চকরিয়ার বদরখালীতে মিথ্যাচার নিয়ে ঘাট ইজারাদারকে থানার ওসি’র তুলোধুনা

চকরিয়া (কক্সবাজার) প্রতিনিধি:

কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার বদরখালী ইউনিয়নের ১নং ব্লকের ১নং ওয়ার্ডের উত্তরনতুন ঘোনা গ্রামের পয়েন্ট এলাকা দিয়ে চলাচলরত “বদরখালী- করিয়ারদিয়া ফেরীঘাট” ইজারা গ্রহীতা ৩নং ব্লকের ৬নং ওয়ার্ডের মগনামা পাড়ার বাসিন্দা মোঃ শফি উদ্দিনের পুত্র বখতিয়ার উদ্দিন রুবেলের সাথে ঘাট ইজারার ভিন্ন একটি বিষয় নিয়ে সম্প্রতি বিরোধ সৃষ্টি হয় “শাহ মজিদিয়া রশিদিয়া আদর্শ বালিকা মাদরাসা ও মসজিদ” কমিটির সাথে। ওই বিরোধকে কেন্দ্র করে ইজারাদার কর্তৃক মাদরাসার পক্ষ এবং স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে চকরিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ হাবিবুর রহমান তাঁর কার্যালয়ের কনফারেন্স কক্ষে বৈঠকে বসেন। ওই বৈঠকের এক পর্যায়ে জনৈক ৬০বছর বয়সী বয়োবৃদ্ধ মৌলভী আলী আকবর ও মাদরাসাকে জড়িয়ে উত্তেজনা মূলক ও জনবিভ্রান্তিকর মিথ্যাচার করায় এবং বিভিন্ন মাধ্যমে ভূ্ল তথ্য দেয়ায় ইজাদারকে মৌখিকভাবে তুলোধুনা করেন। এসময় ইজারাদার রুবেল দুঃখও প্রকাশ করেন। বৈঠকে উভয় পক্ষের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন।

স্থানীয় সূত্রে জানাগেছে,২০০৬ সালে স্থানীয়দের দান-অনুদানে বদরখালী সমবায় কৃষি ও উপনিবেশ সমিতির মালিকানাভূক্ত জমিতে অনুমতি সাপেক্ষে প্রতিষ্টিত হয় “শাহ মজিদিয়া রশিদিয়া আদর্শ বালিকা মাদরাসা”। প্রতিষ্টিত হয় একটি মসজিদও। কিন্তু এরপূর্বে বিগত ১৯৭৯ সনে পরিষদ প্রতিষ্ঠার পর হতে বিগত ৪০বছর ধরে অন্যস্থানে এ প্রতিষ্ঠানটি চালু ছিল। ওই স্থানে পূণরায় মাদরাসা প্রতিষ্ঠার পর থেকে স্থানীয় জনসাধারণ ও মাদরাসা- মসজিদ কমিটির মতামতের ভিত্তিতে তাদের কয়েক লক্ষ টাকা মানবিক সহায়তায় মাদরাসা ও মসজিদ সংলগ্ন সাধারণ মানুষের যাতায়াতের জন্য একটি গুদী সৃষ্টি করা হয়। ওই গুদী দিয়ে মানুষ ও পন্য পারাপারকালে মাদরাসা ও মসজিদের উন্নয়নে মানবিক সহায়তা দেয়া হয়। সহায়তা থেকে গুদী সংস্কার এবং শিক্ষকদের ও ইমামের বেতন দেয়া হয়।

বদরখালী ১নং ব্লক উত্তর নতুনঘোনা ‘শাহ মজিদিয়া রশিদিয়া আদর্শ বালিকা মাদরাসা’ পরিচালনা কমিটির সভাপতি মোঃ কালা মিয়া জানান, বদরখালী ইউনিয়ন পরিষদের আওতাধীন গুদী থেকে মানবিক সহায়তা উত্তোলন করে মাদরাসা-মসজিদে ব্যবহার করার জন্য বদরখালী ইউনিয়ন পরিষদের তৎকালীন চেয়ারম্যান আলহাজ্ব নুরে হোছাইন আরিফ বরাবরে বিগত ১২মে’ ২০১৪ ইং তারিখ একটি লিখিত আবেদন করা হয়। আবেদনের প্রেক্ষিতে বিগত ১জুলাই’ ২০১৪ ইং তারিখ পরিষদের সভায় উক্ত বিষয়ে অনুমোদন দেয়া হয়। পরবর্তীতে নির্বাচনের মাধ্যমে ইউপি চেয়ারম্যান পরিবর্তন হলে ২০১৬ সনের ১৯ সেপ্টেম্বর তারিখে একই নিয়মে নতুন চেয়ারম্যান খাইরুল বশর এর কাছ থেকে পরিষদের আওতাধীন গুদী থেকে মানবিক সহায়তা উত্তোলন করে মাদরাসা-মসজিদের ব্যয় নির্বাহেন জন্য পূনরায় সভার মাধ্যমে অনুমোদন নেন। উক্ত দীর্ঘকালের সময়ের মধ্যে কক্সবাজার জেলা প্রশাসক কর্তৃক স্থানীয় সরকার বিভাগের নীতিমালা অনুসারে আন্ত:উপজেলা ফেরীঘাট/লঞ্চঘাট ইজারা বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী “বদরখালী- করিয়ারদিয়া ফেরীঘাট” ইজারা এবং ইজারাপ্রাপ্তদের টোল আদায়ের সাথে গুদী থেকে মাদরাসা-মসজিদের জন্য মানবিক সহায়তা উত্তোলনে কোনরূপ বাধা বিঘ্নতা ঘটেনি। উভয় পক্ষের বসবাসও ছিল শান্তিপূর্ণ। ফেরীঘাটের সাথে মাদরাসার গুদী ঘাটের কোন সম্পৃক্ততাও নেই। এরপরও চলতি ১৪২৭ বঙ্গাব্দে বদরখালী-করিয়ারদিয়া ফেরীঘাট একশনা ইজারা গ্রহীতা বদরখালী ৩নং ব্লকের ৬নং ওয়ার্ডের মোঃ শফি উদ্দিনের পুত্র মোঃ রুবেল ভাড়াটিয়া অবৈধ বাহিনী গঠনের মাধ্যমে নিয়ম উপেক্ষা করে এবং পরিষদের সিদ্ধান্তের প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুল প্রদর্শন করে ইজারার নাম ভাঙ্গিয়ে গুদী থেকে মাদরাসা- মসজিদের জন্য স্থানীয়দের দেয়া মানবিক সহায়তা, দান-খয়রাতে অজাসিত হস্তক্ষেপসহ বাধা সৃষ্টি করতে চায়। যা অতীতের কোন ইজারাদার করেননি।

বদরখালী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান খাইরুল বশর বলেন, ‘আমি যখন প্রথম চেয়ারম্যান হই, তখন স্থানীয় মাদরাসার আবেদনের প্রেক্ষিতে ব্যয় নির্বাহের জন্য ঘাট এলাকা থেকে চাঁদা তোলার একটি অনুমতি পত্র দেওয়া হয়েছিল। আমার পূর্বের চেয়ারম্যানের পক্ষ থেকেও একইভাবে অনুমতি দেয়া হয়েছিল। এই গুদীটি সরকারের ইজারাভূক্ত ছিলনা। মানবিক কারণেই মাদাসারা, এতিমখানা ও মনজিদের জন্য অনমুতি দিয়েছিলেন।

এনিয়ে চলতি ৪জুন’২০ইং চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সৈয়দ শামসুল তাবরীজ বরাবরে মাদরাসা কমিটির সভাপতি মোঃ কালু একটি লিখিত আবেদন করেন। ওই আবেদনে মানবিক দিক বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার জন্য নির্দেশনা সহকারে সুুপারিশ করেন চকরিয়া-পেকুয়া আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য আলহাজ্ব জাফর আলম বিএ (অনার্স)এমএ।

এদিকে এলাকায় আইনশৃঙ্খলা ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় বদরখালী- করিয়ারদিয়া ফেরীঘাট” ইজারা গ্রহীতা বখতিয়ার উদ্দিন রুবেল ও শাহ মজিদিয়া রশিদিয়া আদর্শ বালিকা মাদরাসা ও মসজিদ” কমিটির সাথে ৮জুন রাত ৮টায় বৈঠক করেন চকরিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ হাবিবুর রহমান। এসময় তিনি বলেন, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ে মাননীয় জেলা প্রশাসক কক্সবাজারের দেয়া ইজারাটি গুরুত্ববহ। তাই ইজারার বিষয়টি নিয়ে আপত্তি তোলা যাবেনা। তিনি মাদরাসা-মসজিদের বিষয়টি মানবিক দৃষ্টিতে কি করা তা বিবেচনা করবেন বলে জানান এবং ৯জুন বিকেলে উভয় পক্ষকে চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সাথে স্বাক্ষাৎ দেয়ার জন্য আহবান জানান। পরবর্তীতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও তিনি (ওসি চকরিয়া থানা) যৌথভাবে সিদ্ধান্ত দেবেন বলে জানান এবং উভয়পক্ষকে শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষার আহবান করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

Application to the Ministry of Information for registration.