঘোষণা করে প্রচার প্রচারণাও লক্ষ্য করা গেছে। পাল্টাপাল্টি এমন পরিস্থিতিতে যেকোনো ধরণের অপ্রীতিকর কর্মকাণ্ড থেকে শুরু করে এমনকি রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশঙ্কাও করছেন কেউ কেউ।

বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) কক্সবাজার জেলা শাখার সভাপতি ইশতিয়াক আহমেদ জয় এবং ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মোরশেদ হোসাইন তানিম স্বাক্ষরিত এক প্রেসরিলিজে বলা হয়- কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের নির্দেশনা অনুযায়ী চকরিয়া উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আরহান মাহমুদ রুবেলের অব্যহতি আদেশ প্রত্যাহার করে তাকে স্বপদে বহাল করা হলো। এমনকি চকরিয়া ইউনিটের আওতাধীন ইউনিয়ন কমিটিগুলোতে সম্মেলন করার জোর তাগিদ দিয়ে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানানোর পাশাপাশি অন্যথায় সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণাও দেওয়া হয়।
কিন্তু এর ঠিক দুইদিন পর শনিবার (৩১ অক্টোবর) রাত সাড়ে ৮টার দিকে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের পাঠানো এক প্রেস রিলিজকে কেন্দ্র করে সৃষ্টি হয়েছে এই রূদ্ধশ্বাস পরিস্থিতির। কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সভাপতি আল-নাহিয়ান খান জয় এবং সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টচার্য্য স্বাক্ষরিত ওই প্রেস রিলিজে বলা হয়েছে- কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদের নিষেধাজ্ঞা থাকায় কক্সবাজার জেলা কমিটির সাংগঠনিক কার্যক্রমগুলো সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং গঠনতন্ত্র পরিপন্থি। বিশেষ করে গত ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৯ কক্সবাজার জেলা শাখার সম্মেলনের তারিখ ঘোষণা থাকায় উক্ত তারিখ হতে তাদের স্বাক্ষরিত কমিটি সমূহ এবং সাংগঠনিক কার্যক্রমের কোনো কার্যকারিতা নেই। এছাড়াও কক্সবাজার জেলা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের কক্সবাজার জেলা শাখার কার্যক্রম নিয়ে বিভ্রান্ত না হতেও আহ্বান জানান।

এদিকে কেন্দ্র ও জেলার এধরণের পাল্টাপাল্টি প্রেসরিলিজ নিয়ে বিপাকে পড়েছে পদে থাকা নেতাসহ অন্যান্য কর্মীরাও। এঘটনার পর ছাত্রলীগ চকরিয়া ইউনিটের পদস্থ ছাত্রনেতা রুবেল জানান- তিনি ষড়যন্ত্রের শিকার হচ্ছেন বারবার। এর আগেও সংগঠনের জন্য কাজ করতে গিয়ে তিনি বিপাকে পড়েন। কিন্তু যখনই সাংগঠনিক নিয়ম মেনে পদে আসীন হন তখনই একদল কুচক্রী মহল চকরিয়া ছাত্রলীগকে ধ্বংস করতে উঠে পড়ে লেগেছে। কেন্দ্রকে ভুল বুঝিয়ে মিথ্যা তথ্য দিয়ে নতুন প্রেসরিলিজ সৃজন করেছে। অথচ একটি উপজেলা ইউনিটের সাংগঠনিক বাস্তবতা সম্পর্কে সবচেয়ে ভালো জানবেন জেলা শাখা। একারণেই কক্সবাজার জেলা শাখা হতে তাকে পদ ফিরিয়ে দিয়ে সাংগঠনিক মজবুতি অর্জন করতে চেয়েছিলো। এবিষয়ে ছাত্রনেতা রুবেলের অভিযোগের তীর সরাসরি আকিতের দিকে। একটা সময় পর্যন্ত ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে এসেছেন।

এসব বিষয়ে ছাত্রলীগ কক্সবাজার জেলা শাখার সভাপতি ইশতিয়াক আহমেদ জয়ের বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি প্রতিবেদককে জানান- কেন্দ্র হয়তো একটু রাগ করেছে এজন্য এমনটি হয়েছে। শীঘ্রই সব ঠিক হয়ে যাবে। আমরা কেন্দ্রের সাথে যোগাযোগ করে বিষয়টি ঠিক করে নিবো। এগুলো মাঝেমধ্যে এমন হয়। কেন্দ্র আবার আমাদের সাথে বসে কথা বলে ঠিক করে ফেলে, এই আরকি। অন্যদিকে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদের উপ-দপ্তর সম্পাদক নাজির আহম্মেদ জানান- কক্সবাজার জেলা শাখা শুধুমাত্র বিভিন্ন সাংগঠনিক কাজ কর্মে অংশ নিতে পারবেন। তারা কোনো কমিটি বহাল, প্রত্যাহার, অব্যাহতি, বহিস্কার এসব করতে পারবেন না আইনানুগ ভাবে। চকরিয়া ইউনিটের সাধারণ সম্পাদক আরহান মাহমুদ রুবেলের পদ ফিরিয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে জেলা শাখা কেন্দ্রের নির্দেশনায় এই প্রেসরিলিজ দিয়েছে বিষয়টি উল্লেখ করে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন- এখানে হয়তো কোথাও কোনো সমস্যা যাচ্ছে। তবে কেমন সমস্যা যাচ্ছে জানতে চাইলে তিনি- এসব বিষয়ে সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদক ভালো বলতে পারবেন বলে মন্তব্য করেন।

এদিকে ছাত্রলীগের কেন্দ্র ও জেলার এমন পাল্টাপাল্টি প্রেসরিলিজ ঘোষণা নিয়ে চকরিয়া উপজলা ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের মাঝে নানা সংশয় ও মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। কেউ কেউ আশঙ্কা করছেন দলে গ্রুপিং দৃশ্যমান হয়েছে। এটা নিয়ে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশঙ্কাও করা হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

Application to the Ministry of Information for registration.