পেকুয়ায় বেড়িবাঁধ কেটে চেয়ারম্যানের অনুমোদন হীন স্লুইসগেট

জসীম উদ্দীন

কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার উজানটিয়ায় ঝুঁকিপূর্ণ বেড়িবাঁধ কেটে জোরপূর্বক সুইচ গেট
নির্মাণ করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।উজানটিয়ার ২০ হাজার মানুষকে আগলে রাখা গুরুত্বপূর্ণ পাউবোর ৬৪/২বি পোল্ডারের টেকপাড়াস্থ বেড়িবাঁধ কেটে সুইচ গেট টি নির্মাণ করছেন একটি প্রভাবশালী চক্র।

স্থানীয়দের অভিযোগ, উজানটিয়ার চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলামের নেতৃত্ব স্থানীয় আকতার গং মোহাম্মদ হোছন, চকরিয়ার দরবেশকাটা এলাকার আলী আকবর, ছাবের, বদরখালীর কয়েকজন লোক বাঁধ কেটে রাতের অন্ধকারে সুইচ গেট টি বসানোর জোর চেষ্টা চালাচ্ছে।

এরই মধ্যে সুইচ গেট নির্মাণের জন্য যাবতীয় সরঞ্জাম সেখানে প্রস্তুুত রাখা হয়েছে।অথচ পানি উন্নয়ন বোর্ড থেকে এর জন্য কোনো ধরনের অনুমোদন নেয়া হয়নি।

বিষয়টি স্বীকার করেছেন, উজানটিয়ার চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম। তিনি বলেন, অনুমোদনের জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করে লোক পাঠিয়েছিলাম,তাঁরা অনুমোদন দেয়নি। তাই আমি নিজ উদ্যোগে বেড়িবাঁধ কেটে সুইচ গেট টি করার সিন্ধান্ত নিয়েছি।

এলাকাবাসীর দাবি, বেড়িবাঁধ কেটে সেখানে সুইচ গেট বসালে চলতি বর্ষায় বাঁধ ভেঙে পুরোটাই নদী গর্ভে বিলীন হয়ে যাবে। এতে করে সেখানকার ২০হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়বে। তাঁরা জানান, বেড়িবাঁধ রক্ষায় গত বছর পেকুয়ার তৎকালীন ইউএনও সেখান থেকে সুইচ গেট টি অপসারণ করেছিলেন।যা নিজেদের স্বার্থে ফের বসানোর চেষ্টা চালাচ্ছে একটি মহল।ইস্যুটিকে কেন্দ্র করে প্রভাবশালী চক্রের মুখোমুখি অবস্থান নিয়েছে এলাকাবাসী। ফলে যে কোন সময় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ হওয়ার আশংঙ্কা রয়েছে।

উজানটিয়ার বাসিন্দা এডভোকেট মীর মোশারফ হোছাইন টিটু,ছাত্রলীগ নেতা নেওয়াজ সিকদার, ব্যবসায়ী নেজাম,কামলসহ অনেকই সংঘর্ষ এড়াতে এবং বেড়িবাঁধের সুরক্ষায় নির্বাহী কর্মকর্তা ও পেকুয়া থানার অফিসার ইনচার্জের সহযোগীতা কামনা করেছেন।

স্থানীয়দের দাবির সঙ্গে একমত পোষণ করেছেন সংশ্লিষ্ট বান্দরবান পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাকিবুল হাসান। তিনি জানান, বেড়িবাঁধ কেটে সুইচ গেট টি বসানো হলে চলতি বর্ষায় যে কোন সময় বাঁধ ভেঙে এলাকাটিতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হবার সম্ভবনা রয়েছে।হুমকির মূখে পড়বে হাজারও বসতবাড়ি।এ কারনে সুইচ গেইট বসানোর অনুমোদন দেয়া হয়নি। তিনি আরও জানান সেখানে পেকুয়া উপজেলা শাখা কর্মকর্তা (এসও) মো. গিয়াস উদ্দিনকে সেখানে যেতে বলেছি। সরজমিনে ঘুরে প্রয়োজনে প্রভাবশালী মহলটির বিরুদ্ধে ইউএনও ও ডিসি স্যার বরাবর লিখিত অভিযোগ দেয়া হবে।

এ বিষয়ে জানতে চেয়ে পেকুয়া উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা ইউএনও কে একাধিকার ফোন করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

পেকুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি কামরুল আজম বলেন,বিষয়টি খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

প্রসঙ্গত: বেড়িবাঁধ রক্ষায় ওই স্থান থেকে গত বছর একটি সুইচ গেট অপসারণ করেছিলেন তৎকালীন পেকুয়ার ইউএনও। একই স্থানে ফের সুইচ গেট বসানোর চেষ্টা চালেচ্ছে একটি মহল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

Application to the Ministry of Information for registration.