ফলোআপ: চকরিয়ায় ১১দিন ধরে জিম্মি করে ৮০ বছর বয়সী মাকে নির্যাতনকারী সেই ছেলে ও নাতির বিরুদ্ধে মামলা নিয়েছে মানবতাবাদী ওসি

আবদুল মজিদ,চকরিয়া:
কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার হারবাং ইউনিয়নের জমিদারপাড়ায় নিজ নামীয় বসতভীটার জমি রেজিষ্ট্রি করে লিখে না দেয়ায় ৮০ বছর বয়সী বয়োবৃদ্ধা মা আছিয়া বেগমকে ১১দিন ধরে ঘরের একটি কক্ষে জিম্মি করে অমানবিক নির্যাতন চালানোর ঘটনায় পাষন্ড ছেলে ও নাতির বিরুদ্ধে অবশেষে মামলা রুজু করেছেন মানবতাবাদী খ্যাত চকরিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ হাবিবুর রহমান। মামলা নং ৩৭, জিআর ১৮৫, তাং ১৯মে’২০ইং। মামলার বাদী সরাসরি নির্যাতিত বয়োবৃদ্ধ মা আছিয়া বেগম। আসামী করা হয়েছে পাষন্ড ছেলে আজিজুল হক আলম (৪৪) ও তার ছেলে (নাতি) মেহেরাজুল হক চৌধুরী ইয়াদ (১৮)কে। এদিকে সচেতন মহল চকরিয়া থানার ওসি ও হারবাং পুলিশ ফাঁড়ির আইসিকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন।

জানাগেছে, চকরিয়া উপজেলার হারবাং ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের জমিদার পাড়া গ্রামের ৮০ বছর বয়সী মা আছিয়া বেগম অবসরপ্রাপ্ত পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের অফিস সহকারী ছিলেন। স্বামী অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্য মরহুম লেদু মিয়া। ছেলে আজিজুল হক আলম অফিস সহকারী হিসেবে কর্মরত।

মামলার আর্জি সূত্রে জানায়, ছেলে আজিজুল হক আলম প্রতিনিয়তই মাদকাসক্ত থাকেন। ফলে মা ও বাবার নামীয় সম্পত্তি বিক্রি করে আসছেন। বেশ কিছু পরিমানে সম্পত্তি কৃষি ব্যাংকে বন্ধক দিয়ে ঋণ নিয়েছেন ছেলে।মায়ের নামীয় বসতভীটা হলেও পেনশনের টাকা থেকে ছেলেকে প্রতি মাসে ২৫০০ টাকা করে খোরাকি দিয়ে থাকতেন মা। সর্বশেষ চলতি সনের গত ২৬ এপ্রিল সাড়ে ৪টায় ছেলেকে মাদক সেবনের জন্য চাহিদামত টাকা ও মায়ের নামীয় সম্পত্তি ছেলের নামে লিখে না দেয়ায় মাকে লোহার রড হাতুড়ী দিয়ে শাররীক নির্যাতন ও মারধর শুরু করে ছেলে ও নাতি। মারধরের মাঝেও ছেলের নামে জমি লিখে দেবেননা বলে জানিয়ে দিলে মায়ের ব্যবহৃত মোবাইল সেটটি কেড়ে নিয়ে একটি কক্ষের মধ্যে ১১দিন ধরে জিম্মি করে রাখে। প্রতিবেশীদের মাধ্যমে মেয়ে ছাদিয়া আক্তার নেলী ও সৎছেলে মোঃ খোরশেদ আলমসহ আত্বীয়স্বজনরা খবর পেয়ে গত ৭ মে’২০ইং বাংলাদেশ পুলিশের ৯৯৯ নম্বারে কল করে হারবাং ফাঁড়ি পুলিশের সহায়তায় মাকে জিম্মিদশা থেকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার পরামর্শ দিলে একমাত্র মেয়ের মাধ্যমে জন্য চট্টগ্রামে নিয়ে যাওয়া হয়।

এঘটনায় মা আছিয়া বেগম বাদী হয়ে ছেলে ও নাতির বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযোগটি তদন্ত করার জন্য হারবাং পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ (ইন্সপেক্টর) মোঃ আমিনুল ইসলামকে দায়িত্ব দেন। তিনি সরে জমিনে তদন্ত করে মাকে জিম্মি করে রেখে মারধরের সত্যতা পেয়েছেন মর্মে চকরিয়া থানায় প্রতিবেদন দাখিল করেন। উক্ত প্রতিবেদন ও মায়ের দেয়া এজাহারের প্রেক্ষিতে ১৯ মে’২০ইং মামলাটি রেকর্ড হয়েছে।

মা আছিয়া বেগম (৮০) বাদী হয়ে ইতিপূর্বে চকরিয়া থানায় ও স্থানীয়ভাবে একাধিকবার অভিযোগও করেন, এতে বলা হয়েছে; ছেলে আজিজুল হক আলম শাররীক প্রতিবন্ধী হওয়ায় বনবিভাগে চাকুরীর ব্যবস্থা করেন। বিভিন্নভাবে হুমকি দিয়ে মায়ের কাছ থেকে দফায় দফায় ২ ভরি স্বর্ণ বন্ধক দেয়াসহ ১ লাখ ৩৯,৫০০ টাকা আদায় করেন। স্থানীয় শালিস বিচার ও স্ট্যাম্প দিয়ে শালিসকারদের মাধ্যমে তা অঙ্গীকারও দিয়েছেন।
এবিষয়ে ভূক্তভোগি হতভাগা মা আছিয়া বেগম পাষন্ড অবাধ্য সন্তান ও নাতির দৃষ্টান্তমমূলক শাস্তির দাবী জানিয়েছেন এবং বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়, অধিদপ্তর, প্রধান বন সংরক্ষণ কর্মকর্তা (সিএফ), চট্টগ্রাম অঞ্চলের সিসিএফ, চট্টগ্রাম বিভাগীয় বন কর্মকর্তা ও চকরিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি)’র হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

চকরিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ হাবিবুর রহমান বলেন, লিখিত এজাহারটি পাওয়ার পর হারবাং পুলিশ ফাঁড়ির ইন্সপেক্টর আমিনুল ইসলামের মাধ্যমে তদন্তে সত্যতা পাওয়ার মামলা হিসেবে লিপিবদ্ধ করা হয়েছে। তিনি মায়ের উপর নির্মম নির্যাতনের ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক বলে মন্তব্য করেন এবং অছিরেই অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করা হবে বলে জানান।
এদিকে বয়োবৃদ্ধা আছিয়া বেগমের একমাত্র মেয়ে ছাদিয়া আক্তার নেলী জানান, তার ভাতিজা মামলার ২নং আসামী ওয়ার্ড ছাত্রলীগ নেতা মেহেরাজুল হক চৌধুরী ইয়াদ, তার সহযোগি আল ফয়সালুর রহমান, অভি হাসান, নাছির উদ্দিনসহ কয়েকজনকে নিয়ে নানাভাবে হুমকি ধমকি দিয়ে যাচ্ছে। এমনকি মাকে জিম্মিদশা থেকে উদ্ধারের চেষ্টা করলে তারা তার উপরও হামলা চালায় বলে অভিযোগ করেন। তিনি মায়ের উপর হামলাকারীদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার দাবী করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

Application to the Ministry of Information for registration.