চকরিয়া পৌর এলাকায় আদালতের বিচারাধীন ও নিষেধাজ্ঞার মামলা উপেক্ষা করে জমি দখলের অভিযোগ!

চকরিয়া প্রতিনিধি:
চকরিয়া পৌর এলাকায় বিজ্ঞ যুগ্ম জেলা জজ ২য় আদালত,কক্সবাজারে বিচারাধীন মামলা এবং বিজ্ঞ অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট কক্সবাজার আদালতে ১৪৪ ধারার নিষেধাজ্ঞার মামলা উপেক্ষা করে জমি দখলের অভিযোগ উঠেছে। এমনকি গত ৫জুন’২০ইং তারিখ থেকে চলমান করোনার লকডাউনোর সুযোগকে কাজে লাগিয়ে বিরোধীয় জমিতে ট্রাক ভর্তি করে ইট বালি কংকর মজুদ করার অভিযোগও রয়েছে। পৌরসভা ৪নং ওয়ার্ডের থানার পশ্চিম পার্শ্বে ঘটেছে এ ঘটনা। তবে, পুরো অভিযোগ অস্বীকার করেন অপর পক্ষের জমি মালিক আবুল কালাম গং

চকরিয়া উপজেলার বাটাখালী মৌজার বিএস খতিয়ান নং ২৬ ও ২৫৪ নং খতিয়ানের রেকর্ডীয় মালিক মেহেরুন্নিছা ও আফিয়া খাতুন মরণে ওয়ারিশ সূত্রে মালিক চকরিয়া পৌরসভা ৭নং ওয়ার্ডের পালাকাটা গ্রামের বশরত আলীর পুত্র আবদুল হাকিম গং। উক্ত মালিকগন উক্ত জমিতে শান্তিপূর্ণ ভোগ দখলে থাকাবস্থায় বিএস জরিপে ভূলবশত আজিম উদ্দিনের নামে রেকর্ড হয়। উক্ত ভূল রেকর্ডের বিরুদ্ধে বিজ্ঞ যুগ্ম জেলা জজ ২য় আদালত,কক্সবাজারে আবদুল হাকিম গং বাদী হয়ে আবুল কালামের মাতা হালিমা খাতুন গংয়ের বিরুদ্ধে অপর মামলা নং ৪৫/১১ দায়ের করেন। যা বর্তমানে বিচারাধীন আছে। উক্ত মামলা বাদীর পক্ষে ডিক্রি (রায়) হওয়ার অপেক্ষায় বিধায় আবুল কালাম গং বর্তমান করোনার ভাইরাসের লকডাউনের দুঃসময়ের সুযোগে উক্ত বিচারাধীনন বিরোধীয় জমি জবর দখল করার অপচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে।
এছাড়াও জমি মালিক পক্ষের শামসুল হুদার পুত্র বেলাল উদ্দিন বাদী হয়ে বিরোধীয় জমিতে ১৪৪ধারার আদেশ চেয়ে বিজ্ঞ অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট কক্সবাজার আদালতে বিগত ৩০মে’১৯ইং মামলা (নং এমআর ৫৮৩/১৯) দায়ের করেন। বিজ্ঞ আদালত গত ৩জুন’১৯ইং শুনানীকালে অভিযোগ আমলে নিয়ে ১৬অক্টোবর’১৯ইং তারিখের মধ্যে চকরিয়া উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি)কে সরেজমিনে প্রতিবেদন দেয়ার এবং চকরিয়া থানাকে জমিতে শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষার জন্য নির্দেশনা দেন।
অভিযোগে আরো জানানো হয়েছে, বাটাখালীর আরএস ২৪১নং খতিয়ানের মালিক আবদুল করিম আট আনা অংশে ০.১৩৫০ একর, আর এস ২৬ নং খতিয়ানে চার আনা অংশে ০.১৬ একর সর্বমোট ০.২৯৫০ এর জমি প্রাপ্ত হন। উক্ত আবদুল হাকিম লোকান্তরে তৎস্বত্ব ওয়ারিশ পু্ত্র কন্যা নুরুল হোসন গং পায়। তাহারা মামলার বাদী পক্ষ বেলাল উদ্দিন ও তৎভ্রাতা জালাল উদ্দিন এর বরাবরে বিগত ২৬নভেম্বর ১৯৭৯ইং তারিখে ৪৭০৮নং কবলামূলে ০.২০ একর এবং তৎপিতা শামসুল হুদা বরাবর বিগত ২৮ফেব্রুয়ারী ১৯৬৯ইং তারিখ ৪১০৩ নং কবলা মূলে ০.১৬ একর, বিগত ১জুলাই ১৯৯৭ইং তারিখে ২৮৯০নং কবলা মূলে ০.০৪ একর, বিগত ১৫ডিসেম্বর ২০০২ইং তারিখে ৫৬১৮নং কবলা মূলে ০.০৪৩৩ সহ সর্বমোট ০.৪৪৩৩ একর জমি খরিদ করে দখলকার হন। উক্ত ধারাবাহিকভাবে দখলে থাকায় বাদী পক্ষের পিতামহ মোস্তফা খাতুন ও ফুফু বদিউজ্জান, লায়লা বেগম ও রোকেয়া বেগম গংদের নামে বিএস ২২নং খতিয়ান প্রচারিত হইলেও নিঃস্বত্ববান ও দখলবিহীন আগন্তুক ব্যক্তি মামলার বিবাদী পক্ষের পূর্ববর্তী আজিম উদ্দিন পিতা হায়দার আলী সাং কাহারিয়াঘোনা চকরিয়া পৌরসভার নাম বেআইনী ও ফেরবী পন্থায় অন্তর্ভূক্ত হওয়ায় বিজ্ঞ আদালতে পৃথম এ দুইটি মামলা দায়ের করেন। যা আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।

অপরদিকে ঘটনার বিষয়ে বক্তব্য জানতে চাইলে আবুল কালাম জানান, তিনি সম্পূর্ণ বৈধভাবে দীর্ঘকাল থেকে মায়ের ওয়ারিশ সূত্রে ৪০ শতক জমি শান্তিপূর্ণভাবে ভোগ দখলে রয়েছেন। এখানে নতুন করে জমি জবর দখলের প্রশ্নই আসেনা। মূলতঃ একটি পক্ষ তাদের কাছ থেকে চাঁদা দাবী করে জমি জবর দখলের হুমকিসহ আমাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রাণীর চেষ্টা চালিয়ে আসছে। এছাড়াও ইতিপূর্বে জমির বিরোধ নিয়ে চকরিয়া পৌরসভার মেয়র এর কার্যালয়ে মেয়র,কাউন্সিলর ও শালিসকারদের নিয়ে শালিস বিচার হয়। সেখানে আমাদের (আবুল কালাম) পক্ষে চুড়ান্ত রায় (ডিক্রি) প্রচার হয়েছে। এরপর চকরিয়া-পেকুয়া আসনের মাননীয় জাতীয় সংসদ সদস্য আলহাজ্ব জাফর আলমের কাছেও বিচার হয়। সেখানেও আমাদের রায় দেন। বিজ্ঞ আদালতেও কাগজপর্যালোচনায় চুড়ান্ত রায় আমাদের পক্ষে আসবে। কিন্তু আমাদের দীর্ঘ শান্তিপূর্ণ ভোগ দখলে অশান্তি সৃষ্টি করতে এসব মিথ্যাচার করছে বলে দাবী করেন।

জানতে চাইলে চকরিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ও মামলার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ মফিজ উদ্দিন বলেন, ১৪৪ধারা আবেদনের মামলাটি (নং ৫৮৩/১৯) তার বরাবরে হাওলা হওয়ার পর তিনি সার্বিকভাবে আইনশৃঙ্খলা সমুন্নত রাখার চেষ্টা করেন। পরবর্তীতে অপ্রীতিকর ঘটনা না হওয়ায় এবং মামলার বাদী-বিবাদী কোন যোগাযোগ না করায় সহাবস্থান রয়েছে মর্মে বিজ্ঞ আদালতে প্রতিবেদন পাঠানো হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

Application to the Ministry of Information for registration.