চকরিয়ায় বসতঘরে গুলি বর্ষণ, আটক-১, আহত ৬, অস্ত্র উদ্ধার

চকরিয়া প্রতিনিধি:
চকরিয়া পৌর এলাকায় চিংড়ি জোনের ডাকাত ভাড়ায় এনে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বসতবাড়িতে হামলা, ভাংচুর, লুটপাট ও ৩রাউন্ড গুলি বর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। ভূক্তভোগী পরিবারের সদস্যরাসহ স্থানীয় লোকজন বিষয়টি বুঝতে পেরে এক ডাকাতকে গণপিটুনি দিয়ে তার ব্যবহৃত অস্ত্রসহ পুলিশের সোপর্দ করেছে।

এসময় ডাকাতকে ধৃত করতে গিয়ে ডাকাত ও তার সহযোগিদের হামলায় একই পরিবারের ৬জন গুরুতর আহত হয়েছে। আহতের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। ৭আগষ্ট রাত ১০টার দিকে চকরিয়া পৌরসভা ৬নং ওয়ার্ডের নিজপানখালী (পৌর বাসটার্মিনাল সংলগ্ন দক্ষিণে) কচিপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

অভিযোগে জানাগেছে, উল্লেখিত এলাকার মৃত আব্বাছ আহমদের পুত্র রাজীব ও মুন্নার সাথে ৭আগষ্ট বিকাল ৫টার দিকে একটি ম্যামোরি কার্ডের বিষয় নিয়ে তর্কবিতর্ক হয় একই এলাকার জামাল উদ্দিনের শাওনের মধ্যে। ওই ঘটনার জের ধরে উল্লেখিত রাজীব, মুন্না ও তার ভাই রাসেল এবং তাদের ভগ্নিপতি চিংড়ি জোনের চিহ্নিত সন্ত্রাসী রহিম ওরপে ডাকাত রহিমসহ কয়েকজন ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসী এনে অস্ত্র-শস্ত্র সহকারে এদিন রাত ১০টার দিকে মৃত অলি মিয়া সওদাগরের পুত্র জামাল উদ্দিনের বসতবাড়িতে হামলা, ভাংচুর ও লুটপাট চালায়।

এসময় সন্ত্রাসীরা প্রথমে ফাঁকা ৩রাউন্ড গুলি ছুড়ে ভীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করে এবং বসতবাড়িতে ব্যাপক ভাংচুর চালায়। এক পর্যায়ে চতুর্দিকে স্থানীয়দের গনপ্রতিরোধের মুখে অস্ত্রধারী ডাকাত রহিমকে গণধোলাই দিয়ে থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করে। ডাকাতকে ধৃত করতে গিয়ে হামলায় আহত হয়েছে জামাল উদ্দিনের শাওন (২৪) ও সাগর (২২), স্ত্রী তছলিমা (৩৫), বোন রোজিনা আক্তার (২৮), সাইমা (২৬), রুমা (২৭)। উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

বিষয়টি এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর এবং থানার ওসিকে অবহিত করলে তাৎক্ষণিক এসআই মহসিন তালুকদার ও এএস আই কামাল হোসাইনসহ সংঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে ধৃত ডাকাত রহিমকে পুলিশ পাহারায় হাসপাতালে ভর্তি করান।

এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে অস্ত্র আইনে মামলা রুজু করছেন এবং ভূক্তভোগী পরিবারের মৃত অলি মিয়া সওদাগরের পুত্র জামাল উদ্দিন বাদী হয়ে থানায় একটি লিখিত এজাহার দাখিল দায়ের করেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মৃত আব্বাস উদ্দিনের মেয়ে জামাই ডাকাত আব্দুর রহিম। সে সূত্রে রহিম শাশুরবাড়ীকে নিরাপদ মাদকের স্বর্গরাজ্যসহ জুয়ার আসর গড়ে তুলে। তার অনৈতিক কর্মকান্ডে এলাকাবাসী অতিষ্ঠ হলেও প্রতিবাদ করার সাহস পায় না ভয়ে।
চকরিয়ার চিংড়ি জোনের ত্রাস এক ডজনের অধিক মামলার চিহ্নিত শীর্ষ ডাকাত চিরিংগা ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডস্থ সওদাগরঘোনার নুরুল কবিরের পুত্র আব্দুর রহিম (প্রকাশ রহিম ডাকাত) এর ব্যবহৃত একটি দেশীয় তৈরি লম্বা বন্দুক( ত্রি-নথ-ত্রি রাইফেল গুলি ব্যবহার করা যায়) উদ্ধার করে। এসময় তার সাথে থাকা মৌঃ হোসাইন আহমদের পুত্র ইউসুফ প্রকাশ (বর্মাইয়া ইউসুফ), পৌরসভার ৫নং ওয়ার্ডের আব্দুল গণির পুত্র ছৈয়দ হোসাইনসহ অন্যান্য ডাকাতরা গুলি ছুড়ে পালিয়ে যায়। ধৃত ডাকাত রহিমের বিরুদ্ধে রয়েছে পুলিশ এ্যাসল্ট মামলা, অস্ত্র মামলা, ডাকাতি প্রস্তুতি, যৌতুক নিরোধ আইনের মামলাসহ অসংখ্য মামলার আসামী। যাহা মামলা নং যথাক্রমে-(১) জি,আর-২২/১৫, (২) জি,আর-২২৩/১৫ (৩) জি,আর-২৩১/১২ইং (৪) জি,আর -২৩০/১২ইং (৫) জি,আর- ২৩২/১২ (৬) সি,আর-১১২/১২ (৭)জি,আর-১৩৫/১১ (৮) জি,আর-৩২১/১১সহ অজ্ঞাত সর্বমোট ডজনখানেক মামলা রয়েছে।

চকরিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ হাবিবুর রহমান বলেন, ডাকাত রহিম পুলিশের তালিকাভুক্ত একজন শীর্ষ সন্ত্রাসী। ইতিপূর্বে তাকে একাধিকবার গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা হয়েছিল। জামিনে বেরিয়ে এসে পুনরায় মাদক ব্যবসা, চিংড়িঘের দখল, ডাকাতি, গরু-ছাগল লুটপাটসহ নানা অপকর্মে জড়িয়ে পড়েন। রহিমকে দেশীয় তৈরী অবৈধ লম্বা বন্দুকসহ গ্রেফতার দেখিয়ে নিয়মিত মামলা রুজু করে আদালতে প্রেরণ করা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

Application to the Ministry of Information for registration.