কুরবানি_আল্লাহর_ নৈকট্য_অর্জনের সুমহান পন্থা।

কুরবানি_আল্লাহর_ নৈকট্য_অর্জনের
সুমহান পন্থা।
মুহাম্মদ বেলাল উদ্দিন ঈসমাঈল।

মুসলিম মিল্লাতের পিতা ইবরাহিম (আঃ) ও আদেশ অনুগত পুত্র ইসমাঈল (আঃ)-এর আত্মত্যাগের মহান দৃষ্টান্ত কুরবানি।

আত্মত্যাগ, আত্মউৎসর্গ, তাক্বওয়া অর্জন ও আল্লাহ তায়ালার নৈকট্য লাভের সুমহান মহিমায় চির ভাস্বর কুরবানি।

কুরবানি কেবল আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্যেই করতে হবে।
অাল্লাহ তায়ালা বলেন:
قُلْ إِنَّ صَلاَتِي وَنُسُكِي وَمَحْيَايَ وَمَمَاتِي لِلّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ

“আপনি বলুনঃ আমার নামায, আমার কুরবানি এবং আমার জীবন ও মরন রাব্বুল অালামীন আল্লাহরই জন্যে।” (সুরা অানআম-১৬২)

কোরবানি কবুল হওয়ার জন্য তাকওয়া বিকল্প নেই- আল্লাহ তায়ালা হযরত আদম (আঃ) দুই সন্তান কাবিল এবং হাবিলের দৃষ্টান্ত দিয়ে- কুরআনে যেমনটা বলেছেন।
৫: আল-মায়িদাহ:২৭,

وَ اتْلُ عَلَیْهِمْ نَبَاَ ابْنَیْ اٰدَمَ بِالْحَقِّۘ اِذْ قَرَّبَا قُرْبَانًا فَتُقُبِّلَ مِنْ اَحَدِهِمَا وَ لَمْ یُتَقَبَّلْ مِنَ الْاٰخَرِؕ قَالَ لَاَقْتُلَنَّكَؕ قَالَ اِنَّمَا یَتَقَبَّلُ اللّٰهُ مِنَ الْمُتَّقِیْنَ

আর তাদেরকে আদমের দু’ছেলের সঠিক কাহিনী ও শুনিয়ে দাও। তারা দু’জন কুরবানী করলে তাদের একজনের কুরবানী কবুল করা হলো, অন্য জনেরটা কবুল করা হলো না। সে বললো, “আমি তোমাকে মেরে ফেলবো। সে জবাব দিল, আল্লাহ তো মুত্তাকিদের নজরানা কবুল করে থাকেন।
অর্থাৎ তোমার কুরবানী কবুল না হয়ে থাকলে এতে আমার কোন দোষ নেই। বরং তোমার কুরবানী কবুল না হওয়ার কারণ হচ্ছে এই যে, তোমার মধ্যে আল্লাহভীতি বা তাকওয়া নেই। কাজেই আমাকে হত্যা না করে বরং তোমার নিজের মধ্যে তাকওয়া সৃষ্টির চিন্তা করা উচিত।

কুরবানি ত্যাগের সাথে তাক্বওয়া অর্জনই মুল প্রতিপাদ্য
যেমন অাল্লাহ তায়ালা বলেন:
لَن يَنَالَ اللَّهَ لُحُومُهَا وَلَا دِمَاؤُهَا وَلَكِن يَنَالُهُ التَّقْوَى مِنكُمْ-

“অাল্লাহর কাছে এগুলোর (কুরবানি পশুর) গোশত ও রক্ত পৌঁছে না, কিন্তু পৌঁছে তোমাদের তাক্বওয়া।”(সুরা হজ্জ্ব- ৩৭ অায়াতাংশ)

আমাদের ত্যাগ যেন হয় তাক্বওয়ার সাথে এবং তাক্বওয়া যেন হয় আল্লাহর কাছে আত্মউৎসর্গ বা অাত্মসমর্পনের মাপকাঠি।

রাব্বুল অালামীন বলেন:
فَصَلِّ لِرَبِّكَ وَانْحَرْ

“অতএব আপনার পালনকর্তার উদ্দেশ্যে নামায পড়ুন এবং কুরবানি করুন।” (সুরা কাওছার- ০২)

উল্লেখ্য যে, কুরবানির পশু অবশ্যয় অাল্লাহর নামে জবেহ করতে হবে।
মুশরিকরা প্রতিমার উদ্দেশ্যে প্রার্থনা করে ও পশু জবেহ করে।

এক্ষেত্রে আরেকটা উল্লেখ্য বিষয় যে, লোক দেখানো কুরবানি সহ কোন ইবাদত অাল্লাহর কাছে কবুল হবেনা।

কুরবানি অবৈধ উপার্জন যেমন: সুদ, ঘুষ, নেশাজাত দ্রব্য বিক্রির টাকা, প্রবঞ্চনা, ধোঁকা প্রভৃতির অর্থ দ্বারা ক্রয়কৃত পশুর কুরবানি জয়েজ নয়।

রাসুল (স) বলেন: “অাল্লাহ পবিত্র, তিনি পবিত্র ব্যতীত কিছুই গ্রহন করেন না।”(সহিহ মুসলিম-১০১৫)

সামর্থ্য থাকা ব্যক্তির কুরবানি করা অাবশ্যক:
রাসূল (সাঃ)-এর একটি হাদীসে এভাবে এসেছে- ‘‘যে ব্যক্তি সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও কুরবানি করে না সে যেন আমাদের ঈদগাহের ধারে না আসে।’’ (ইবনে মাজাহ)

সুতরাং সামর্থ্যবানদের জন্যে অাল্লাহর কাছে আত্মসমর্পনের মাধ্যম কুরবানি।

কুরবানি সুচনার প্রেক্ষাপটে এ বিষয়ে অাল্লাহ ও তাঁর রাসুলের (স) নিদের্শনা ও উপরোক্ত অালোচনায় কুরবানির মাধ্যমে অাল্লাহ বান্দাহর কাছ থেকে কি চাই তা স্বল্প পরিসরে উপস্থাপন করার চেষ্টা করেছি।

মহান আল্লাহ্ আমাদের সবাইকে ইখলাসের সাথে একমাত্র তাঁরই সন্তুষ্টির লক্ষ্যে কুরবানি ও সকল ইবাদাত করার তাওফীক দান করুন— আমীন

লেখক
মুহাম্মদ বেলার উদ্দিন ইসমাঈল
বি.এ অনার্স – ইসলামী ইতিহাস ও সংস্কৃতি. চলমান
বি.এ ফাজিল -উলুমুল কুরআন ও আল হাদিস
চলমান

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

Application to the Ministry of Information for registration.