চকরিয়ার মালুমঘাট পূর্বডুমখালীতে নতুন করে সন্ত্রাসী বাহিনীর আবির্ভাব ও তান্ডব, প্রতিকার চেয়ে এমপি’র কাছে এলাকাবাসীর অভিযোগ

চকরিয়া প্রতিনিধি:
চকরিয়া উপজেলার ডুলাহাজারা ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের মালুমঘাট পূর্বডুমখালী সওদাগরঘোনা পাড়া এলাকায় নতুন করে সন্ত্রাসী বাহিনীর তান্ডব শুরু হয়েছে। তাদের অত্যাচার, জোরজুলুম, দখলবাজী থেকে রক্ষা পাচ্ছেনা কেউ। এসব বাহিনীর তান্ডব থেকে রক্ষা পেতে স্থানীয় এলাকাবাসী চকরিয়া পেকুয়া আসনের মাননীয় জাতীয় সংসদ সদস্য আলহাজ্ব জাফর আলম এমএ’র কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন। তিনি বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে জরুরী ভিত্তিতে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য চকরিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছেন।
অভিযোগে জানাগেছে, ডুলাহাজারা ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের মালুমঘাট পূর্বডুমখালী সওদাগরঘোনা পাড়া এলাকায় বসবাসকারী অধিকাংশ পরিবার চিরিঙ্গা ইউনিয়নের সাবেক বাসিন্দা। তারা বিগত ১৯৯১ এর মহাপ্রলংকারী ঘূর্ণিঝড়ের পর থেকে দীর্ঘ প্রায় ৩০বছর ধরে বনবিভাগের রিজার্ভ ভূমিতে পরিবার পরিজন নিয়ে বসবাস করছেন। এরমধ্যে বিভিন্ন সময়ে এলাকায় গড়ে উঠা বিভিন্ন সন্ত্রাসী বাহিনীর সাথে জমি দখল বেদখল নিয়ে অনেক ঘটনাও সংঘঠিত হয়েছে। চিরিঙ্গা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান কেএম ছালাহ উদ্দিনকে সাথে নিয়ে পুলিশের সহযোগিতায় অনেক কিছু মোকাবেলা করে সমাধানও হয়েছিলো।
বিগত সময়ে পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাথে সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের জন্য নানান বিষয়ে বন্দুক যুদ্ধে পৃথক পৃথক ঘটনায় বেশ কিছু সন্ত্রাসী মারা গেছে। কিন্তু কিছুদিন পর পর নতুন করে কিছু বাহিনীর আবির্ভাব ঘটে।
অভিযোগ উঠেছে, দেশে করোনা ভাইরাসের বর্তমান অবস্থাকে কাজে লাগিয়ে স্থানীয় শাহ আজম খানের পুত্র মোঃ সাগর ও সবুজ, কবির আহমদ প্রকাশ সোনা মাস্টারের পুত্র নজরুল ইসলাম বাবু, রহমত উল্লাহ’র পুত্র মোঃ হামিদ, এনাম সওদাগরের পুত্র আনিছুর রহমানসহ ১০/১৫জনের একদল বাহিনী গত ৩০মে’২০ইং বিকাল ৫টার দিকে স্থানীয় পূর্বডুমখালী সওদাগরঘোনা পাড়া গ্রামের খেলার মাঠ সংলগ্ন মৃত শামসুল আলমের বাড়িতে অতর্কিত অবস্থায় ঢুকে বসতবাড়ির গাছপালা, ঝলি বেড়া, বাড়ির দেয়াল ভাংচুর ও হামলা চালায়। এসময় ঘটনা কি জানতে চাইলে মৃত শামসুল আলমের পুত্রবধু রেবেকা সোলতানা রিফা (২২)কে বেধম মারধর করে এবং শ্লীলতাহানীসহ বিবস্ত্র করার চেষ্টা করে। তাকে বাঁচাতে বৃদ্ধা শ্বাশুড়ী এগিয়ে আসলে তাকেও সন্ত্রাসী কায়দায় মারধর করে। এসময় বেশ কিছু গাছ কেটে নিয়ে যায়। হুমকি প্রদান করে সেখান থেকে বসতঘর উঠাইয়া অন্যত্রে চলে না গেলে ঘর বাড়ি আগুনে পুড়িয়ে দেয়ার। একই নিয়ম চলছে অন্যান্য অসহায় পরিবার সমূহেও। হতভাগা পরিবার সমূহ কোন উপায়ান্তর না পেয়ে চলতি ২জুন’২০ইং মাননীয় এমপি’র স্বরনাপন্ন হন।
চকরিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ হাবিবুর রহমান জানান, মাননীয় সংসদ সদস্য মহোদয়ের সুপারিশকৃত অভিযোগটি পেয়েছেন। তা তদন্ত করে সত্য প্রমাণিত হলে আইনগত কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

Application to the Ministry of Information for registration.