চকরিয়ার বদরখালীতে ঘাট ইজারার নাম ভাঙ্গিয়ে মাদরাসায় মানবিক সহায়তায় বাধাগ্রস্ত করছে সংঘবদ্ধচক্র, এলাকাবাসীর ক্ষোভ

আবদুল মজিদ, চকরিয়া (কক্সবাজার) প্রতিনিধি:

কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার বদরখালী ইউনিয়নের ১নং ব্লকের ১নং ওয়ার্ডের উত্তরনতুন ঘোনা গ্রামে ২০০৬সালে স্থানীয়দের দান-অনুদানে বদরখালী সমবায় কৃষি ও উপনিবেশ সমিতির মালিকানাভূক্ত জমিতে অনুমতি সাপেক্ষে প্রতিষ্টিত হয় “শাহ মজিদিয়া রশিদিয়া আদর্শ বালিকা মাদরাসা”। প্রতিষ্টিত হয় একটি মসজিদও। মাদরাসা প্রতিষ্ঠার পর থেকে স্থানীয় জনসাধারণ ও মাদরাসা-মসজিদ কমিটির মতামতের ভিত্তিতে তাদের কয়েক লক্ষ টাকা মানবিক সহায়তায় মাদরাসা ও মসজিদ সংলগ্ন সাধারণ মানুষের যাতায়াতের জন্য একটি গুদী সৃষ্টি করা হয়। সর্বসম্মতিতে সিদ্ধান্ত নেয়া হয় ওই গুদি দিয়ে মানুষ যাতায়াত ও পন্য পারাপারে দেয়া মানবিক সহায়তা মাদরাসা ও মসজিদের জন্য ব্যয় করার। এজন্য মাদরাসার পক্ষ থেকে তৎসময় থেকে গুদী এলাকায় সহায়তা আদায়ের জন্য নির্দিষ্ট মানুষ রাখা হয়েছে। ওই গুদী সংস্কার ও শিক্ষক-ইমামের বেতন দেয়া হয় মাদরাসার নামে আদায়কৃত অর্থ থেকে।

বদরখালী ১নং ব্লক উত্তর নতুনঘোনা ‘শাহ মজিদিয়া রশিদিয়া আদর্শ বালিকা মাদরাসা’ পরিচালনা কমিটির সভাপতি মোঃ কালা মিয়া জানান, বদরখালী ইউনিয়ন পরিষদের আওতাধীন গুদী থেকে মানবিক সহায়তা উত্তোলন করে মাদরাসা-মসজিদে ব্যবহার করার জন্য বদরখালী ইউনিয়ন পরিষদের তৎকালীন চেয়ারম্যান আলহাজ্ব নুরে হোছাইন আরিফ বরাবরে বিগত ১২মে’ ২০১৪ ইং তারিখ একটি লিখিত আবেদন করা হয়। আবেদনের প্রেক্ষিতে বিগত ১জুলাই’ ২০১৪ ইং তারিখ পরিষদের সভায় উক্ত বিষয়ে অনুমোদন দেয়া হয়। পরবর্তীতে নির্বাচনের মাধ্যমে ইউপি চেয়ারম্যান পরিবর্তন হলে ২০১৬ সনের ১৯ সেপ্টেম্বর তারিখে একই নিয়মে নতুন চেয়ারম্যান খাইরুল বশর এর কাছ থেকে পরিষদের আওতাধীন গুদী থেকে মানবিক সহায়তা উত্তোলন করে মাদরাসা-মসজিদের ব্যয় নির্বাহেন জন্য পূনরায় সভার মাধ্যমে অনুমোদন নেন। উক্ত দীর্ঘকালের সময়ের মধ্যে কক্সবাজার জেলা প্রশাসক কর্তৃক স্থানীয় সরকার বিভাগের নীতিমালা অনুসারে আন্ত:উপজেলা ফেরীঘাট/লঞ্চঘাট ইজারা বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী “বদরখালী- করিয়ারদিয়া ফেরীঘাট” ইজারা এবং ইজারাপ্রাপ্তদের টোল আদায়ের সাথে গুদী থেকে মাদরাসা-মসজিদের জন্য মানবিক সহায়তা উত্তোলনে কোনরূপ বাধা বিঘ্নতা ঘটেনি। উভয় পক্ষের বসবাসও ছিল শান্তিপূর্ণ। ফেরীঘাটের সাথে মাদরাসার গুদী ঘাটের কোন সম্পৃক্ততাও নেই। এরপরও চলতি ১৪২৭ বঙ্গাব্দে বদরখালী-করিয়ারদিয়া ফেরীঘাট একশনা ইজারা গ্রহীতা বদরখালী ৩নং ব্লকের ৬নং ওয়ার্ডের মোঃ শফি উদ্দিনের পুত্র মোঃ রুবেল ভাড়াটিয়া অবৈধ বাহিনী গঠনের মাধ্যমে নিয়ম উপেক্ষা করে এবং পরিষদের সিদ্ধান্তের প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুল প্রদর্শন করে ইজারার নাম ভাঙ্গিয়ে গুদী থেকে মাদরাসা- মসজিদের জন্য স্থানীয়দের দেয়া মানবিক সহায়তা, দান-খয়রাতে অজাসিত হস্তক্ষেপসহ বাধা সৃষ্টি করতে চায়। যা অতীতের কোন ইজারাদার করেননি।

বদরখালী পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ সুজন সেন বলেন, ‘স্থানীয় একটি মাদরাসার এতিম শিক্ষার্থীদের ব্যয় নির্বাহের জন্য ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ঘাট এলাকা থেকে পণ্য উঠা-নামার সময় মানবিক সহায়তা উত্তোলনের জন্য একটি অনুমতি পত্র দিয়েছেন। তার পরও যদি এখানে জেলা প্রশাসক কার্যালয় থেকে কাউকে বৈধ ইজারাদার নিয়োগ করা হয় তাহলে তা যাচাই করে পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।’

বদরখালী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান খাইরুল বশর বলেন, ‘আমি যখন প্রথম চেয়ারম্যান হই, তখন স্থানীয় মাদরাসার আবেদনের প্রেক্ষিতে ব্যয় নির্বাহের জন্য ঘাট এলাকা থেকে চাঁদা তোলার একটি অনুমতি পত্র দেওয়া হয়েছিল। আমার পূর্বের চেয়ারম্যানের পক্ষ থেকেও একইভাবে অনুমতি দেয়া হয়েছিল। এই গুদীটি সরকারের ইজারাভূক্ত ছিলনা। মানবিক কারণেই মাদাসারা, এতিমখানা ও মনজিদের জন্য অনমুতি দিয়েছিলেন।

সর্বশেষ এনিয়ে চলতি ৪জুন’২০ইং চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সৈয়দ শামসুল তাবরীজ বরাবরে মাদরাসা কমিটির সভাপতি মোঃ কালু একটি লিখিত আবেদন করেন। ওই আবেদনে মানবিক দিক বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার জন্য নির্দেশনা সহকারে সুুপারিশ করেন চকরিয়া-পেকুয়া আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য আলহাজ্ব জাফর আলম বিএ (অনার্স)এমএ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

Application to the Ministry of Information for registration.