মুশফিকের ব্যাটে টাইগারদের নতুন ইতিহাস

কক্স টিভি,খেলা ডেস্কঃ

শ্রীলঙ্কা: হাজারো শঙ্কা আর সংশয় নিয়ে কোটি বাঙালি উন্মুখ হয়েছিল একটি জয়ের জন্য। অবশেষে এক স্বপ্নীল জয়ের মধ্য দিয়েই সূচনা হলো সেই লগ্নের। মুশফিকের ব্যাটে ২১৪ রানের পাহাড় টপকে টাইগাররা এক নতুন ইতিহাস সৃষ্টি করলো।

অবশ্য সকাল থেকেই কলম্বোর আকাশটা ভারী ছিল। মেঘলা আকাশ দেখে মনে হচ্ছিল, অঝর বর্ষণ সময়ের ব্যাপার মাত্র। বেলা দুইটার দিকে তো ঝমঝমিয়ে বৃষ্টিই নামল। তখনই সংশয় জেগেছে, প্রেমাদাসায় আজ বাংলাদেশ–শ্রীলঙ্কা ম্যাচটা হবে তো?

শেষ পর্যন্ত সংশয় কাটিয়ে টস হলো। ভেজা কন্ডিশন বলেই হয়তো টস জিতে বোলিং বেছে নিলেন অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ। যদিও তার সিদ্ধান্তকে সঠিক প্রমাণ করতে পারেনি বাংলাদেশের বোলাররা।

শুরুতে ব্যাটিং করে শ্রীলঙ্কা দাঁড় করিয়েছিল ২১৪ রানের বিশাল সংগ্রহ। তবে এত বড় লক্ষ্য সামনে রেখে ব্যাটিংয়ে নেমে বাংলাদেশও দিয়েছে দারুণ জবাব। দুই ওপেনার তামিম ইকবাল ও লিটন দাসের ঝড়ো ব্যাটিং করে উদ্বোধনী জুটিতেই জমা করেছিলেন ৭৪ রান। প্রথম ১০ ওভারের মধ্যে অবশ্য দুজনেই ফিরেছেন সাজঘরে। বাংলাদেশ পেরিয়েছিল ১০০ রানের কোটা।

তবে শ্রীলঙ্কাকে শুরুতে ২১৪ রানের বিশাল সংগ্রহ জমা করতে দেখে বাংলাদেশের জয়ের আশা হয়তো ছেড়েই দিয়েছিলেন অনেকে। কিন্তু অসাধারণ ব্যাটিং করে দলকে জয়ের বন্দরে নিয়ে গেছেন বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা। ৫ উইকেটের দুর্দান্ত এক জয় পেয়েছে মাহমুদউল্লাহর দল। ৩৫ বলে ৭২ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলে দলকে জিতিয়েই মাঠ ছেড়েছেন মুশফিকুর রহিম।

শ্রীলঙ্কার করা ২১৪ রানের জবাবে ব্যাট করতে নেমে শুরু থেকেই দাপুটে নৈপুণ্য দেখিয়েছেন বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা। দুই ওপেনার তামিম ইকবাল ও লিটন দাসের ঝড়ো ব্যাটিং করে উদ্বোধনী জুটিতেই জমা করেছিলেন ৭৪ রান। প্রথম ১০ ওভারের মধ্যে অবশ্য দুজনেই ফিরেছেন সাজঘরে। ষষ্ঠ ওভারে দলীয় ৭৪ রানের মাথায় বাংলাদেশ হারিয়েছিল প্রথম উইকেট। ১৯ বলে ৪৩ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলে ফিরেছিলেন লিটন। দশম ওভারে সাজঘরের পথে হেঁটেছেন তামিম। তিনি খেলেছেন ২৯ বলে ৪৭ রানের ইনিংস।

তৃতীয় উইকেটে ৫১ রানের জুটি গড়ে দলকে জয়ের পথে আরও খানিকটা এগিয়ে দিয়েছিলেন মুশফিকুর রহিম ও সৌম্য সরকার। ১৫তম ওভারে সৌম্য ফিরেছিলেন ২৪ রান করে। মাহমুদউল্লাহর ব্যাট থেকে এসেছে ২০ রান। আর ৩৫ বলে ৭২ রানের অসাধারণ ইনিংস খেলে দলকে জয়ের বন্দরে নিয়ে গেছেন মুশফিক। শেষপর্যন্ত অপরাজিতই ছিলেন সাবেক এই অধিনায়ক।

এর আগে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে কুশল পেরেরার ৭৪, কুশল মেন্ডিসের ৫৭, উপুল থারাঙ্গার ৩২ ও ধনুস্কা গুনাথিলাকার ২৬ রানের ইনিংসগুলোতে ভর করে ২১৪ রান সংগ্রহ করেছে স্বাগতিক শ্রীলঙ্কা।

বাংলাদেশের পক্ষে দারুণ বোলিং করে তিনটি উইকেট নিয়েছেন মুস্তাফিজুর রহমান। দুটি উইকেট গেছে অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহর ঝুলিতে।

ষষ্ঠ ওভারে দলীয় ৭৪ রানের মাথায় বাংলাদেশ হারিয়েছিল প্রথম উইকেট। ১৯ বলে ৪৩ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলে ফিরেছিলেন লিটন। দশম ওভারে সাজঘরের পথে হেঁটেছেন তামিম। তিনি খেলেছেন ২৯ বলে ৪৭ রানের ইনিংস।

শুরুটা দুর্দান্ত করেছিল শ্রীলঙ্কা। মাত্র ৪ ওভারে ৫৩ রান তোলে তারা কোনও উইকেট না হারিয়ে। পঞ্চম ওভারে দানুশকা গুনাথিলাকাকে মোস্তাফিজুর রহমান ফেরালেও কুশল মেন্ডিস ও কুশল পেরেরার ব্যাটে বড় স্কোরের পথে স্বাগতিকরা।

প্রথম ওভারে তাসকিনকে একটি করে চার ও ছয় মেরে শুভ সূচনা এনে দিয়েছেন কুশল মেন্ডিস। তার সঙ্গে উদ্বোধনী জুটিতে আছেন দানুশকা গুনাথিলাকা। পরের ওভারে মোস্তাফিজ দেন আরও ১১ রান।

তৃতীয় ওভারে বল হাতে নেন রুবেল হোসেন। এই ডানহাতি পেসারের বলে একটু দেখেশুনে খেলেছেন শ্রীলঙ্কার দুই ওপেনার, নেন মাত্র ৬ রান। তবে তাসকিন তার দ্বিতীয় ওভারে আবারও তোপের মুখে পড়েন ২২ রান দিয়ে।

ইনিংসের পঞ্চম ওভারের তৃতীয় বলে মোস্তাফিজ তার স্লোয়ার কাটারে গুনাথিলাকাকে বোল্ড করেন। ১৯ বলে তিন চার ও এক ছয়ে ২৬ রান করেন লঙ্কান ওপেনার। কুশল মেন্ডিসের সঙ্গে ক্রিজে আছেন কুশল পেরেরা।

২৬ বলে দুটি চার ও চারটি ছয়ে চার ইনিংসে তৃতীয় হাফসেঞ্চুরি করেন কুশল মেন্ডিস। মাহমুদউল্লাহ প্রথমবার বল হাতে নিয়ে তাকে ফেরান। ৩০ বলে ৫৭ রান করে কুশল মেন্ডিস প্রতিপক্ষ অধিনায়কের শিকার হন সাব্বির রহমানের ক্যাচ হয়ে। ওই ওভারেই দুটি বল খেলে দাশুন শানাকা শূন্য রানে সাব্বিরকে ক্যাচ দেন।

পরের ওভারে সাব্বির তার তৃতীয় ক্যাচ ধরেন দিনেশ চান্ডিমালের। বল করেছিলেন তাসকিন আহমেদ।

শেষ ওভারে জোড়া আঘাত করেছিলেন মোস্তাফিজুর রহমান। দ্বিতীয় বলে কুশল পেরেরাকে ৭৪ রানে মুশফিকুর রহিমের ক্যাচ বানান তিনি। মাত্র ৪৮ বলে ৮ চার ও ২ ছয়ে ইনিংস সেরা পারফরম্যান্স করেন কুশল পেরেরা। থিসারা পেরেরাকে এক বল বিরতি দিয়ে নাজমুল ইসলামের ক্যাচ বানান বাঁহাতি পেসার। উপুল থারাঙ্গা ১৫ বলে ৩২ রানে অপরাজিত ছিলেন।

মোস্তাফিজ ৪ ওভারে ৪৮ রান দিয়ে নেন ৩ উইকেট।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

Application to the Ministry of Information for registration.