কাউন্সিলর পুত্রের একি কান্ড? বিয়ের মাস নাপেরোতেই দ্বিতীয় বিয়ের পিঁড়িতে বসছে!

চকরিয়া প্রতিনিধি

কাউন্সিলর পুত্র রানা বিয়ের ৩৫ দিনের মাথায় দ্বিতীয় বিয়ের পিঁড়িতের চেষ্টা করেছে আবদুল মান্নান রানা (২৮) নামে এক প্রতারক যুবক। চকরিয়া পৌরসভার ৭নং ওয়ার্ডের লালমিয়া সওদাগরপাড়া গ্রামের মাহমুদুল হক মুন্সি ও কাউন্সিলর আঞ্জুমান আরার পুত্র। সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের ৪ জুন চকরিয়া পৌরসভার ৭নং ওয়ার্ডের কাসেম মাষ্টারপাড়ার বাসিন্দা প্রবাসী বশির আহমদের কন্যা সুমাইয়া আক্তার সুমীকে প্রেম করে বিয়ে করেন একই ওয়ার্ডের মহিলা কাউন্সিলর আঞ্জুমান আরা বেগমের পুত্র আবদুল মান্নান রানা। বিয়ের দেড় মাস পরও স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কোন কলহ ছিলো না। কিন্তু প্রেমের বিয়ে উভয়ের পরিবার জানতো না। স্বামী আবদুল মান্নান রানা কক্সবাজার জজকোটে আইনজীবি সহকারি হিসেবে কাজ করতেন। স্ত্রী সুমাইয়া আক্তার সুমি বলেন, দুইজনের বাড়ি চকরিয়া পৌরসভায় হলেও বিয়ের পর স্বামীর কর্মস্থল কক্সবাজারে ভাড়া বাসায় থাকতাম। গোপনে বিয়ের বিষয়টি উভয় পরিবারে গোপন ছিল। এরই মধ্যে আবদুল মান্নান রানার বিয়ের জন্য পাত্রী খুঁজতে শুরু করে তাঁর পরিবার। সুমি আরও জানান, আমার শ্বাশুড়ী মহিলা কাউন্সিলর আঞ্জুমান আরা বেগম আমাকে নানাভাবে চাপ প্রয়োগ করতে থাকে। পরিবারের অনুমতি ছাড়া বিয়ে করায় বেপরোয়া হয়ে উঠে ওই মহিলা কাউন্সিলর। যার কারণে বিবাহ বিচ্ছেদ করার চাপ সৃষ্টিতে করেন। গত ৭ জুলাই বিকাল ৪টার দিকে কক্সবাজার পাহাড়তলী এলাকায় কাউন্সিলর আঞ্জুমান আরা বেগম তার লোকজন নিয়ে সেখানে আসেন। তাঁর পুত্র আবদুল মান্নান রানাকে বিয়ে করার কী প্রমাণ আছে জানতে চান তিনি। আমি বিয়ের দশ লাখ টাকার কাবিনানামা ও দুইজনের সংসারের বিভিন্ন ছবি তার কাছে তুলে ধরি। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেন কাউন্সিলর আঞ্জুমান আরা বেগম। এসময় স্বামী রানা আমার উপর রেগে মারধর করতে থাকে। একপর্যায়ে শ্বাশুড়ী কাউন্সিলর আঞ্জুমান আরা বেগম এবং শ্বশুর মাহমুদুল হক তাকে শারীরিকভাবে মারধর করতে থাকে। দুই-তিন দিনের মধ্যে তার ছেলে আবদুল মান্নান রানার সাথে অন্য মেয়েকে বিবাহ দেওয়া হবে বলে হুমকি দিয়ে চলে যান। স্ত্রী সুমির সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করে জানান, তাঁর স্বামীকে দ্বিতীয় বিয়ের অনুমতি না দেওয়ায় অমানষিকভাবে নির্যাতন চালিয়ে নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার লুট করেছে। প্রথম স্ত্রীকে না জানিয়ে দ্বিতীয় বার বিয়ের পিঠিতে বসার খবর নিয়ে ইতিমধ্যে চকরিয়া পৌরএলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যেরও সৃষ্টি হয়েছে। শ্বাশুড়ীর চাপে তাঁর স্বামীও তিনদিন ধরে যোগাযোগ বন্ধ করে দিয়েছে। ফোনও বন্ধ রেখেছে। এর দু’য়েক একদিনের মধ্যে ফাঁশিয়াখালী ইউনিয়নের এক মেয়ের সাথে বিয়ের আয়োজন চলছে বলে জানতে পারেন স্ত্রী সুমাইয়া আক্তার সুমী। তাদের সিদ্ধান্ত থেকে সরে না আসলে জড়িতদের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে মামলা করা হবে বলেও জানান তিনি। চকরিয়া পৌরসভার মহিলা কাউন্সিলার আঞ্জুমান আরা বেগম বলেন, তার পুত্র আবদুল মান্নান রানার সাথে সুমাইয়া আক্তার সুমীর বিবাহের বিষয় জানা নেই। তবে বিবাহের বিষয়টি দুয়েকদিন ধরে ফেসবুকে জানতে পারলাম। কতটুকু সত্য সেটাও জানি না। ওই মেয়ে আমাদের আত্মীয় হয়। সুমীর সাথে এক প্রবাসীর বিয়ে হয়েছে। এতোদিন তারা কেন গোপন করলো? ফাঁশিয়াখালী ইউনিয়নের এক মেয়ের সাথে তার পুত্রের বিবাহ চুড়ান্ত হয়েছে বলে জানান তিনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

Application to the Ministry of Information for registration.