অন্যদিগন্ত সাংবাদিক হুমায়ুন কবির প্রিন্স একজন ডিজিটাল প্রতারক, নিজেকে প্রফেসর দাবি!

ডিজিটাল প্রতারক অন্যদিগন্ত অনলাইন হাতিবান্ধা প্রতিনিধি হুমায়ুন কবির প্রিন্স-

মানুষের কাছ থেকে প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগে উঠেছে লালমহিরহাট জেলার হাতিবান্ধা উপজেলার অন্যদিগন্ত প্রতিনিধি হুমায়ুন কবির প্রিন্সের বিরুদ্ধে এবং সাংবাদিকতার আড়ালে মাদক ও গরু চোরাকারবারিদের সক্রিয়ো সদস্য হয়ে দাপিয়ে বেরাচ্ছে- বেতনবিহীন ডিমোনেস্ট্রেটর হয়ে নিজেকে পরিচয় দেন প্রফেসর, এলাকাবাসিকে এই প্রতারক হতে সাবধান থাকার আহবান জানালেন ইউপি চেয়ারম্যান আবুল কাশেম সাবু মিয়ার।

বাংলাদেশের সর্ব-উত্তরের লালমনিরহাট জেলার হাতিবান্ধা উপজেলার গোতামারী ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মরহুম আনছার আলীর ছোট বউয়ের ছোট ছেলে মোঃ হুমায়ন কবির প্রিন্সের বিরুদ্ধে সাংবাদিকতার নামে অর্থ প্রতারণার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

সরকারী প্রাইমারী স্কুলের নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্ন-পত্র প্রদানের কথা বলে পার্শ্ববর্তী ইউনিয়নের মাঠের পাড় এলাকার মোঃ মশিউর রহমান ও এরশাদুল হকের নিকট থেকে একলাখ টাকা প্রতারণা করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

তাছাড়া সংবাদ রিমুভ, রংপুর সিটি কর্পোরেশনে চাকরি দেয়া, তার পত্রিকার সম্পাদকের নামে সোঁনালী ব্যাংকে চাকরি দেয়া সহ নানাবিধ প্রতারনার মাধ্যমে লাখ লাখ টাকা অর্থ প্রতারণার সাথে জড়িত বলে এলাকাবাসি অভিযোগ তুলেছেন। এবিষয়ে বিষয় ভিত্তিক আলোচনা নিচে প্রদান করা হলো-

১। কে এই প্রতারক প্রিন্স-

হাতিবান্ধা উপজেলার গোতামারী ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মরহুম আনছার আলী সমাজে একজন দানবীর ব্যাক্তি হিসেবে সমাদৃত। আনছার আলীর ছোট স্ত্রীর ছোট ছেলের নাম হুমায়ুন কবির প্রিন্স। বাড়ি ভারত সীমান্তের কাঁটা তারের ব্যারার সন্নিকটে।

২। স্কুল জীবণ-

লালমনিরহাট জেলার হাতিবান্ধা গোতামারীতে আর এক সাহেদের উদয়

স্কুল জীবণ থেকে হুমায়ুন কবির প্রিন্স ছিলেন একজন প্রতারক। অষ্টম শ্রেণীতে পড়া অবস্থায় বন্ধুদের নিকট থেকেই উপাধি পেয়েছেন মিথ্যাবাদী প্রিন্স। বিভিন্ন সময় শিক্ষকদের মিথ্যা বলে বন্ধুদেরকে মার খাওয়াতেন। দেখতে সুন্দর হওয়ায় একাধিক মেয়েকে নিজের প্রেমের জালে জড়িয়ে নানাভাবে প্রতারনা করেছেন স্কুল থেকে কলেজ পর্যন্ত।

৩। লিবিস্টিক উপাধি-

সিমসাম চলাফিরা আর সুন্দর চেহারা হওয়ায় তিনি বিভিন্ন সময় বিভিন্ন মেয়েলোক কে প্রেমের জালে জড়িয়ে নানা কুকর্ম করতেন। উপড়ে সবাই তাকে দেখতো ভদ্র-নম্র ছেলে। সেই দিন তার আসল পরিচয় উম্মোচিত হয়, যে দিন দইখাওয়া বাজারে প্রকাশ্যে একজন মেয়ে তাকে জুতা পেটা করেন। তখন থেকে এলাকাবাসি তাকে লিবিস্টিক প্রিন্স নাম উপাধি প্রদান করেন।

৪। মাথার চুল গেল কোথায় ?

লালমনিরহাট জেলার কালিগঞ্জ উপজেলার শিয়ালখোওয়া উত্তর পাড়ায় তার একজন দুরসর্ম্পকের দেহ ব্যবসায়ী নানী আছে। হুমায়ুন কবির প্রিন্সের ছোট থেকেই মেয়ে মানুষের প্রতি একটু দূর্বলতা ছিলো। তার ঐ নানী বিভিন্ন সময় বিভিন্ন স্থান থেকে নতুন নতুন মেয়ে নিয়ে এসে দেহ ব্যবসা চালাতো। প্রিন্স ছিলেন ঐস্থানের একজন পারমানেন্ট কাস্টমার। একদিন প্রিন্স তার ঐ নানীর বাড়িতে গিয়ে গোপনকাজ করার সময় এলাকাবাসির হাতে ধরা পড়েন। পরে এলাকাবাসি তার মাথা কেলিয়ে, মধু ও সন্দুক লবন মিশ্রিত পানি দিয়ে মাথা ধুয়ে দেয়। সেই থেকে মিস্টার প্রিন্স তার চুল হারিয়ে ফেলে- আজ পর্যন্ত তার মাথায় আর চুল গজায়নী।

৫। টুপি প্রিন্স-

মাগির নিকট ধরা পড়ে হারিয়েছেন মাথার চুল- একারনে সবসময় মাথায় টুপি

মাথারচুল হারিয়ে ব্যাচারা নিজেকে আর বাহিরে জাহির করতে পারেনা। পরে প্রসাব করতে গেলেও ১টা টুপি পড়েই বাহির হতে হয়। তার মাথা থেকে শীত হোক আর গরমকাল হোক- ১সেকেন্ডের জন্য টুপি সরে না। একারনে এলাকাবাসি তাকে টুপি প্রিন্স উপাধি দেয়।

৬। বিয়ে / স্বাদি-

কলেজ জীবনে তার এক বন্ধুর বাড়ি নীলফামারীতে বেড়াতে গিয়ে – বন্ধুর খালাতো বোনকে প্রেমের জ্বালে জড়িয়ে ফেলে । কিছুদিন যাওয়ার পর উভয়ের মদ্ধে আন্তরিকতা বেড়ে যায়। আস্তে আস্তে গভীর থেকে আরো গভীরে চলে যায়। পরে তিনি ঐ মেয়ে কে বিয়ে করতে অস্বীকৃতি জানান। একদিন এলাকাবাসি তাকে ধরে উত্তম-মধ্যম দিয়ে বিয়ে পড়িয়ে দেয়।

এই হলো হুমায়ুন কবির প্রিন্সের জন্ম থেকে বিয়ে পর্যন্ত ইতিহাস। এখন আশাযাক মুল আলোচনায়।

৭। প্রিন্সের পেশা কি ?

অনলাইন ভার্সণের একজন প্রতিবেদক, ডিগ্রি নেই তবুও সাংবাদিক দাবি। ডেমোনেস্ট্রের হয়েও নিজেকে পরিচয় দেন প্রফেসর।

তিনি দইখাওয়া বাজারে প্রকাশ্যে একজন মেয়ের নিকট জুতা পেটা হওয়ার পর চলে যান ঢাকা। সেখানে একটি পোশাক কারখানায় স্টোর কিপার পদে চাকরি নেন। ৬মাসের মাথায় চুরির কারনে চাকরি হারান তিনি। চলে আসেন গ্রামের বাড়ি হাতিবান্ধা উপজেলার ভুটুয়ামঙ্গল গ্রামে। বাড়ি এসে হাতিবান্ধা মডেল কলেজে ডিমোনেস্ট্রেটর পদে প্যানেলে নিয়োগ পান। এখানে বলে রাখা ভালো-তিনি যে কলেজে চাকরী পেয়েছেন সেই কলেজের বিগত ১০ বছর যাবৎ কোন বিল-ভাতা হয় নাই ভবিষ্যতে হবে কিনা সন্দেহ।

৮। প্রোফেসর পরিচয়ে প্রতারণা-

বর্নিত বিষয়ে আলোচনা করার আগে – চলুন জেনে নেই প্রফেসর কাহাকে বলে ? প্রোফেসর ইংরেজি শব্দ যার বাংলা অর্থ হলো অধ্যাপক। প্রথোমতো প্রভাষক পদে কোন কলেজে যোগদান করার ১০ বছর পর পরীক্ষার মাধ্যমে সহযোগী অধ্যাপক হন এবং তারো ৭ বছর পর পরীক্ষায় উর্ত্তিণ হলে অধ্যাপক উপাধি পান।

মিস্টার প্রিন্স একটি অনিবন্ধিত কলেজে প্যানেলে ডিমোনেস্ট্রেটর পদে যোগদান করেন- তিনি সারাজীবণ প্রভাষকই হতে পারবেন না, তাহলে তিনি নিজেকে প্রোফেসর পরিচয় দেন কিভাবে, এলাকার সচেতন মহল জানতে চায়।

এই প্রফেসর পরিচয়ে তিনি ৪ জনের নিকট ৬লাখ টাকা গ্রহণ করেছেন হাতিবান্ধা মডেল কলেজে চাকরি দিবে বলে। নিয়োগ প্রত্যাশিরা এখন তাকে আটক করে টাকা ফেরৎ নেয়ার ঘোষনা দিয়েছে।

এবিষয়ে হাতিবান্ধা মডেল কলেজের অধ্যক্ষ সাহেবের সাথে মুঠোফোনে কথা বলা হয়েছে- তিনি জানান টাকা নেয়ার বিষয়ে তিনি জানেন না। যদি প্রিন্স টাকা নিয়ে থাকে তাহলে বিধি মোতাবেক ব্যাবস্থা নেয়া হবে।

৯। রংপুর সিটি তে চাকরী দেয়ার নামে অর্থ প্রতারণা-

২০১৩ সালে রংপুর সিটি কর্পোরেশনে চাকুরী পাইয়ে দেয়ার নামে প্রিন্স ও তার আর একজন প্রতারক পার্টনার সহ ৯জনের নিকট ৩৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়। আজো কেউ চাকরিয়ো পায়নী টাকাও ফেরৎ পায়নী। এবিষয়ে জনাব প্রিন্সের সাথে মুঠো ফোনে কথা বলার চেষ্টা করা হলে- তিনি পরিচয় পাওয়ার সাথে সাথে ফোন কেটে দেন। তবে ভুক্তভুগীরা টাকা ফেরতের বিষয়ে এলাকায় গণস্বাক্ষর গ্রহনের কাজ চালাচ্ছে। অচিরেই আইনের আশ্রয় নিবে বলে জানা গেছে। এখন সেই টাকা দিয়ে প্রিন্স ও তার প্রতারক বন্ধু বাড়ি,গাড়ি,নার্সারী,ফার্ম দিয়ে বনে গেছেন ক্ষৃদ্র উদ্যোক্তা।

১০। নিজেকে জাতীয় পত্রিকার সাংবাদিক পরিচয়ে অর্থ প্রতারনা-

সাংবাদিক ও সাংবাদিকতা কাহাকে বলে, তা আগে জানতে হবে। প্রিন্স কোন জাতীয় পত্রিকার সাংবাদিক নন। তিনি একটি মফম্বল শহরের জেলা থেকে প্রকাশিত পত্রিকার হাতিবান্ধা সংবাদকর্মী। তিনি কোন নিয়োগপত্রও পাননী, পেয়েছেন ১বছর মেয়াদী একটি পরিচয়পত্র যাহার মেয়াদ আগামী ৪মাসের মদ্ধ্যে শেষ হবে।

১১। সাংবাদিক পরিচয়ে অর্থ প্রতারণার কৌশল-

তিনি বিভিন্ন সময় বিভিন্ন ব্যাক্তির নামে রিপোর্ট সংগ্রহ করেন- এবং ঐ ব্যাক্তির বাড়িতে নিজের ফোন নম্বর দিয়ে আসেন। সীমান্তবর্তী এলাকা হওয়ায় সেখানে ভারতীয় চোরাকারবারিদের সংখ্যা একটু বেশি। নিউজে প্রিন্সের জালে আটকা ব্যাক্তি-প্রিন্সের বাড়িতে এসে দেখা করেন। তখন প্রিন্স তার এক বন্ধুকে অন্যদিগন্ত পত্রিকার সম্পাদক আগে থেকেই প্রোক্সি হিসেবে বানিয়ে রাখেন। আক্রান্ত ব্যাক্তির সামনে লাউড স্পিকার দিয়ে কথা বলেন-

প্রিন্স- স্যার আসসালামুলাইকুম !

প্রোক্সি সম্পাদক- হ্যা বলেন !

প্রিন্স- স্যার কালকে যে নিউজটা করেছি, তা প্রকাশ করার দরকার নাই, পাটি আমার নিকট এসেছে, খরচ কত নিবো জানান।

প্রোক্সি সম্পাদক- বিশ হাজার টাকা লাগবে।

প্রিন্স- ঠিক আছে স্যার।

আলাপ শেষে পাটিকে বলে- শুনলেন তো বিশ হাজার টাকা লাগবে। এভাবে শত শত ব্যাক্তিকে প্রতারনার ফাঁদে ফেলে লাখ লাখ টাকা হাতিয়েছে এই প্রতারক প্রিন্স।

তেনার পরিচয়পত্রে অন্যদিগন্ত অনলাইন লেখা দেখা গেছে, যদিও পত্রিকাটির প্রিন্ট ভার্সণ আছে কিন্তু প্রিন্সের কোর নিউজ এপর্যন্ত কোন পত্রিকায় ছাপানো হয়নী বলে বিস্বস্ত সুত্রে জানা গেছে। তাছাড়া তেনার অন্যদিগন্ত পত্রিকা নিয়মিত প্রকাশিত হয়না। মাসে ৮/১০দিন প্রকাশ হয়, তাও ঢাকা সিটির মধ্যে সীমাবদ্ধ। শুধুমাত্র মাঝেমধ্যে অনলাইনে তার কিছু নিউজ প্রকাশ করেন বলে ওয়েবসাইট সুত্রে জানাগেছে।

অন্যদিগন্ত পত্রিকার সম্পাদক মোহাম্মদ মাসুদের সাথে হাতিবান্ধা প্রতিনিধি হুমায়ুন কবির প্রিন্সের অপকর্মের বিষয়ে আলাপ করতে চাইলে তিনি বলেন-প্রিন্স একজন প্রোফেসর মানুষ, তিনি কি এসব করতে পারে। পরে তেনাকে মোবাইল এসএমএসের মাধ্যমে সার-সংক্ষেপ অবগত করা হয়।

১২। সোনালী ব্যাংকে চাকুরীর প্রতারণা-

সম্প্রতি এই প্রতারক প্রিন্স সোঁনালী ব্যাংকে এমএলএসএস পদে চাকুরী দিবে বলে প্রার্থী খোঁজা-খুজি শুরু করেন। প্রার্থী পেয়েও জান ৩জন। টাকা নেন ৯লাখ – কিন্তু চাকরী আজো নাই। এবিষয়ে প্রতারক প্রিন্সের সাথে মুঠোফোনে কথা বললে তিনি জানান- আমার সম্পাদক মোহাম্মদ মাসুদ চাকুরি দিবেন । ঐ ৯লাখ টাকা আমি আমার সম্পাদক সাহেবকে দিয়েছি। এবিষয়ে মোঃ মাসুদের সাথে কথা বলতে চাইলে তিনি – কথা শুনার আগেই ফোন কেটে দেন।

তাছাড়া গোতামারী ইউনিয়নের সদা-হাস্যজ্জল ইউপি সদস্য মোঃ আতিয়ার রহমানের নিকট থেকে – থানার লাইনম্যান পদ পাইয়ে দেয়ার কথা বলে হাতিয়েছেন ত্রিশ হাজার টাকা।

এসব বিষয়ে এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখাগেছে। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত তিনি এখন নিজ বাড়িতে লিচু বাগানে দিব্যি ফেন্সিডিল ও ইয়াবা বিক্রি চালিয়ে যাচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

Application to the Ministry of Information for registration.