আম্ফান মোকাবিলায় দিনরাত কাজ করে যাচ্ছে কুতুবদিয়া উপজেলা প্রশাসন

 

নিজস্ব প্রতিনিধি ঃ ঘূর্ণিঝড় আম্ফান মোকাবিলায় কুতুবদিয়াবাসীর জন্য দিন রাত কাজ করে যাচ্ছেন কুতুবদিয়া উপজেলা প্রশাসন।

সুপার সাইক্লোন আম্ফান মোকাবেলায় কুতুবদিয়া উপজেলা প্রশাসনের কার্যক্রমের ব্যাপকতা ছিল প্রশংসা পাওয়ারমত । এরই অংশ হিসেবে ঘুর্ণিঝড় মোকাবেলায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রতিটি পাড়া-মহল্লাতে মাইকিং করে জনগণকে সতর্ক করেছে।
বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট সুপার সাইক্লোন ‘আম্পান’ বিগত ১৯৯১’র ঘূর্ণিঝড় ‘হারিকেন’ থেকে আরো বেশী শক্তিশালী হিসেবে ঘনিভূত হয়। কিন্তু বিধাতার অশেষ কৃপায় ক্রমান্বয়ে তার গতিপথ পরিবর্তন-দুর্বল হওয়ায় ব্যাপক ক্ষয়-ক্ষতি থেকে রক্ষা পেতে যাচ্ছে কক্সবাজার জেলার সমুদ্রবেষ্টিত দ্বীপ-কুতুবদিয়ার প্রায় পৌণে দু’লাখ মানুষ। ঘূর্ণিঝড়টি ঘনিভূত হওয়ার পর পরই ঝুঁকি মোকাবেলায় উপজেলা প্রশাসনের ব্যাপক প্রস্তুতির মধ্যে ছিল মিটিং ও ব্যাপক মাইকিং । এমনকি মহাবিপদ সংকেত দেখানোর সাথে সাথে প্রত্যন্ত গ্রামের মানুষকে আশ্রায়ন কেন্দ্রমূখি করেন উপজেলার জনপ্রতিনিধিবৃন্দ, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, সহকারী কমিশনার (ভূমি), দায়িত্বপ্রাপ্ত বিভিন্ন কর্মকর্তা ও কুতুবদিয়া হাইস্কুল স্কাউটসটিমের সদস্যবৃন্দ। ফলে নিরাপদ আশ্রয় ও আশ্রায়নকেন্দ্রে ওঠে পড়ে বেড়িবাঁধের আশে-পাশের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার প্রায় ১৫/১৬ হাজার মানুষ। বেড়িবাঁধ না থাকায় সমুদ্রের পানি ওঠে পড়ে উত্তর ধূরুংয়ের কাইচার পাড়া ও পূর্ব-পশ্চিম চরধূরুং গ্রামে। সহকারী কমিশনার (ভূমি) হেলাল চৌধূরী ও স্কাউটসটিমের সদস্যবৃন্দকে সাথে নিয়ে আশ্রিত ওসব মানুষের মাঝে শুকনো খাদ্য ও খিচুড়ী বিতরণ করেন বলে জানিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জিয়াউল হক মীর।

তিনি আরো জানান, করোনা সচেতনতার পাশাপাশি সুপার সাইক্লোনের ক্ষতি থেকে জনগণকে রক্ষা করতে নিরলসভাবে রাত দিন কাজ করে যাচ্ছে উপজেলা প্রশাসন। প্রস্তুতকৃত ১৪০ টি আশ্রয় কেন্দ্রে জনসাধারণের আশ্রয় নিতে বাধ্য করা হয়েছে। কাজ করেছে  থানা পুলিশ , ৮২৫ জন সেচ্ছাসেবক, ৮০ জন স্কাউট, প্রতিটি ইউনিয়নে ২ জন ট্যাগ অফিসার ১ জন মনিটরিং অফিসার, আনসার ভিডিপি ৩৫, প্রতিটি ওয়ার্ডে সিপিপি স্বেচ্ছাসেবকদের মাধ্যমে মাইকিং, ২৩৭ মসজিদে মাইকিং, সকল ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে মাইকিং, উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সারা উপজেলায় মাইকিং করা হয়। যারা আশ্রয় কেন্দ্রে অবস্থান করতেছে তাদের খাবার ব্যবস্থা এবং আশ্রয়  কেন্দ্রে পৌঁছানোর জন্য  ৪২ টি  গাড়ি কাজ করেছে।  কুতুবদিয়াবাসীকে নিরাপদ রাখার জন্য সব  ধরনের পরিস্থিতি মোকাবেলায় কাজ করে যাচ্ছে  উপজেলা প্রশাসন।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

Application to the Ministry of Information for registration.