চকরিয়া জনতা শপিং সেন্টারের মালিকসহ ২১ জনের বিরুদ্ধে মামলায় আদালতের নির্দেশে তদন্তে উকিল কমিশন

চকরিয়া অফিস:
চকরিয়া পৌরশহরের অন্যতম বাণিজ্যিক মার্কেট জনতা শপিং সেন্টারের মালিকসহ ২১ জনের বিরুদ্ধে চুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগে মার্কেটটির আগেকার ১৭ দোকানীকে ১২বছর যাবত জিন্মি করে রাখার দায়ে অন্তত তিন কোটি টাকার লোকসানের সম্মুখীন হয়েছেন দাবী করে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলার প্রেক্ষিতে বিজ্ঞ যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ আদালত,কক্সবাজারের নির্দেশক্রমে গঠিত এডভোকেট কমিশন ২৯ আগষ্ট সকাল সাড়ে ১০টায় সার্ভেয়ার সহকারে সরে জমিনে ঘটনাস্থল পরিদর্শন, জমি পরিমাপ ও কাগজপত্র পর্যালোচনা করেছেন।
ভুক্তভোগী দোকানদার নুরুল ইসলাম, শহীদুল ইসলাম শহীদ, সাংবাদিক জহিরুল ইসলাম, হাজী জালাল আহমদ, নুরুল ইসলাম বাবুল, নজরুল ইসলাম মানিক, আবুল হাশেম, ওসমান গনী, নজরুল ইসলাম, ছৈযদ আলম, ওয়াহিদুল আলম, আবুল হাশেম চুনতী, মোজাম্মেল হক, সাইয়িদ আলম, মাহাবুবুর রহমান, ইমাম হোসেন ও রওশন আরা বেগম দাবি করেন, অভিযুক্ত জনতা শপিং সেন্টারের স্বত্বাধিকারী ও ডেভেলাপমেন্টের মালিকসহ ২১ জনের বিরুদ্ধে দোকানের প্লট বুঝে দিতে এবং ২ কোটি ৮৫ লাখ টাকার ক্ষতিপুরণের অভিযোগে যুগ্ন জেলা জজ (২য়) আদালত কক্সবাজারে তারা এ মামলাটি করেছেন।

চকরিয়া পৌরশহরের জনতা মার্কেটের মালিক মরহুম মোজাহের আহমদ কোম্পানী জীবিত থাকাকালে চিরিংগা মৌজার বিএস ২৩৩ নং খতিয়ানের বিএস দাগ নং ৩১২ ও ৩১৩ দাগের উপর নির্মিত নিউ জনতা সুপার মার্কেটের প্রথম তলায় ১৬টি ও ২য় তলায় ৩টিসহ মোট ১৯টি দোকানের সালামী দিয়ে ও দীর্ঘমেয়াদী চুক্তিবদ্ধ হয়ে দোকানের মালিকানা ক্রয় করেন ওই ১৭জন ব্যবসায়ী।

তারা ওই মার্কেটে ১৯৯৭ সাল থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত শান্তিপুর্ণভাবে তাদের বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করেন। মোজাহের আহমদ কোম্পানীর মৃত্যুর পর ওই দোকান মালিকরা ফের তার ওয়ারিশদের সাথেও নতুন মার্কেটে প্লট বুঝে পাওয়ার জন্য চুক্তিনামা সম্পাদন করেন।

ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীরা জানান, জমির মালিক হাজী মোজাহের আহমদ কোম্পানী মারা যাওয়ার পর তার স্ত্রী ও ছেলেমেয়েরা মিলে চট্রগ্রামের কাজির দেওয়ারী ভিআইপি টাওয়ারস্থ মদিনা প্রপার্টি ডেভেলাপমেন্ট এর মালিক হাজি মোহাম্মদ সেলিম উল্লাহ, মোসলিম কবির ও মোহাম্মদ আবু ছগিরের সাথে চুক্তিবদ্ধ হয়ে পুর্বের নিউ জনতা সুপার মার্কেট এর স্থলে নতুন জনতা শপিং সেন্টার নির্মানের উদ্যোগ নেয়।

পরবর্তীতে ওই ১৭জন ব্যবসায়ীর সঙ্গে মরহুম পিতা মোজাহের আহমদ কোম্পানীর সাথে আগের সালামী দিয়ে চুক্তি থাকায় উক্ত চুক্তি মোতাবেক জনতা শপিং সেন্টারের নির্ধারিত ওই সালামির মধ্যেই নতুন মার্কেটে দোকান মালিকদেরকে দোকানঘর বুঝিয়ে দেয়ার শর্তে ওয়ারিশগনের সাথে নতুনভাবে চুক্তিনামা সম্পাদন করেন।

উল্লেখিত শর্তাবলী মার্কেট মালিকপক্ষ ও ১৭জন দোকান প্লট গ্রহিতার মধ্যে নোটারী পাবলিক কক্সবাজারের মাধ্যমে লিখিত স্টাম্প চুক্তিনামাপত্রও সম্পাদন করা হয়।ভুক্তভোগী ১৭ ব্যবসায়ীদের মধ্যে আছেন চকরিয়া উপজেলা যুবলীগের সভাপতি শহীদুল ইসলাম শহীদ।

তিনি দাবি করেছেন, জনতা শপিং সেন্টারের মালিক ও ডেভোলাপমেন্ট কোম্পানী যৌথভাবে নতুন মার্কেট থেকে ১৯টি দোকান আমাদের (পূর্বের মালিকদের) কাছে হস্তান্তর করার লিখিত চুক্তি রয়েছে।

কিন্তু তারা সেটি না করে গত ১২বছর ধরে প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীদের হয়রাণী করে আসছে। এরই জেরে আমরা আইনী প্রতিকার চেয়ে সর্বশেষ গত ১২ ফেব্রুয়ারী অভিযুক্ত জনতা শপিং সেন্টারের স্বত্বাধিকারী ও ডেভোলাপমেন্টের মালিকসহ ২১ জনের বিরুদ্ধে দোকানের প্লট বুঝে দিতে এবং ২ কোটি ৮৫ লাখ টাকার ক্ষতিপুরণের অভিযোগে যুগ্ন জেলা জজ (২য়) আদালত কক্সবাজারে একটি মামলা দায়ের করেছি।
মামলার আলোকে বিজ্ঞ আদালত কর্তৃক গঠিক এডভোকেট কমিশনে নেতৃত্ব দেন জেলা ও দায়রা জজ আদালতে বিজ্ঞ আইনজীবি এডভোকেট হোসেন কাউছার আজম ও এডভোকেট মোকাম্মেল হোসেন। উক্ত কমিশন ২৯ আগষ্ট সরে জমিনে আসেন।
বর্তমানে মামলাটি তুলে নিতে প্রভাবশালী মার্কেট মালিকরা আমাদেরকে নানাভাবে চাপ দিচ্ছেন। এমনকি মার্কেটপক্ষের লোকজন ভয়ভীতি দেখিয়ে আমাদেরকে হয়রাণির চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

Application to the Ministry of Information for registration.