করোনা যুদ্ধ: ইউএনও’র প্রশংসা কুতুবদিয়াবাসীর মুখে মুখে

এ.কে.এম রিদওয়ানুল করিমঃ

কুতুবদিয়ার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ জিয়াউল হক মীর এর নানা সুচিন্তিত বাস্তবমুখী ও কার্যকর পদক্ষেপের কারণে দ্বীপ উপজেলা কুতুবদিয়ার মানুষের মাঝে এখনো তেমন  করোনা সংক্রামক ব্যাপক বিস্তার ঘটেনি । নেই খাদ্যাভাবে কষ্ট পাওয়ার অভিযোগও। এক ইউএনওর নানামুখি তৎপরতায় সংশ্লিষ্ট সকলের সহযোগিতায় কুতুবদিয়াবাসী নিশ্চিন্তে ঘুমাতে পারছে। এ কারণে সর্বত্র প্রশংসা পাচ্ছেন ইউএনও মোঃ জিয়াউল হক মীর।
জিয়াউল হক মীর যার মন কাঁদে অসহায়ের জন্য। যিনি অনাহারী, কর্মহীন, ঘরবন্ধি মানুষের খোঁজ নেন বাড়ি বাড়ি গিয়ে। ক্ষুধার্তদের মুখে খাবার তুলে দিয়ে তিনি এখন কুতুবদিয়ার গরীব মেহনতি মানুষের পরম মিত্র হিসেবে পরিচিত।

ইউএনও জিয়াউল হক মীরকে চিনে না এমন কেউ নেই। গরীব মানুষের মুখে মুখে একটি কথা ইউএনও সাহেব খুব ভাল মানুষ।

সারা দেশে যখন করোনা দুর্যোগে জনজীবনে নেমে এসেছে দুর্ভোগ, অভাব-অনটন। এর থেকে কুতুবদিয়াবাসীকে রক্ষা করতে সরকারের নির্দেশনা মোতাবেক দিন-রাত অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন কুতুবদিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জিয়াউল হক মীর।

মোবাইলে ক্ষুদে বার্তা পেলেই গ্রামগঞ্জে অলিতে গলিতে খাবার নিয়ে কখনো নিজে ছুটে যান, আবার কখনো তার স্টাফ দিয়ে বাড়িতে খাবার পাঠিয়ে দিচ্ছেন ওই কর্মকর্তা।

সরেজমিনে দেখা যায়, সকাল থেকে সন্ধ্যা, সন্ধ্যা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত ইউএনও জিয়াউল হক মীর তার সরকারী গাড়িতে করে বাড়ি বাড়ি গিয়ে ত্রাণ পৌঁছে দিচ্ছেন। ত্রাণ পৌছে দেয়া এটা যেন স্বভাবে পরিনত হয়েছে। মানুষের কাছে না গেলে ওই কর্মকর্তার ঘুম হয় না। অসহায় মানুষকে খাবার দিতে পারলে আত্ম তৃপ্তি পান ওই কর্মকর্তা।

দিনের বেলায় যতক্ষণ অফিসে থাকেন, ওই সময়ে কখনও করোনা সচেতনতামূলক মিটিং, কখনো হাসপাতালের চিকিৎসা বিষয়ে মিটিং, কখনও অফিসে আগত অসহায় মানুষকে ত্রাণ বিতরণ, অফিসের বাইরে কখনও সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করার জন্য রাস্তায় টহল, কখনও কোয়ারেন্টাইন নিশ্চিত করার জন্য বাড়ি বাড়ি ও কোয়ারেন্টাইন সেন্টারে ছুটে যাওয়া, কখনও কুতুবদিয়ায় অবৈধ অনুপ্রবেশ ঠেকাতে অভিযান, করোনা সম্পর্কে জনগণকে সচেতন করার জন্য নানা উদ্যোগ গ্রহণ, দ্রব্যমূল্য স্থিতিশীল রাখতে কখনও বাজার মনিটরিং, প্রয়োজনে কখনও মোবাইল কোর্ট পরিচালনা, আবার সরকারি সহায়তা জনগণের বাড়ি বাড়ি পৌঁছানো নিশ্চিত করার জন্য নিরন্তর ছুটে চলাসহ করোনা মোকাবেলা সংক্রান্ত আরো নানা কাজে ব্যস্ত থাকেন ওই কর্মকর্তা।

 

ইউএনও তার নিজস্ব ফেসবুক আইডি uno kutubdia থেকে স্ট্যাটাস দিয়ে কুতুবদিয়াবাসীকে বলেন, ‘আপনারা বাড়িতে থাকেন। আমরা উপজেলা প্রশাসন আছি আপনাদের পাশে। আপনার খাবার দরকার আমরা আসছি আপনার বাড়িতে।

বর্তমান করোনাভাইরাস প্রতিরোধ পরিস্থিতিতে আপনি কর্মহীন হয়ে পড়েছেন, আপনার বাসায় খাবার সংকট থাকলে এবং সবার সামনে আপনি খাদ্য সহায়তা নিতে বিব্রতবোধ করলে অনুগ্রহ করে ফোন নম্বরে যোগাযোগ করুন। পরিচয় গোপন রেখে প্রধানমন্ত্রীর সহায়তা আপনার বাসায় পৌঁছে দেব।’

উপজেলার সকল ইউনিয়নের হত দরিদ্র , নিম্ন বিত্ত, নিম্ন মধ্য বিত্ত, কর্মহীন মধ্য বিত্ত, এমনকি বেডিবাঁধের পাশের সুবিধাবঞ্চিত চরম অসহায় পরিবারের মাঝে নিজে ত্রাণ পৌঁছে দেন ইউএনও।এভাবে প্রতিনিয়ত সুষ্ঠুভাবে চলছে তাঁর ত্রাণ বিতরণ।

লকডাউনের শুরু থেকেই তিনি সকাল, বিকাল, রাত যে কোন সময়েই কখনো সরকারি সহায়তা, আবার কখনো বেসরকারি সহায়তা ৬ টি ইউনিয়নববাসীর মাঝে পৌঁছে দিচ্ছেন। তার খাবার সহায়তা থেকে বাদ পড়েনি কেউই। কি দিনমজুর, কি নাপিত, কি ধোপা, কি কামার, কি রিক্সা চালক, কি টমটম চালক, কি জীপ গাড়ির চালক/হেলপার, অর্থাৎ সকল পরিবহন শ্রমিক, কি পান দোকানদার, কি ছোট চা দোকানদার, কি জেলে, কি প্রবাসীর অসহায় পরিবার, কি প্রতিবন্ধী, কি কিন্ডার গার্টেন স্কুলের শিক্ষক কর্মচারী, কি নন- এমপিও প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক কর্মচারী, কি ইমাম মুয়াজ্জিন, কি পুরোহিত, কি দোকানের কর্মচারী, কি পত্রিকার হকার পরিকল্পনা মাফিক লকডাউনের কারণে কর্মহীন অসহায় সকলের কাছেই পৌঁছে যাচ্ছে তার খাবার সহায়তা।
এ পর্যন্ত সরকারীভাবে প্রাপ্ত সহায়তায় ৮৪০০ অসহায়, হতদরিদ্র, কর্মহীন পরিবারের মাঝে উপজেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে খাদ্যসামগ্রী পৌঁছে দেওয়া হয়। উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে বেসরকারীভাবে প্রাপ্ত সহায়তায় এ পর্যন্ত ১৫০০ পরিবারের মাঝে বাড়ি বাড়ি খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করা হয়। ১২৫০ পরিবারের মাঝে শিশুদের পুষ্টি খাদ্য বিতরণ করা হয়েছে।
কুতুবদিয়ার বাহির থেকে অাগতদের ঠেকাতে মরিয়া হয়ে কাজ করছেন। রাত দিন পাহারা বসিয়েছেন হাট-বাজার, রাস্তাঘাট সর্বোপরি চ্যানেল পারাপারের জেটি গুলোতে। কঠোর হস্তে নিয়ন্ত্রণ করে আটক করেন চুরি করে রাতের অন্ধকারে বিভিন্ন ধরনের নৌযানে করে আগত মাঝি মাল্লাসহ যাত্রীদের। তিনি জিয়াউল হক মীর কাউকে প্রবেশ করতে দেননি। এ ক্ষেত্রে তিনি আপোষ করেননি মোটেও। অনেক মানুষকে হোম কোয়ারেন্টাইনে পাঠিয়েছেন, অনেককে আবার পাঠিয়েছেন প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনে। নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত কাউকে ছাড় দেননি। ৪০ জন আনসার, থানা পুলিশ, কোস্টগার্ড এবং নৌবাহিনীর সহযোগিতায় নিয়মিত তদারকি করছেন সবকিছু। তার সকল উদ্যোগ যাতে যথাসময়ে আরো কার্যকরভেবে বাস্তবায়ন করা যায় সেজন্য স্থানীয় আত্নপ্রত্যয়ী তরুনদের থেকে নিয়োজিত করেন ১৩০ জন স্বেচ্ছাসেবক। সংশ্লিষ্ট সকলকে নিয়ে তার কঠোর এবং সুসমন্বিত দায়িত্ব পালনের হেতু কুতুবদিয়াবাসীর মাঝে এখনো মহামারী করোনার তেমন বিস্তার ব্যাপকভাবে ঘটেনি। উপজেলা প্রশাসন কর্তৃক সংশ্লিষ্ট সকলকে নিয়ে নিয়মিত সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করা, বাজার মনিটরিং, যানবাহন নিয়ন্ত্রণ, কোয়ারেন্টাইন নিশ্চিত করা, কুতুবদিয়ায় অবৈধ অনুপ্রবেশ ঠেকানো, লকডাউন নিশ্চিত করার পাশাপাশি অসহায়দের মাঝে খাবার সরবরাহ নিশ্চিত করার কারণে কুতুবদিয়াবাসী করোনা ভাইরাস থেকে রক্ষা পেয়েছে বলে ধরে নিয়েছেন দ্বীপবাসী। ইউএনওর প্রশংসা করছে সচেতন মহল। কোথাও সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখছে না কিংবা বাজারে জিনিস পত্রের মূল্য বেশি রাখা অথবা ভেজাল দ্রব্য বিক্রি করার অভিযোগ পাওয়া মাত্র তড়িৎ ব্যবস্থা নিয়েছেন ইউএনও এবং সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মুহাম্মদ হেলাল চৌধুরী। সর্বোপরি ইউএনওর সুযোগ্য নেতৃত্ব, সুষ্ঠু সমন্বয়, নিয়মিত তদারকি, কঠোর পরিশ্রম ও সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়ে সকলের সহযোগিতায় তা বাস্তবায়নের কারণে দ্বীপ উপজেলার মানুষ স্বস্তিতে বসবাস করতে পারছে। এসব কারনে কুতুবদিয়ার অনেক অসহায় মানুষ ইউএনওর জন্য নামায পড়ে ও রোজা রেখে দোয়া করছেন।

কৈয়ারবিল ইউনিয়নের রফিকা বলেন, বাড়িতে কোন খাবার নেই। অামার ভাই ফোন করার ২০ /৩০ মিনিটের মধ্যে অনেকগুলো খাদ্য সামগ্রী নিয়ে আমার বাড়িতে ইউএনও স্যার চলে আসেন। অামি তো অবাক। খাবার পেয়ে আমি দুহাত তুলে স্যারের জন্য দোয়া করেছি। একজন সরকারি কর্মকর্তার এমন মানবিকতা দেখে আমাদের চোখে পানি এসে যায়।

একই ইউনিয়নের জালাল আহম্মদের স্ত্রী রুপিয়া বেগম বলেন, লোকজনের কাছে শুনেছি ইউএনওকে ফোন দিলে খাবার পাওয়া যাবে ভয়ে ভয়ে ফোন করেন। ফোন দেয়ার কিছুক্ষণের মধ্যে ইউএনও স্যার দ্রুত আমাদের মধ্যে ত্রাণ নিয়ে ছুটে আসেন। ত্রাণ পেয়ে তারা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং ইউএনও জিয়াউল হক মীরের জন্য দোয়া করেন।

(ইউএনওর প্রশংসা করে জনসাধারণের দেয়া  স্ট্যাটাস ফেসবুক থেকে সংগ্রহকৃত)
(ইউএনওর প্রশংসা করে জনসাধারণের স্ট্যাটাস ফেসবুক থেকে সংগ্রহ করা)

 

জানতে চাইলে ইউএনও বলেন, “বাংলাদেশে করোনা ভাইরাস সংক্রমণের শুরু থেকেই উপজেলা প্রশাসন সংশ্লিষ্ট সকলকে নিয়ে করোনা প্রতিরোধে সম্ভাব্য সকল উদ্যোগ গ্রহণ করে তার বাস্তবায়নে আপ্রাণ চেষ্টা করে যাচ্ছে। আমরা আমাদের জীবন বাজি রেখে করোনা মোকাবেলায় কাজ করে যাচ্ছি। সরকারি সকল নির্দেশনা বাস্তবায়নে আমরা সরকারি বেসরকারি সকল দপ্তরের কর্মকর্তা /কর্মচারী জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ, সুশীল সমাজ, গণমাধ্যমকর্মী সকলে কাজ করে যাচ্ছি। এবং মানুষ মানুষের জন্য এ মন্ত্রে উজ্জীবিত হয়ে করোনার কারণে কর্মহীন হয়ে পড়া বিভিন্ন অসহায় পরিবারের মাঝে উপজেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে সরকারি/ বেসরকারি সহায়তা বাড়ি বাড়ি পৌঁছে দিচ্ছি। সামনের দিনগুলোতে করোনা সংকট মোকাবিলায় সকলের সহযোগিতা কামনা করছি। সবাই ঘরে থাকুন, সুস্থ থাকুন, নিরাপদ থাকুন। আপনাদের পাশে আছে উপজেলা প্রশাসন। আমরা আমাদের সর্বশক্তি দিয়ে করোনা মোকাবেলায় কাজ করে যাব “।

 

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

Application to the Ministry of Information for registration.