চকরিয়ায় জমি জবর দখলে নিতে মা-ভাইকে হামলা ও প্রাণনাশের হুমকি

চকরিয়া অফিস:
চকরিয়ায় জমি জবর দখলে নিতে মা-ভাইকে কয়েক দফায় হামলা ও প্রাণনাশের হুমকি দেয়া হয়েছে। উপজেলার ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের হাজিয়ান গ্রামে গত ৩০মে রাত ৮টা ও ৩১মে সকাল ১০টায় এবং সর্বশেষ ৫জুন রাত ৮টায় এ ঘটনা ঘটেছে। এনিয়ে হামলা ও হুমকির শিকার মরহুম হাকিম মিয়ার পুত্র মোঃ মিজানুর রহমান (৩৫) বাদী হয়ে থানায় একটি লিখিত এজাহার দায়ের করা হয়েছে। এতে অভিযুক্ত করা হয়েছে; আপন সহোদর শাহাদত হোসেন, সরওয়ার আলম ও সাকের আলী, শাহাদত হোসেনের ছেলে ফরহাদুল ইসলাম ও আরফাতুল ইসলামসহ অজ্ঞাত আরো ৭/৮জনকে।

বাদী মোঃ মিজানুর রহমান অভিযোগে জানান, তার পিতা মরহুম হাকিম মিয়া জীবদ্দশায় তার নামে এবং তারর মা নুর জাহান বেগমের নামে চকরিয়া সাব রেজিষ্ট্রি অফিসের মাধ্যমে বিগত ২৯ডিসেম্বর’১১ইং ৮৪৮১নং হেবা দলিল এবং বিগত ১২এপ্রিল’১৫ইং ২৯২৩ নং হেবা দলিল (দুইটি) মূলে পিতার নামীয় হাজিয়ান মৌজার বিএস খতিয়ান নং ১৬৬, ৭৬ ও ৪৬৭ দাগ নং ৩৫০ ও ৯০ থেকে ৯১ শতক জমি রেজিষ্ট্রি করে দেন। এনিয়ে বিএস খতিয়ান নং ২৪৭, ৩২১ ও ৭৪১ সৃজিত হয়। পিতা কর্তৃক জমি হেবা রেজিষ্ট্রি দেয়ার সময় বাদী পুত্র মিজার ছিলেন বিদেশে। ওই সময় পিতা-মাতার যাবতীয় ভরণ-পোষণ, চিকিৎসা ও পবিত্র হজ্জ পালন করানোসহ অর্ধ কোটি টাকার উর্ধে খরচ করেন। ফলে পুত্র ও নিজ স্ত্রীর প্রতি সন্তোষ্ট হয়ে পিতা জীবদ্দশায় স্বেচ্ছায় পুত্র মিজান ও স্ত্রী নুর জাহান বেগমের নামে উক্ত দাগাদির জমি হেবা মূলে রেজিষ্ট্রি করে দেন। এরপর থেকে শান্তিপূর্ণ ভোগ দখলসহ সরকারি খাজানাদিও পরিশোধ করে আসছেন। কিন্তু অভিযুক্ত অপরাপর সহোদররা পিতার মৃত্যুর পর হেবা দলিলের বিরুদ্ধে বিগত ২০১৯ সনে বিজ্ঞ যুগ্ম জেলা জজ ২য় আদালতে অপর মামলা নং ২৩৬/১৯ দায়ের করেন। বর্তমানে মামলাটি বিচারাধীন রয়েছে। কিন্তু মামলা করে নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে পারেনি সহোদররা। উল্টো ক্ষিপ্ত হয়ে জমি জবর দখলে নিতে গত ৩০মে রাত ৮টা প্রথম দফায় ও ৩১মে সকাল ১০টায় ২য় দফায় জমি জবর দখল চেষ্টা, হামলা ও প্রাণনাশের চেষ্টায় হুমকি দেন। এনিয়ে মা ও স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তিদের স্বাক্ষী রেখে থানায় লিখিত এজাহার দেন। অভিযোগ দেয়ায় আরো ক্ষিপ্ত হয়ে সর্বশেষ ৫জুন রাত ৮টায় পূণরায় সশস্ত্র হামলার চেষ্টাসহ প্রাণনাশের হুমকি দিলে ঘটনাস্থল থেকে কোন রকম পালিয়ে আসেন। বর্তমান সহোদররাসহ স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে। ভূক্তভোগিরা থানা প্রশাসনের কাছে শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষায় আইনী সহায়তা চেয়েছেন।
চকরিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ হাবিবুর রহমান জানান, ঘটনার বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পাওয়ার তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য উপপরিদর্শক আবদুল বাতেনকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। কেউ আইনসৃঙ্খলা বিঘ্নতা সৃষ্টির চেষ্টা করলে কঠোর হস্তে দমন করা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

Application to the Ministry of Information for registration.