পেকুয়ায় অস্ত্র নিয়ে রাতে ৫টি দোকানে হামলা শীর্ষক সংবাদে ভুক্তভোগী রফিকের সংবাদ সম্মেলন

 

প্রেস বিজ্ঞপ্তিঃ

গত মঙ্গলবার (১৬জুন) আমাদের পেকুয়া নিউজসহ আরো বেশ কয়েকটি অনলাইন নিউজ পোর্টালে প্রকাশিত পেকুয়ায় অস্ত্র শস্ত্র নিয়ে রাতে ৫টি দোকানে হামলা শীর্ষক সংবাদটি মিথ্যা, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন দাবী করে সংবাদ সম্মেলন করেছে দোকানের মালিক পেকুয়া সদর ইউনিয়নের ভোলাইয়্যা ঘোনা এলাকার মৃত বজল আহমদের ছেলে মোঃ রফিক আহমদ।

বৃহস্পতিবার(১৮জুন) দুপুরে ভোলাইয়্যাঘোনাস্থ নিজস্ব বাসভবনে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পড়ে শুনান রফিক আহমদ।

রফিক আহমদ বলেন,প্রিয় সাংবাদিক ভাইয়েরা
আপনাদের মাধ্যমে প্রশাসনের সকল স্তর ও দেশবাসীকে জানাতে চাই যে, গত ১৬ জুন ২০২০ তারিখে আমাদের পেকুয়া নিউজসহ আরো বেশ কয়েকটি অনলাইন নিউজ পোর্টালে” পেকুয়ায় অস্ত্র শস্ত্র নিয়ে রাতে ৫টি দোকানে হামলা ” শীর্ষক প্রকাশিত সংবাদটি আমার দৃষ্টিগোচর হলে সংবাদে মোক্তার আহমদের উপস্থাপিত মনগড়া মিথ্যা ভিত্তিহীন বানোয়াট কথা গুলো তীব্র প্রতিবাদ জানাতে এবং প্রকৃত ঘটনার ব্যাখ্যা তুলে ধরতে আমার পক্ষ থেকে সংবাদ সম্মেলনটি আয়োজন করেছি।

প্রিয় সাংবাদিক বন্ধুগণ গত ১৬ তারিখে প্রকাশিত সংবাদে উল্লেখ করা হয় যে, হাজী মোক্তার আহমদ পেকুয়া বাজারের পশ্চিম পার্শ্বে মগনামা চকরিয়া সড়কের লাগোয়া ৫ টি দোকান ঘর নির্মাণ করেন। ১৯৯৭ সালের দিকে সরকারী খাস শ্রেণীর জায়গা রক্ষনাবেক্ষন ভরাট করে এ সব দোকানঘর নির্মাণ করেছেন। দেশীয় তৈরী অস্ত্র শস্ত্রসহ ভাড়াটে লোকজনসহ ২০/২১ জনের দূর্বৃত্তরা রাতে দোকানে অনুপ্রবেশ করে। এ সময় এ সব ব্যবসা প্রতিষ্টান থেকে বিপুল পরিমাণ মালামাল লুট করে। যাহা বানোয়াট, ডাহা মিথ্যা, ভিত্তিহীন, মনগড়া কথা ও প্রতারণার সামিল।

প্রিয় সাংবাদিক বন্ধুগণ, প্রকৃত কথা হলো এই যে, পেকুয়া উপজেলার সদর ইউনিয়নের আলহাজ্ব কবির আহমদ চৌং বাজারের পশ্চিম পাশে আমার পিতা মৃত বজল আহমদের নামে ১৯৬৭-১৯৬৮ সনের ৫০ নং বন্দোবস্তি মামলার ৫৪৬ নং নিবন্ধনকৃত সরকারি দলিল মূলে স্বত্ববান হয়। যাহা আরএস দাগ নং-১৭০৭ ‘দ’ ৩৬১ তুলনা মুলক বিএস দাগ নং- ৪৬২৭ জমির পরিমান ৬১ শতক। উক্ত জমিতে আমার পিতা বজল আহমদ শান্তিপূর্ণভাবে ভোগ দখল ছিল।
বিগত ২২-০৫-২০০২ ইংরেজী সনে উক্ত জায়গা ১নং খাস খতিয়ানে শ্রেণীভুক্ত করে সরকার। ১নং খাস খতিয়ানে শ্রেণীভুক্ত করার বিরুদ্ধে আমার পিতা বজল আহমদ বাদি হয়ে চকরিয়া সহকারি জজ আদালতে ২০-০৬-২০০২ ইং সনে অপর মামলা নং- ১২১/২০০২ ইং মামলা দায়ের করে । পরবর্তী ৩১-০৭-২০০৬ ইং সনে উক্ত মামলায় বাদি বজল আহমদের পক্ষে রায় প্রদান করে।

এ রায়ের বিরুদ্ধে কক্সবাজার জেলা প্রশাসক ১৩-০৯-২০০৬ ইং সনে বিজ্ঞ জেলা জজ আদালত কক্সবাজার বরাবরে অপর আপিল মামলা নং- ৪৩/২০০৬ দায়ের করেন ।
২৬-১১-২০১৯ ইং তারিখে সরকারের পক্ষে রায় প্রদান করেন।

২৬-১১-২০১৯ ইং তারিখের রায়ের বিরুদ্ধে মহামান্য হাইকোটে মৃত বজল আহমদের ছেলে আমি রফিক আহমদ গং আপিল করলে মহামান্য হাইকোট আপিল শুনানি শেষে ০৩-০৩-২০২০ ইং তারিখে ২৬/১১/২০১৯ তারিখে দেওয়া রায় স্থগিত করেন।

আমি রফিক আহমদ আরো বলতে চাই,আমার পিতা বজল আহমদের জিবদ্দশায় তাহাঁর ভাতিজা মোক্তার আহমদকে অস্থায়ী ভাবে আংশিক জায়গায় বসবাসের মৌখিক অনুমতি দেন।

পরবর্তিতে মোক্তার আহমদ আমাদের জায়গার পার্শ্ববর্তী ৯৭ নং খতিয়ান ৪৬২৬ দাগ হইতে জায়গা ক্রয় করে প্রায় দেড় কোটি টাকা ব্যয়ে দালান নির্মাণ করে বসবাস করছে ।

এরপর আমার পিতা বজল আহমদের পরিবারের আর্থিক অসুবিধার কারণে ২০০৯ সালে তার ভাতিজা মোক্তার আহমদকে আমাদের ভোগদখলীয় জায়গায় জীবিকা নির্বাহ করার উদ্দেশ্যে এ ৫টি দোকান নিমার্ণ করার জন্য বলেন। ওই ৫ দোকান মোক্তার আহমদ ৩ বছরের জন্য ভোগ দখলে থেকে তিন বছর পরে দোকান ছাড়িয়া দিবে মর্মে চুক্তিপত্র হয়েছিল।

এরপর ১৯-০২-২০১২ ইং তারিখে দলিল নং-১৩৪৬ মুলে ৬১ শতক জায়গা পিতা বজল আহমদ বেঁচে থাকাবস্থায় ৫ সন্তানকে সাধারণ আমমোক্তারনামা দলিলমূলে সাব-রেজিস্ট্রারী প্রদান করেন।

এদিকে ৩ বছর চুক্তির মেয়াদ শেষে মোক্তার আহমদ হইতে দোকান ঘর ফেরৎ চাইলে তার ছেলে ছাত্রদলের পেকুয়া উপজেলার সভাপতি বলে ক্ষমতা দেখিয়ে মামলা হামলার ভয় দেখায়।

ক্ষমতার প্রভাব কাটিয়ে টাকার বিনিময়ে আমাদের সন্তাদের বিভিন্ন মামলা মোকদ্দমায় জড়িয়ে দিবে এমন কি প্রাণে হত্যার হুমকি দেখিয়ে দোকান ঘর তার দখলে রাখে।

বিগত ৬ মাস আগে আমাদের দোকান আমাদের দখলে নিতে দোকান ভাড়াটিয়াদের আমাদের অনুকুলে জমির সমস্ত কাগজপত্র দেখাইয়্যা বের করে দিয়ে নিজেদের দখলে নিয়ে আসি এবং সব দোকান বন্ধ অবস্থায় রাখি।

গত ১৬-০৬-২০২০ইং সকাল ৭ টার দিকে ২ টি দোকান খুলে নিজেরা ব্যবসা বানিজ্য শুরু করি।বর্তমানে এসব দোকানে আমাদের রক্ষিত ১ লক্ষ টাকার মালামাল রয়েছে এবং শান্তি পূর্ণ ভাবে ব্যবসা পরিচলনা করতেছি।

ঐদিন সকাল অনুমানিক ১১ টার দিকে মোক্তারের ছোট ছেলে ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি জাহেদ হোসেন ও মাফিয়া সম্রাট পরিচয়দানকারী সাজ্জাদ হোসেন তার ক্যাডারদের নিয়ে অস্ত্র সজ্জিত হয়ে মহড়া দিয়ে হাকাবকা করে পূর্বের ন্যায় মিথ্যা মামলা জড়িয়ে হয়রানি করার হুমকি দিয়ে চলছে।

এ ঘটনাটি পেকুয়া থানা খবর পেলে এসআই ইয়াকুবুল ইসলাম ভুঁইয়া ঘটনাস্থল পরির্দশন করে। পরে ছাত্রদলের ক্যাডার জাহেদ হোসেন পেকুয়ায় কর্মরত সাংবাদিকদের মিথ্যা তথ্য ও ভুল বুঝিয়ে বিভিন্ন অনলাইন পত্রিকায় আমাদের নামে মিথ্যা ভিত্তিহীন বানোয়াট তথ্য দিয়ে সংবাদ প্রচার করে। আমি এর তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে প্রকৃতি অপরাধীদের আইনের আওয়তায় এনে শাস্তি দাবি করছি এবং এসব সংবাদে বিভ্রান্ত না হওয়ার অনুরোধ জানাচ্ছি ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

Application to the Ministry of Information for registration.