কুতুবদিয়ায় করোনা প্রতিরোধে নানামুখি জোর তৎপরতায় উপজেলা প্রশাসন

এ.কে.এম রিদওয়ানুল করিম ঃ কুতুবদিয়াকে করোনা মুক্ত রাখতে উপজেলা প্রশাসন শুরু থেকে ব্যাপক তৎপরতা চালিয়ে আসছে। যার কারণে কুতুবদিয়া অনেকটা করোনা মুক্ত ছিল বললে চলে। এ কারনে কুতুবদিয়া উপজেলা প্রশাসনের কার্যক্রম নিয়ে ব্যাপক প্রশংসা করেছিল কুতুবদিয়াবাসী তথা কক্সবাজারের জনসাধারণ। কিন্তু বিগত কয়েকদিনের ব্যবধানে করোনা সংক্রামক কুতুবদিয়া ব্যাপক হারে ছড়িয়ে পড়ায় অনেকটা হতাশার ছায়া নেমে এসেছে দ্বীপ কুতুবদিয়াবাসীর মাঝে। তবে আশার কথা হল চরম হতাশার মাঝেও স্বস্তি এনে দিতে নির্ঘুম কাজ করে যাচ্ছে কুতুবদিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জিয়াউল হক মীর এর নেতৃত্বে কুতুবদিয়া উপজেলা প্রশাসন।

সংক্রামক প্রতিরোধে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ২৫ জুন জরুরী সভা আহবান করে নেয়া হয়েছে নানা মুখি কার্যকরী সিদ্ধান্ত। উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে নেয়া করোনা সংক্রান্ত জরুরি সভার সিদ্ধান্ত সমূহ:
(২৬ জুন ২০২০) থেকে ১০ জুলাই ২০২০ পর্যন্ত-
১) কুতুবদিয়া উপজেলায় ঔষধ, জ্বালানী, ফ্লেক্সিলোড এবং নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্য (মুদি দোকান, মাছ বাজার, কাঁচা বাজার) ব্যতীত অন্যান্য সকল দোকান পাট বন্ধ থাকবে। (বন্ধ রাখা দোকানের মালিক শ্রমিকদের তালিকা করার জন্য ইউপি চেয়ারম্যানগণকে নির্দেশনা দিয়েছি। তাদেরকে খাদ্য সহায়তা দেয়া হবে।)
২) জ্বালানী, ফ্লেক্সিলোড এবং নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের দোকানের ক্ষেত্রে –
বড়ঘোপ বাজার – সোম, বুধ ও শুক্রবার (৩ দিন)
ধুরং বাজার – শনি, মঙ্গল, বৃহঃ বার (৩ দিন)
চৌমুহনী বাজার- সোম, বুধ ও শুক্রবার(৩ দিন)
সকাল ৮ঃ০০ টা থেকে বিকাল ৪ঃ০০ টা পর্যন্ত সামাজিক দূরত্ব এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে খোলা থাকবে।
৩) ঔষধের দোকান সবসময় খোলা রাখা যাবে।
৪) যেসব ক্রেতা মাস্ক পরিধান করবেননা তাদের কাছে বিক্রেতাগণ কোন পণ্য বিক্রি করবেননা।
৫) গণপরিবহন চলাচল সম্পূর্নরূপে বন্ধ থাকবে (রোগী এবং নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্য পরিবহন সংশ্লিষ্ট গাড়ি ব্যতীত)। (বন্ধ রাখা গাড়ির মালিক শ্রমিকদের তালিকা করার জন্য ইউপি চেয়ারম্যানগণকে নির্দেশনা দিয়েছি। তাদেরকে খাদ্য সহায়তা দেয়া হবে)।
৬) মসজিদ সমুহে ৫ ওয়াক্ত নামাজের জামাতে ৫ জনের বেশি লোক অংশগ্রহণ করা যাবে না।
৭) উত্তর ধুরুং ইউনিয়নের ৭ নং ওয়ার্ডের মসজিদ পাড়া এলাকাটি লকডাউন থাকবে।
৮) উপজেলা প্রশাসনের অনুমতি সাপেক্ষে কেবলমাত্র চিকিৎসা বা জরুরি প্রয়োজনে কুতুবদিয়ায় প্রবেশ করা বা কুতুবদিয়ার বাইরে যাওয়া যাবে। যারা কুতুবদিয়ায় প্রবেশের অনুমতি পাবেন তারা কুতুবদিয়ায় অবস্থান করলে ১৪ দিনের কোয়ারেন্টাইনে থাকতে হবে। এ ধরনের জরুরি ঘাট পারাপারের ক্ষেত্রে ঘাট পরিচালনাকারী সামাজিক দূরত্ব এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনেই ঘাট পরিচালনা করবেন।
কুতুবদিয়ার স্বার্থে উপরোক্ত সিদ্ধান্ত সমূহ মেনে চলুন।
ঘরে থাকুন, সুস্থ থাকুন।

করোনা সংকট দ্রুত মোকাবিলা করার জন্য উপজেলা প্রশাসনের এসব যুগোপযোগী সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও বাস্তবায়নে নির্ঘুম কাজ করে যাচ্ছে ইউএনও জিয়াউল হক মীর, সহকারী কমিশনার মোঃ হেলাল চৌধুরী, কুতুবদিয়া থানা প্রশাসন, নৌবাহিনী, আনসার, জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ।

সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ২৯ জুন কুতুবদিয়া উপজেলায় করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধে ঘাট পারাপার কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ, যানবাহন চলাচল নিয়ন্ত্রণ, নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের দোকান ব্যতীত অন্যান্য দোকান বন্ধ নিশ্চিত করা, বাজার মনিটরিং, সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিতকরণে ইউএনওর নেতৃত্বে মাঠ পর্যায়ে ব্যাপক তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে।

উপজেলা প্রশাসন, পুলিশ ও নৌবাহিনীর যৌথ টহল সর্বদা বিরাজমান রয়েছে । সাথে থেকে সহযোগিতা করতে দেখা গেছে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আওরঙ্গগজেব মাতবরসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

ইউএনও জিয়াউল হক মীর বলেন,  কুতুবদিয়ায় করোনা সংক্রামক প্রতিরোধে নানামুখি যুগোপযোগী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। বাস্তবায়নে সমগ্র কুতুবদিয়ায় জোর তৎপরতা নিয়ে কাজ করছে উপজেলা প্রশাসন, পুলিশ , নৌবাহিনী, জনপ্রতিনিধি, রাজনীতিক নেতৃবৃন্দ, আনসার সদস্য, স্বেচ্ছাসেবকসহ সচেতন মহল।

সিদ্ধান্ত সমূহ বাস্তবায়নের মাধ্যমে ইনশাল্লাহ কুতুবদিয়াকে করোনামুক্ত করতে সক্ষম হবো। করোনা সংক্রামক প্রতিরোধে তিনি সকলের সহযোগিতা কামনা করেছেন। শীঘ্রই সবার সহযোগিতায় কুতুবদিয়া আবারও করোনা মুক্ত হবে এমনটি জানিয়েছেন ওই কর্মকর্তা।

 

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

Application to the Ministry of Information for registration.