বাক স্বাধীনতার নামে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানার অধিকার পৃথিবীর কারোর নেই

বাক স্বাধীনতার নামে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানার অধিকার পৃথিবীর কারোর নেই

আমি ইতোপূর্বে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানবার বিষয়ে কোন লেখা প্রসব করিনি । কিন্তু দুষ্কৃতকারীরা যতবার ভিন্ন ভিন্ন সময়ে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হেনেছে কিংবা আঘাত হানার চেষ্টা করেছে ঠিক ততবারই ক্ষুব্ধ- বিক্ষুব্ধ হয়েছে আমার জাগতিক ধ্যান- ধারণা ।

ইসলাম ধর্মের মানুষের পবিত্র অনুভূতিতে ফ্রান্স সরকারের পৃষ্ঠপোষকতায় যখন ( মুহাম্মদ (সা:) এর ব্যাঙ্গ প্রতিকৃতি প্রকাশ) আঘাত হানা হয়েছে তখন পুনরায় টালমাটাল হয়ে পড়েছে বিশ্ব মুসলমান। ক্ষোভে ; বিক্ষোভে ফুসে উঠেছে মুসলিম বিশ্ব । ঠিক এমন সময়ে চারিদকে চলছে নানানমুখী আলোচনা – সমালোচনা । ইতোমধ্যে বাংলাদেশসহ মুসলিম বিশ্বের বিভিন্ন দেশ এর প্রতিবাদের অংশ হিসেবে ফ্রান্সের তৈরী পণ্য বয়কট করার ঘোষণা দিয়েছে । যে যেভাবে পারছে সে সেভাবে প্রতিবাদ জানাচ্ছে । জানাবে না বা কেন? বাক স্বাধীনতা মানে তো আর এই নয় যে, আমার যখন যা ইচ্ছে বলবো – যা ইচ্ছে লিখবো । আপনাকে বাক স্বাধীনতা দেওয়া হয়েছে ; কিন্তু ভুলে গেলে চলবে না বাক স্বাধীনতার দেওয়ার মানে এই নয়, আপনি প্রায় ১২০ কোটি মানুষের পবিত্র অনুভূতি আঘাত হানতে পারবেন । অনেকে বলছেন, মানুষ তার ব্যক্তিগত অভিমত প্রকাশ করছে, তাতে ক্ষতি কি ? হ্যাঁ, সকলের ব্যক্তিগত অভিমত প্রকাশ করার অধিকার আছে কিন্তু সে অধিকার যখন ১২০ কোটি মানুষকে আঘাত করে তখন সেটি আর ব্যক্তিগত পর্যায়ে পড়ে না । সেটি হয়ে যায় সামাজিক কিংবা অন্যান্য । কাজেই, এটির জবাব যখন সামাজিকভাবে দেওয়া হচ্ছে কিংবা দেওয়া হয় তখন আপনি আর বাক স্বাধীনতার দোহাই দিয়ে প্রতিবাদ – প্রতিরোধকে অযৌক্তিক দাবি করতে পারেন না ।

পৃথিবীর কোন পবিত্র ধর্ম, ধর্মীয় সহিংসতার পক্ষে কথা বলতে পারে না । আর যদি কোন ধর্ম সহিংসতাকে সমর্থন করে তাহলে সেটি কখনো পবিত্র ধর্ম হতে পারে না। আমার বিশ্বাস পৃথিবীর কোন ধর্ম, ধর্মীয় উগ্রতা এবং অন্য ধর্মকে হেয় প্রতিপন্ন করার জন্য তাগিদ দেয়নি । কিন্তু কেউ যখন অন্য ধর্মের স্পর্শকাতর বিষয়গুলোকে বাক স্বাধীনতার নামে হেয় প্রতিপন্ন করার চেষ্টা করে তখন খুব স্বাভাবিকভাবে বুঝা যায়, হেয় প্রতিপন্নকারীরা বিকৃত মন – মানসিকতা লালন এবং ধারণ করে । যখন কোন একক গোষ্ঠী, অন্য কোন এক গোষ্ঠীর ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানে ; তখন নৈতিকভাবে সেটা যাদের পবিত্র ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানা হয়েছে তাঁরা মেনে নিবে না এবং বিশ্বাসী লোকজন সেটার তীব্র প্রতিবাদ এবং নিন্দা জানাবে ; আর এটাই স্বাভাবিক ।

এখানে একটা বিষয় পরিষ্কার করার প্রয়োজনীয়তা দারুণভাবে অনুভব করছি । ফ্রান্স সরকার মুহাম্মদ (সা:) এর ব্যাঙ্গ চিত্র প্রকাশ করে ( মানে সমর্থন করে ) যে ঘৃণিত কাজটি করেছে তা পৃথিবীর যেকোন সভ্য মানুষের পক্ষে সমর্থন জানানো একেবারে অসম্ভব । ফ্রান্স সরকার এই ব্যাঙ্গ চিত্র প্রকাশের মাধ্যমে তারা কেবল ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানেনি ; তারা উষ্কে দিয়েছে ধর্মীয় সহিংসতা । সবচেয়ে বড় সত্য হচ্ছে, ফ্রান্স সরকার ব্যাঙ্গ চিত্র প্রকাশকে সমর্থন না জানালে এবং এমন ঘৃণিত কাজটির জন্য বিশ্ব মুসলিমের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করলে পরিস্থিতি আজকের মতন টালমাটাল হতো না। কিন্তু তারা সে কাজটি করেনি এবং করছেও না । অথচ তাদের উচিৎ ছিল এমন ঘৃণিত কাজটির জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করে সাম্প্রদায়িক সম্প্রতি রক্ষা করা ।

সর্বপরি পৃথিবীর কোন সভ্য, নৈতিক মূল্যবোধ সম্পন্ন মানুষ অন্যের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করতে পারে না । তবুও যারা আঘাত করে কিংবা আঘাত করবার চেষ্টা করে তারা আসলে এখনো সত্যিকার অর্থে মানুষ হয়ে উঠতে পারেনি । এরা যুক্তি মানবে না। মূর্খ মানুষের কাছে যুক্তি দুর্বোধ্য এক কথন শৈলী । কিন্তু তারা মানুক কিংবা না মানুক ; তাদের মনে রাখতে হবে বাক স্বাধীনতার নামে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানার অধিকার পৃথিবীর কারোর নেই।

লেখক :
তানভীর মোর্শেদ তামীম, তরুণ কলামিস্ট ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

Application to the Ministry of Information for registration.