দুই হাজার রেকর্ড সংশোধনী মামলার পিছনে ৫ হাজার কোটি টাকার সরকার রাজস্ব হারাচ্ছে

এস.এম নুরউননবী, রাজস্ব সংবাদদাতা

দুই হাজার রেকর্ড সংশোধনী মামলা শুধুমাত্র ডিসি সাহেবের অসহযোগীতার কারণে বিগত ২০ বছর থেকে জেলার ৮ উপজেলার দুই হাজার মামলা পড়ে আছে। এতে প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকার সরকার রাজস্ব হারাচ্ছে।

রেকর্ড সংশোধন করতে যে সব শর্ত প্রয়োজন, যেমন : ইউএলও, কানোনগো, এ্যাসিল্যান্ড যাবতীয় তদন্ত প্রতিবেদন সম্পন্ন হয়। এরপর প্রস্তাব আকারে বন্দোবস্তি ফাইল মাননীয় কোটে আদেশের জন্য প্রেরিত হয়। সেখানে দুতরফা সূত্রে আদালতের রায় হয় খতিয়ান সংশোধনীর জন্য। এরপর পুনরায় এ্যাসিল্যান্ডের কাছে আনিত হয়। এখান থেকে পুনরায় সরেজমিন তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়ার পরে ডিসি অফিসে প্রেরিত হয়। এখানে আরবিসি, এডিসি প্রয়োজন মোতাবেক জেলা কানোনগো, সার্ভেয়ার পর্যন্ত তদন্ত প্রতিবেদন হয়।

এরপরে ডিসি সাহেবের চূড়ান্ত অনুমোদন হবে। এর মূহুর্তে সহকারীগণ ডিসি সাহেবের নিকট ফাইল পোটাপ করলে, ডিসি সাহেব বলেন, রেভিনিউর মারপ্যাচ তিনি বুঝেন না। এসব শুধু ঝামেলা, একথা বলে বিভিন্ন অজুহাতে পুনরায় এ্যাসিল্যান্ডের নিকট তদন্তের জন্য নোট দেন। এক বার এসিল্যান্ড অফিসে ফাইল যাওয়া মানে মহিলার সন্তান প্রসবের চেয়ে কষ্টদায়ক হয়।

একজন ডিসি সম্পূর্ণ নাম হচ্ছে ডেপুটি কালেক্টর। তার প্রশাসনিক ব্যবস্থার নাম হচ্ছে কালেক্টরেট ভবন। কালেক্টরেট এর প্রধান কাজ হচ্ছে ভূমি বা রাজস্ব ব্যবস্থাপনা। অথচ কালেক্টরেট সাহেব একা নন। একাজে জেলা কানোনগো, সার্ভেয়ার, আরডিসি, এডিসি রেভিনিউ এরপরেও অভিজ্ঞ ডিলিং ্এ্যাসিসটেন্ট সকল রয়েছেন। সবাই উপরে জিপি সাহেবতো আছেনই।

একসময়ের ২য় শ্রেণির সিও রেভিনিউ স্থলে বর্তমানের ১ম শ্রেণির নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট উপজেলা ভূমি অফিস নিয়ন্ত্রণ করেন। এরপরেও যদি একজন ডিসি সাহেব রেকর্ড সংশোধন মামলা চূড়ান্ত অনুমোদন দিতে নিজেকে অসহায়বোধ করেন। তাহলে অধস্তনদেরকে আনাড়ি কেয়া নৌকার মাঝির সাথে তুলনা হবে না। এদিকে প্রতিবছর সরকার কোটি কোটি টাকার রাজস্ব হারানোর দায়ভার কে নেবে আর যে রাজস্ব বৃদ্ধির জন্য সরকার এত কাঠখড় পৌড়াচ্ছেন। অথচ সে রেভিনিউ থেকে কর্মচারীদের বেতন হয়।

পদাধিকার বলে অধুনা ডিসি সাহেবের কর্মপরীধী সহস্রগুণ বেড়ে গেছে। প্রত্যেক মন্ত্রণালয়ের মাঠ পর্যায়ের ফাইল ডিসি সাহেব প্রত্যহ দেখভাল করেন। ডিসি সাহেবের প্রশাসনকে প্রধানমন্ত্রীর সচিবালয়ের সাথে তুলনা করা চলে। তবে সহস্র কর্মের মধ্যে রাজস্ব বিভাগের কাজকে অনেকে গৌণ মনে করেন।

সূত্রমতে জানাযায় ১৯৫৮ সাল থেকে অদ্যবধি পর্যন্ত ৮ উপজেলার প্রায় ২ হাজার মামলা চূড়ান্ত অনুমোদনের অপেক্ষায় পড়ে আছে। এদিকে প্রায় ৫ হাজার একর জমি ডেপুটি কালেক্টরের নামে রয়েগেছে। যুগ যুগ ধরে বিনা খাজনায় এ জমি বন্দোবস্তি প্রার্থীকরা ভোগ দখল করে আসছেন। যাহা সম্পূন্ন অকল্পনীয় ব্যাপার।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

Application to the Ministry of Information for registration.