চকরিয়ায় পাঁচদিনের ব্যবধানে ২টি মামলার আসামি ইউপি সদস্য মিজান: গ্রেপ্তার আতঙ্কে যুবলীগ নেতাকর্মীরা!

চকরিয়া প্রতিনিধিঃ
কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার ভেওলামানিকচর ইউনিয়নে (বিএমচর) দুইপক্ষের জমি নিয়ে বিরোধ সমাধান করতে গিয়ে পাঁচদিনের ব্যবধানে চকরিয়া থানার দুইটি হয়রাণী মূলক মামলার আসামি হয়েছেন স্থানীয় শালিসকারক ইউপি সদস্য যুবলীগ সভাপতি মিজান উদ্দিন (এমইউপি)। উপজেলার পুর্ববড় ভেওলা ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের চরপাড়া গ্রামের কালু মিয়ার ছেলে মোহাম্মদ হারুন মামলা দুইটির বাদি।

ইউপি মেম্বার যুবলীগ সভাপতি ছাড়াও মামলা দুইটিতে বিএমচর ইউনিয়ন যুবলীগের আরো তিন নেতাসহ মোট ১০জনকে আসামি করা হয়েছে। একটি ঘটনার জেরে পাঁচদিনের ব্যবধানে চকরিয়া থানায় একজন ব্যক্তি বাদি হয়ে আলাদা দুইটি মামলা দায়ের করার ঘটনায় পুলিশের ভুমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় সচেতন মহল।

অপরদিকে দুইটি মামলায় আসামি হওয়ায় বর্তমানে গ্রেফতার এড়াতে এলাকা ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন স্থানীয় যুবলীগের নেতাকর্মী। এই ধরণের পরিস্থিতিতে স্থানীয় লোকজনের পাশাপাশি আওয়ামীলীগ ও সহযোগি সংগঠনের বিভিন্নস্তরের নেতাকর্মীদের মধ্যে চরম ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে।

এদিকে বিএমচর ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি পরিষদের মেম্বার মিজান উদ্দিন ও যুবলীগের ইউনিয়ন কমিটির সিনিয়র সহসভাপতি সাইফুল ইসলাম, উপজেলা যুবলীগের সদস্য জসিম উদ্দিন এবং ইউনিয়ন যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক কফিল উদ্দিনকে দুইটি মামলার আসামি করার ঘটনায় এর তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন কক্সবাজার জেলা যুবলীগ। বিবৃতি দিয়েছেন জেলা যুবলীগের সভাপতি সোহেল আহমদ বাহাদুর, সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম সোহেল, চকরিয়া উপজেলা যুবলীগের সভাপতি শহীদুল ইসলাম শহীদ, সাধারণ সম্পাদক আলহাজ কাউছার উদ্দিন কছির, মাতামুহুরী সাংগঠনিক উপজেলা যুবলীগের আহবায়ক আনসারুল ইসলাম, যুগ্ম আহবায়ক কাইছারুল হক বাচ্ছুসহ মাতামুহুরী উপজেলার সাতটি ইউনিয়ন যুবলীগের নেতাকর্মীরা।

বিবৃতিদাতা যুবলীগের নেতৃবৃন্দ অবিলম্বে সাজানো দুই মামলা থেকে বিএমচর যুবলীগের সভাপতি মেম্বার মিজানউদ্দিনসহ অপর নেতাকর্মীদের সকল হয়রাণি বন্ধ ও মামলা থেকে সকল আসামিদের অব্যাহতি দেয়ার জন্য প্রশাসনের কাছে দাবি জানিয়েছেন। একইসঙ্গে ঘটনার সত্যতা উৎঘাটন পুর্বক অবৈধ জমি জবরদখলখালী হারুনের বিরুদ্ধে আইনী ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানিয়েছেন।

পাঁচদিনের ব্যবধানে দুইটি মামলায় আসামি হওয়ায় একধরণের ভীতিকর অবস্থায় দিনযাপন করছেন বিএমচর ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বার ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি মিজান উদ্দিন। শনিবার ১৬ মে বিকালে চকরিয়া পৌরশহরে সংবাদ সম্মেলন করেছেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে নিজের নিরাপত্তা ও অসহায়ত্বের কথা তুলে ধরেছেন মেম্বার মিজান উদ্দিন। তিনি বলেন, কিছুদিন আগে চকরিয়া উপজেলার বিএমচর ইউনিয়নের ৭নম্বর ওয়ার্ডের দিয়ারচর এলাকার বাসিন্দা আবদুল হাকিমের ছেলে আলী আহমদ স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের গ্রাম আদালতে একটি মামলা করেন। মামলাটির হেতু ছিল পাশের পুর্ববড় ভেওলা ইউনিয়নের ৪নম্বর ওয়ার্ডের চরপাড়া গ্রামের মোহাম্মদ কালুর ছেলে মোহাম্মদ হারুন কিছু জমি অবৈধভাবে দখলে রেখেছে।

তিনি বলেন, বাদি আলী আহমদের ভাই মনির আহমদ মারা গেলে তাঁর স্ত্রী (ভাইয়ের বউ) মোহাম্মদ হারুনকে ১২ কড়া জমি বিক্রি করেন। কিন্তু হারুন ১২ কড়ার সাথে জমির মাথাখিলা অংশের আরো ৬ কড়া জমি অবৈধভাবে দখলে নেন। এ ঘটনায় আলী আহমদ পৈত্রিক সম্পদ ওই ৬ কড়া জমি উদ্ধারে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের গ্রাম আদালতে মামলা করেন। পরবর্তী সময়ে ইউপি চেয়ারম্যান এসএম জাহাংগীর আলম দুইপক্ষের বিরোধ নিস্পত্তি করণে আমাকে (ভুক্তভোগী মেম্বার মিজান উদ্দিন) ও সাবেক মেম্বার আলমগীরকে জমি পরিমাপ পুর্বক সঠিক প্রতিবেদন দিতে নির্দেশ দেন।

সংবাদ সম্মেলনে ইউপি মেম্বার মিজান উদ্দিন বলেন, উভয়পক্ষের লোকজনের উপস্থিতিতে সার্ভে জরিপ চালিয়ে আলী আহমদ গংয়ের ৬ কড়া বেশি জমি হারুন গং দখলে রাখার বিষয়টি উদঘাটন পুর্বক চেয়ারম্যানের কাছে আমরা দুই বিচারক প্রতিবেদন দাখিল করি। পরবর্তীতে গ্রাম আদালতে স্বাক্ষ্য প্রমাণ ও জরিপ কার্যক্রমের ভিত্তিতে চেয়ারম্যান এসএম জাহাংগীর আলম মামলার রায়ডিগ্রি প্রচার করের। রায়ে আলী আহমদ গং ডিগ্রিপ্রাপ্ত হন।

বিএমচর ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বার মিজান উদ্দিন আরও বলেন, পরিষদের গ্রাম আদালতের রায়ে আলী আহমদ গং জমির মালিকানা ফিরে পেয়ে সম্প্রতি সময়ে সেখানে দোকানঘর নির্মাণ কাজ শুরু করেন। সেখানে আমাদের কোন ধরণের সম্পৃক্তা না থাকলেও সেই ঘটনাকে পুঁজি করে এলাকার কতিপয় মহল গ্রাম আদালতের রায়ে অবৈধ দখলবাজ প্রমাণিত হারুনকে ফুসলিয়ে পাঁচদিনের ব্যবধানে চকরিয়া থানায় দুইটি সাজানো মামলা দায়ের করতে উৎসাহ দেন। এরই জেরে গত ১১ মে সাতজনকে আসামি করে চকরিয়া থানায় প্রথম একটি মামলা করেন হারুন। এর চারদিন পর সর্বশেষ ১৫ মে আবারও ১০ জনকে আসামি করে একই ঘটনায় দ্বিতীয় মামলা করেন একই ব্যক্তি।

সংবাদ সম্মেলনে মেম্বার মিজান উদ্দিন বলেছেন, ওই দুইটি মামলায় কাকতলীয়ভাবে আসামি করা হয়েছে, আমাকে এবং বিএমচর ইউনিয়ন যুবলীগের আরও তিনজন নেতাকর্মীকে। সাথে বাদি হারুনের প্রতিপক্ষ আলী আহমদ গংয়ের লোকজনকে।

এলাকাবাসি জানিয়েছেন, ইউপি মেম্বার মিজান উদ্দিন সমসময় জনগনের পাশে থেকে কল্যানমুলক কাজ করে যাচ্ছেন। তিনি বিচার বাণিজ্যের সঙ্গে জড়িত নন। রাজনীতি আর ব্যবসার পাশাপাশি এলাকায় বিভিন্ন ধমীয় প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে জড়িত। বর্তমানে তিনি সভাপতি পদে আছেন পশ্চিম বেতুয়ারকুল বাইতুল জন্নাত জামে মসজিদের। সদস্য চকরিয়া উপজেলা কমিনিউটি পুলিশিং কমিটির। সাবেক আহবায়ক ছিলেন বিএমচর ইউনিয়ন ছাত্রলীগের। ২০১৬ সালে সম্মেলনে ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত হন ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি পদে। সেই থেকে তিনি দায়িত্ব পালন করছেন সংগঠনটির। একইবছর তিনি বিএমচর ইউনিয়ন পরিষদের ৭ নং ওয়ার্ড থেকে জনগনের বিপুল ভোটে ইউপি সদস্য নির্বাচিত হন।

মেম্বার মিজান উদ্দিন আক্ষেপ করে বলেন, ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনে পরাজিত কতিপয় মহল আমাকে বারবার হয়রাণি করতে নানা ধরণের অপতৎপরতা চালিয়ে আসছে। মুলত জনগনের কাছে তাদের কোন জনপ্রিয়তা নেই। কিন্তু তাঁরা ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে আমাকে রুখতে চেষ্ঠা অব্যাহত রেখেছে। তাদের অপকর্ম ও চক্রান্তের মুলেই আমাকে দুইটি মামলায় আসামি করা হয়েছে। অথচ অতীতে আমার নামে কোন মামলা মোকাদ্দমা নেই।

চকরিয়া উপজেলা কমিউনিটি পুলিশিং কমিটির সদস্য হিসেবে এলাকার আইনশৃঙ্খলার উন্নয়ন ও সকল ধরণের অপরাধ নিমুর্লে আমি থানা পুলিশ ও মাতামুহুরী পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রকে সহযোগিতা করে যাচ্ছি। সেই কারণে কতিপয় মহলটির চক্ষুসুল হলাম সাজানো দুইটি মামলার মাধ্যমে। পরিশেষে আমি চকরিয়া-পেকুয়া আসনের সংসদ সদস্য ও চকরিয়া উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আলহাজ জাফর আলম এবং কক্সবাজার জেলার মান্যবর পুলিশ সুপার এবিএম মাসুদ হোসেন মহোদয়ের কাছে ন্যায় বিচার প্রার্থনা করছি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

Application to the Ministry of Information for registration.