কুতুবদিয়ায় ঘাট পারাপারে অনিয়ম টেকাতে শীঘ্রই সভা আহবান করার ঘোষনা দিলেন ইউএনও

কুতুবদিয়া প্রতিনিধিঃ কুতুবদিয়ায় ঘাট পারাপারের অনিয়ম নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা সমালোচনা চলছে লকডাউনের শুরু থেকেই।  কুতুবদিয়া উপজেলা প্রশাসন কঠোরভাবে অনিয়ম বন্ধে তাগিদ দিলেও কোন কাজে আসেনি। লাগামহীন অনিয়ম আর অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের বিষয়ে জনদূর্ভোগ মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। ইতিমধ্যে এসব অনিয়মের শিকার যাত্রী সাধারণ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে সমালোচনা করে নানা অনিয়মের বিরুদ্ধে সোচ্চার হচ্ছে। এতে প্রশাসন এবার আরো কঠোর সিদ্ধান্তে সংশ্লিষ্ট সকলকে নিয়ে সভা আহবান করার ঘোষণা দিলেন। কুতুবদিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার জিয়াউল হক মীর ঘাটপারাপারে অনিয়ম টেকাতে অধিকতর কঠোর সিদ্ধান্ত নিয়ে কুতুবদিয়াবাসীর প্রাণের দাবী পূরণে সবার সহযোগিতা কামনা করেছেন।

সচেতন মহলের দাবী, কুতুবদিয়ার ঘাট ইজারাদারেরা প্রশাসনের চেয়ে শক্তিশালী কিছুই নয়। সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কঠোর নজরদারি না থাকায় এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে মনে করছেন তারা।  ইউএনও শুরু থেকে কঠোর ভূমিকা পালন করলেও অসাধু ঘাট ইজারাদার প্রশাসনের নির্দেশ অমান্য করার সাহস দেখায় কি করে?  সচেতন মহল খুব শীঘ্রই প্রশাসনের কঠোরতার বাস্তবতা দেখতে চায়। প্রয়োজনে প্রতিটি ঘাটে গোপনীয়ভাবে নজরদারী করার পরামর্শ দিয়েছেন।

ইউএনও জিয়াউল হক মীর ঘাটপারাপারে অনিয়ম টেকাতে এবার সংশ্লিষ্ট সকলকে নিয়ে সভা আহবান করার ঘোষণা দিয়ে অফিসিয়াল ফেসবুক আইডি থেকে আজ নতুন করে আবেগঘন একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন।

ইউএনওর দেয়া স্যাস্টাটি হুবহু তুলে ধরা হল ঃ

ঘাট পারাপারে নৌকা ভাড়া ২০০/৩০০ টাকা নেওয়া হচ্ছে মর্মে যেসব অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে সেগুলোকে আমলে নিয়ে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের এই ভয়াবহ যন্ত্রণা থেকে কুতুবদিয়াবাসীকে মুক্তি দেওয়ার ব্যাপারে উপজেলা প্রশাসন যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে যাচ্ছে। অতি শীঘ্রই সংশ্লিষ্ট সকলকে নিয়ে সভা করে প্রিয় কুতুবদিয়াবাসীর এই কষ্ট দূর করতে চাই। কুতুবদিয়ায় করোনা সংক্রমণ রোধে ঘাট পারাপারসহ অন্যান্য সকল ক্ষেত্রে উপজেলা প্রশাসন যেমনি কঠোর অবস্থানে রয়েছে ঠিক তেমনি ঘাট পারাপারে ২০০/৩০০ টাকা ভাড়া নেওয়ার বিরুদ্ধে ও কঠোর অবস্থানে রয়েছে। এক্ষেত্রে সকলের সহযোগিতা কামনা করছি। কুতুবদিয়ার জন্য মঙ্গলজনক হয় এমন কিছু করার ব্যাপারে উপজেলা প্রশাসনের চেষ্টা অব্যাহত থাকবে। প্রিয় কুতুবদিয়াবাসী, আপনারা নিশ্চয়ই জানেন যে, বাংলাদেশে করোনা সংক্রমণের শুরু থেকেই কুতুবদিয়া উপজেলায় করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে উপজেলা প্রশাসন স্বাস্থ্য বিভাগ, পুলিশ, নৌবাহিনী, কোস্ট গার্ড, আনসার, গ্রাম পুলিশ, সরকারি অন্যান্য সকল দপ্তর, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ, সুশীল সমাজ, গণমাধ্যম কর্মী, স্কাউট, স্বেচ্ছাসেবক, বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থা, সম্মানিত জনসাধারণ সকলকে নিয়ে দিনরাত কাজ করে যাচ্ছে। শুরু থেকেই কুতুবদিয়ায় করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য ঘাট পারাপারসহ সংশ্লিষ্ট সকল ক্ষেত্রেই উপজেলা প্রশাসন যথেষ্ট কঠোর ছিল। এ কঠোরতার জন্য কেউ কেউ উপজেলা প্রশাসনের সমালোচনা ও করলে ও আমরা পিছপা না হয়ে শুধুমাত্র কুতুবদিয়ার স্বার্থে কঠোর অবস্থানে রয়েছি। কুতুবদিয়াকে করোনার ভয়াল থাবা থেকে রক্ষার জন্য আমাদের চেষ্টার কোন কমতি নেই, আন্তরিকতার কোন ঘাটতি নেই এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে আমাদের কঠোরতা অব্যাহত থাকবে। শত ব্যস্ততার মাঝে ও আমরা কুতুবদিয়াবাসীর সকল আবেদন/নিবেদন/অভিযোগ সবকিছুকেই সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখার চেষ্টা করি। যে কোন সমস্যার সমাধানের চেষ্টা করি। ঠিক তেমনি বাড়তি ভাড়ার অভিশাপ থেকে কুতুবদিয়াবাসীকে রক্ষা করার জন্য ও অতি শীঘ্রই উপজেলা প্রশাসন যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করব ইনশাআল্লাহ। উপজেলা প্রশাসন জনগণের কল্যাণে সদা নিবেদিত। কুতুবদিয়াকে রক্ষা করার দায়িত্ব আমাদের সকলের। আসুন, আমরা সবাই যার যার দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করে কুতুবদিয়াকে ভাল রাখি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

Application to the Ministry of Information for registration.