চকরিয়ায় ২৬ বসতঘরে পরিকল্পিত অগ্নিকান্ড, গৃহবধু নিহত

 

এ.কে.এম রিদওয়ানুল করিম ঃ

কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার কৈয়ারবিল ইউনিয়নের মাতামুহুরী নদীতীরের খিলছাদক গ্রামে পরিকল্পিত অগ্নিকান্ড আইয়ামে জাহেলিয়াতের বর্বরতাকে হার মানিয়েছে। পাশ্ববর্তী বরইতলী ইউনিয়নের পহরচাঁদা গৌবিন্দপুর গ্রামের কিছু ভূমিদস্যু শতাধিক সশস্ত্র ভাড়াটিয়া সশস্ত্র বাহিনী নিয়ে ১৪ মে ভোর সকাল ৪.৩০ মিনিটের দিকে সেহেরি খাওয়ার পর পরই কৈয়ারবিল খিলছাদক গ্রামে নদীর পশ্চিম পাশের বসতভিটা এবং জায়গা দখল করার জন্য বসতবাড়িতে অগ্নিসংযোগ করে ২৬টি বসতবাড়ি সম্পূর্ণ আগুনে পুড়িয়ে দেয়। এসময় প্রায় কোটি টাকার গরু, ছাগল থেকে শুরু করে সবকিছু লুটপাট করে নিয়ে যায়। এমনকি অগ্নিকান্ডে দ্বগ্ধ হয়ে মনোয়ারা বেগম (৫৫) নামে এক গৃহবধু মর্মান্তিত ভাবে নিহত হয়েছেন। তিনি ওই গ্রামের মোজাহের আহমদের স্ত্রী। আহত হয়েছেন আরো ৩০ জন। তাদেরকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। তন্মধ্যে কয়েকজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়।

গ্রামবাসী জানায়, অগ্নিসংযোগকারীরা ভীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে অন্তত অর্ধশত রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোড়ে। এরপর ২৬টি বসতবাড়িতে একযোগে হামলা ও লুটপাট চালায়।

ক্ষতিগ্রস্ত গ্রামবাসীর অভিযোগ, দীর্ঘ কয়েকযুগ ধরে তাদের গ্রামের বিশাল একটি অংশ মাতামুহুরী নদীর ভাঙনের কবলে পড়ে নদীতে বিলিন হয়ে যায়। তবে কয়েকবছর ধরে নদীতে তলিয়ে যাওয়া সেই জায়গা দিনদিন জেগে উঠে। তারা সেই জায়গায় বসতি গড়ে তোলে। কিন্তু নদীর ওপার তথা পাশ্ববর্তী ইউনিয়ন বরইতলীর গোবিন্দপুর গ্রামের সশস্ত্র লোকজন এপারে এসে বার বার জেগে ওঠা জায়গা দখলে নেওয়ার চেষ্টা চালায়।

খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে যান কক্সবাজার ১ আসনের সংসদ সদস্য জাফর আলম, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সৈয়দ শামসুল তাবরীজ, থানার ওসি মো. হাবিবুর রহমান, উপজেলা ফায়ার সার্ভিস কর্মকর্তা মো. সাইফুল হাছান, বরইতলী ও কৈয়ারবিল ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান জালাল আহমদ সিকদার ও মক্কী ইকবাল হোসেন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। তাৎক্ষনিকভাবে এমপি জাফর আলম ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারে নিজের ২৬ বস্তা চাউল ও ৫২ বান্ডিল টিন এবং
উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ২৬বস্তা চাউল ও ৫২ বান্ডিল টিন পৌছে দেয়ার ঘোষনা দেন।

থানার ওসি মো. হাবিবুর রহমান ঘটনাস্থল থেকে জানান, কৈয়ারবিলের খিলছাদক অংশে মাতামুহুরী নদী সিকিস্তির জায়গার দখল নিতে এই নারকীয় তাণ্ডব চালিয়েছে পার্শ্ববর্তী ইউনিয়নের একদল গ্রামবাসী। যারা এই তাণ্ডবের ঘটনায় জড়িত রয়েছে তাদেরকে শনাক্তের চেষ্টা চলছে।

ঘটনার সময় এক নারী আগুনে পুড়ে মারা যাওয়াসহ অসংখ্য নারী-পুরুষ আহত হওয়ার সত্যতা নিশ্চিত করে ওসি বলেন, পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। যারাই এই অমানবিক ঘটনায় জড়িত থাকুক তাদেরকে কোনভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

Application to the Ministry of Information for registration.