প্রতিদিনই মানবতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করে চলছেন ইউএনও জিয়াউল হক মীর

বিশেষ প্রতিনিধি, কুতুবদিয়া:
“নাম- মোজাফফর আহমদ, বয়স ৬৫ বছর, পিতা মরহুম করিম দাদ , সাং পরান সিকদার পাড়া , ইউনিয়ন-কৈয়ারবিল, উপজেলাঃ কুতুবদিয়া , কক্সবাজার”।
বিগত ৪ বছর আগে গাছে উঠে ডালপালা কাটতে গিয়ে উঁচু গাছ থেকে পড়ে গিয়ে পা ও কোমরের হাড় ভেঙ্গে যায় মোজাফফরের। ফলে পুঙ্গুত্ব নিয়ে জীবনযাপন করতে হয় তাকে। চকরিয়ার হারবাং এলাকায় সরকারী রির্জাভ জায়গায় দিনমজুর মোজাফফর বহু কষ্টে পরিবার পরিজন নিয়ে দিনাতিপাত করে আসছিলেন। মোজাফফর কর্জ পরিশোধ আর নানা সমস্যার কারণে জায়গাটি বিক্রি করে দেন।নিঃস্ব হয়ে সাম্প্রতিক লক ডাউনের কারনে মোজাফফর তার স্ত্রী, পুত্র, স্বামী পরিত্যক্ত এক মেয়ে ও ছোট ছোট আরও দুই কন্যাকে নিয়ে গত ১৫ মে ২০২০ তারিখ কুতুবদিয়ার পৈত্তিক বসত ভিটায় বসবাস করার উদ্যোশ্যে চলে আসেন। মোজাফফর পরিবার নিয়ে বসবাস করার জন্য নিজের পিতার রেখে যাওয়া জায়গায় ঘর করে থাকার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করে যাচ্ছেন। যেখানে ক্ষুধার রাজ্যে পৃথিবী গদ্যময় সেখানে অর্থাভাবে জর্জরিত হওয়ায় তা মোটেও সম্ভব হচ্ছে না।
এদিকে লকডাউনের সময় মোজাফফর ও তার পরিবার কুতুবদিয়া চলে আসলে থাকার জন্য ঘর না থাকায় আশ্রয় নেন তার অপর ছোট ভাই ইসহাকের বাড়িতে। ইসহাকের পরিবারও আর্থিকভাবে তেমন সচ্ছল নয়। ফলে আপাতত থাকার জায়গা মিললেও মোজাফফর তার স্ত্রী পুত্র ও কন্যা সন্তানদের নিয়ে তীব্র খাদ্য সংকটে পড়েন। সামান্য টাকা পয়সা যা ছিল তা গাড়ি ভাড়া আর খাবার কিনতেই শেষ হয়ে যায়। এমতাবস্থায় ক্ষুধা যন্ত্রণা নিয়ে খেয়ে না খেয়ে নানা চিন্তায় অসুস্থ হয়ে পড়ে মোজাফফরের স্ত্রী। খাদ্য সংকটে কষ্টে আছে মোজাফফরের অসহায় পরিবার এ খবর স্থানীয়দের মাধ্যমে কুতুবদিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার মানবতাবাদি জিয়াউল হক মীর এর কানে পৌঁছে যায়। মানবিক ইউএনও জিয়াউল হক মীর অসহায় পরিবারের কথা শুনে তাৎক্ষনিকভাবে অফিসের কর্মচারীকে দিয়ে খাবার সামগ্রী পাঠিয়ে দেন মোজাফফরের পরিবারে। সেসাথে আশ্রয়কৃত ইসহাকের পরিবারেও মানবিক খাদ্য সহায়তা প্রদান করেছেন।
পরোপকারী মানবতাবাদী ইউএনওর এক ঘন্টার মধ্যে দিনমজুর অসহায় মোজাফফরের পরিবারে খাদ্য সহায়তা পৌঁছে দিয়ে মানবতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন বলে মনে করেছেন কুতুবদিয়ার সচেতন মহল।অত্যান্ত মেধাবী, সৃজনশীল ও মানবপ্রেমী মানুষ হওয়ায় কর্মক্ষেত্রে সবার তাঁর প্রশংসায় পঞ্চমুখ। করোনা মোকাবিলায় সরকারের বিভিন্ন কর্মসূচী বাস্তবায়নে তিনি দিন রাত পরিশ্রম করছেন। বাড়িতে বাড়িতে খবার পৌঁছান, সুষ্ঠ ভাবে ত্রাণ বণ্টন, শিশু খাদ্য বিতরণ, জনসচেতনতা তৈরি, মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে বাজারের নিত্য পণ্যের দাম ও মান নিয়ন্ত্রণ, প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারাইন্টাইন আইসোলেশন সেন্টার তৈরি করা, করোনায় আক্রান্তদের নিয়মিত খবর রাখা, হ্যান্ড ওয়াশ ও মাস্ক বিতরণসহ নানান ধরনের সৃজনশীল কর্মকান্ডের মাধ্যমে করোনার বিস্তার রোধ ও অসহায় মানুষের জন্য সাধ্যের মধ্য থেকে সাহায্য করে যাচ্ছেন। ইতিপূর্বে ইউএনও লবণচাষী রেজিয়াকে মা সম্বোধন করে পরিবারের পাশে দাঁড়ানো, অসুস্থ মুক্তিযোদ্ধাকে নিজের ব্যবহৃত সরকারী গাড়িতে করে চিকিৎসার জন্য পাঠানো অসংখ্য অসহায় পরিবারের পাশে মানবিক সহযোগিতা প্রদান করে একজন মানবিক ইউএনও ত্রাণ কর্তার খ্যাতি অর্জন করেছেন। অসহায় মোজাফফরের পরিবারে সহায়তা এটিও একটি মানবতা। কুতুবদিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জিয়াউল হক মীরের এ ধরনের মানবিক আচরণ ও কর্মকান্ড অহরহ রয়েছে। প্রতিদিন কোন না কোন মানবিক কাজ করে চলছেন তিনি। এমন একজন চৌকস কর্মকর্তার আদর্শিক ও মানবতাবাদী কার্যক্রম প্রশাসনকে সর্বস্থরে প্রশংসিত করছে।
এদিকে খাদ্য সহায়তা পেয়ে মোজাফফর ও তার পরিবার অনেক খুশি হয়েছেন। ষাটোর্ধ মোজাফফর এ প্রতিনিধিকে বলেন, গত ১৫ মে কুতুবদিয়া চলে এসেছি। লকডাউনে কাজ কর্ম করতে পারিনি। সামান্য টাকা যা ছিল তাও গাড়ি ভাড়া ও খাবার কিনে খরচ হয়ে গেছে। এখন টাকা পয়সার অভাবে খুবই কষ্টে আছি। ইউএনও স্যার আমাদের খবর নিয়ে চাল ডাল সহ খাবার সামগ্রী দিয়েছে তাতে আমরা খুব খুশি হয়েছি। স্যারের জন্য দুহাত তুলে দোয়া করেছি। সামনে কিভাবে চলব আল্লাহ ভাল জানে। পৈত্তিক ভিটায় একটা ঘর করে থাকতে চাই কিন্তু টাকা পয়াসা না থাকায় ঘর করতে পারছি না। আমি এ ব্যাপারে ইউএনও স্যারের সহযোগিতা কামনা করেছি।ইউএনও স্যার আমার এরকম বাস্তুহারা অবস্থার কথা জেনে আমাকে সরকারিভাবে ঘর করে দেওয়ার ব্যাপারে আশ্বস্ত করেছেন।
এ ব্যাপারে ইউএনও জিয়াউল হক মীর বলেন, স্থানীয়দের মাধ্যমে ফোনে জানতে পেরেছি মোজাফফরের পরিবারটি খাদ্য সংকটে সীমাহীন কষ্টে আছে। সাথে সাথে আমার অফিসের স্টাফের মাধ্যমে খাবার পৌঁছানোর ব্যবস্থা করেছি। পরে বাস্তুহারা অবস্থার কথা জেনে সরকারিভাবে ঘর করে দেওয়ার ব্যাপারে আশ্বস্ত করেছি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

Application to the Ministry of Information for registration.